অন্যায় ট্যাক্স ও মামলা বন্ধের দাবিতে চট্টগ্রামে অ্যাম্বুলেন্স চালকদের মানববন্ধন

মোহাম্মদ সোহেল চট্টগ্রাম

অ্যাম্বুলেন্স চালকরা বলেন, “আমরা মানুষ বাঁচাই, মামলা খাই।” সরকারি অন্যায় ট্যাক্স, অযৌক্তিক মামলা ও পার্কিং সংকটের প্রতিবাদে চট্টগ্রাম মেডিকেল অ্যাম্বুলেন্স চালক সমিতির উদ্যোগে চট্টগ্রামের নোয়াপাড়া বিআরটিসি কার্যালয়ের সামনে সোমবার সকাল ১০টায় মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় শত শত অ্যাম্বুলেন্স চালক, ড্রাইভার, মালিক ও প্রাইভেটকার চালকরা অংশ নেন। মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগ করেন—দেশের প্রতিটি দুর্যোগে অ্যাম্বুলেন্স চালকরা জীবনবাজি রেখে রোগীদের পাশে থেকেও আজ সবচেয়ে অবহেলিত ও বঞ্চিত শ্রেণিতে পরিণত হয়েছে।

চট্টগ্রাম অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতির সভাপতি মো. ইউসুফ বলেন, “এক বছর আগে আমরা প্রশাসনের কাছে পাঁচ দফা দাবি পেশ করেছিলাম। প্রশাসন আশ্বাস দিয়েছিল আমাদের সমস্যা সমাধান হবে, কিন্তু এক বছরেও কোনো দাবি বাস্তবায়িত হয়নি। উল্টো এখনো ট্রাফিক পুলিশ প্রায় প্রতিদিনই আমাদের অ্যাম্বুলেন্সে মামলা দিচ্ছে, যেন আমরা অপরাধী!”

তিনি আরও বলেন, “রোগী নিয়ে হাসপাতালে যাওয়ার পথে যদি ট্রাফিক মামলা খেতে হয়, সেটা মানবিকতার চরম লঙ্ঘন। আমরা সেবাদানকারী, অপরাধী নই।” সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ আমানুল্লাহ চৌধুরী বলেন, “একই আইনের আওতায় সরকারি ও বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সে ট্যাক্সের পার্থক্য কেন? ‘আঞ্জুমান মফিজুল ইসলাম’ অ্যাম্বুলেন্স থেকে ট্যাক্স নেওয়া হয় মাত্র ৫২ টাকা, অথচ আমাদের কাছ থেকে নেওয়া হচ্ছে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত। এটা চরম বৈষম্য ও অন্যায়।” তিনি আরও বলেন, “প্রতিদিন আমরা সেবা দেই, কিন্তু সরকার আমাদের কাছ থেকে শাস্তি নিচ্ছে। এই অন্যায্য ট্যাক্স প্রত্যাহার ও মামলা বন্ধ না হলে দেশজুড়ে কঠোর আন্দোলনের ডাক দেওয়া হবে।”

যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. হাসান বলেন, “করোনা মহামারী থেকে শুরু করে সাম্প্রতিক অগ্নিকাণ্ড—সব দুর্যোগে আমরা বিনা পারিশ্রমিকে সেবা দিয়েছি। প্রশাসন আমাদের পাশে থাকার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। তারা বলেছিল চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পাশে অ্যাম্বুলেন্স রাখার জন্য নির্দিষ্ট পার্কিং ব্যবস্থা করে দেবে। কিন্তু এক বছরেও সেই প্রতিশ্রুতি রক্ষা করা হয়নি।” বক্তারা জানান, প্রতিদিন রোগী পরিবহনের সময় ট্রাফিক পুলিশের অযথা মামলা ও টোল আদায়ে তারা চরম ভোগান্তিতে পড়ছেন। এর ফলে শুধু চালকরাই নয়, জরুরি সেবা পেতে আসা অসুস্থ রোগীরাও বিপাকে পড়ছেন।

তারা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান, “আমাদের দাবি মানবিক। আমাদের উপর অন্যায় মামলা ও ট্যাক্স বন্ধ করতে হবে, আর অবিলম্বে মেডিকেল এলাকার পাশে পার্কিং সুবিধা দিতে হবে।” বক্তারা আরও ঘোষণা দেন,
যদি দ্রুত তাদের পাঁচ দফা দাবি বাস্তবায়ন না হয়, তাহলে দেশের সকল অ্যাম্বুলেন্স চালক ও মালিকদের নিয়ে রাজধানী ঢাকায় বৃহত্তর কর্মসূচি দেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *