অবৈধ মাটি কাটায় ভেকু দুর্ঘটনা: মৃত্যুর সঙ্গে দুদিন লড়ে প্রাণ হারালেন সোহেল, এতিম চার সন্তান

স্টাফ রিপোর্টার:

 

কুমিল্লার বরুড়ায় অবৈধ মাটি কাটার সঙ্গে জড়িত ভেকুর দুর্ঘটনায় আরও একটি পরিবার চিরতরে নিঃস্ব হয়ে গেল। দুদিন মৃত্যুর সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে না ফেরার দেশে চলে গেলেন মোহাম্মদ সোহেল (৪৫)। আজ বৃহস্পতিবার (১৬ জানুয়ারি) সকালে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি মারা যান।
নিহত মোহাম্মদ সোহেল বরুড়া পৌরসভার কামেড্ডা গ্রামের মৃত ইদ্রিসের ছেলে। তিনি রেখে গেছেন চারটি অবুঝ শিশু—মো. সাইফুল ইসলাম (১২), হাবিবা (৮), মাইমুনা (৬) ও লামিয়া (৩)। বাবার স্নেহ-মমতা চিরদিনের জন্য হারিয়ে এই চার শিশু এখনও বুঝে উঠতে পারেনি, তাদের বাবা আর দুনিয়ায় নেই। এক মুহূর্তে অনিশ্চয়তায় ডুবে গেছে তাদের ভবিষ্যৎ।
জানা যায়, গত মঙ্গলবার (১৪ জানুয়ারি) গভীর রাতে বরুড়া পৌরসভার শালুকিয়া এলাকায় অবৈধভাবে মাটি কাটার সময় একটি ভেকুর হাইড্রোলিকের চাপে পড়ে ঘটনাস্থলেই আব্দুল মুনাফ নামে এক ব্যক্তি নিহত হন এবং গুরুতর আহত হন সোহেল। প্রথমে তাকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে অবস্থার অবনতি হলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রেফার করা হয়। সেখানে দুদিন মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ে বৃহস্পতিবার সকালে তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।
উল্লেখ্য, একই ঘটনায় ঘটনাস্থলেই নিহত হন আব্দুল মুনাফ। তিনিও বরুড়া পৌরসভার কামেড্ডা এলাকার বাসিন্দা। অর্থাৎ, এই অবৈধ মাটি কাটার বলি হয়ে একদিনেই দুটি পরিবার সর্বস্ব হারিয়েছে। এলাকাবাসীর প্রশ্ন—এই মর্মান্তিক ঘটনার দায়ভার এখন কে নেবে?
পর্যবেক্ষক মহলের মতে, বরুড়া উপজেলার সব অবৈধ মাটি খেকুদের তালিকা প্রস্তুত করে তাদের বিরুদ্ধে জরুরি ভিত্তিতে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া প্রয়োজন। যদিও গত ৭ জানুয়ারি ২০২৬ ভূমি মন্ত্রণালয় থেকে কৃষিজমির উপরিভাগের মাটি কর্তন, খনন ও ভরাট সংক্রান্ত একটি গেজেট জারি করা হয়েছে, তবু এখন পর্যন্ত তার আলোকে সারাদেশে দৃশ্যমান কোনো কার্যকর অভিযান দেখা যায়নি।
নিহত সোহেলের পরিবার ও স্থানীয়রা এই ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। তাদের ভাষায়, “আর যেন কোনো শিশুকে এভাবে এতিম হতে না হয়—সেজন্য অবৈধ মাটি কাটার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।”
এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় পুরো কামেড্ডা ও শালুকিয়া এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। অবৈধ লোভের কাছে মানুষের জীবনের মূল্য যেন বারবারই হার মানছে।

এ বিষয়ে কুমিল্লার বরুড়া থানার বর্তমান অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মুহাম্মদ আজহারুল ইসলামকে ফোনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি বলেন, “পোস্টমর্টেম করা হয়েছে, আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *