মোঃ ফেরদৌস হোসেন:
যমুনা রেল সেতু নির্মাণ প্রকল্পে কাজ করা ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এবিএস (ABS)-এর বিরুদ্ধে নতুন করে একাধিক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের (বিবিএ) জমির মাটি ব্যবহার, আইএইচআই (IHI) কোম্পানির লোহার স্ক্র্যাপ বিক্রি এবং প্রয়োজনীয় লাইসেন্স ছাড়া জনবল (ম্যানপাওয়ার) সরবরাহের অভিযোগকে কেন্দ্র করে প্রতিষ্ঠানটি আবারও আলোচনায় এসেছে।
অভিযোগে বলা হয়েছে, যমুনা রেল সেতু প্রকল্পের আওতায় আইএইচআই কোম্পানির বিপুল পরিমাণ লোহার স্ক্র্যাপ এবিএসের নামে গেটপাস করে সিরাজগঞ্জের বাইরে বিক্রি করা হয়েছে। এছাড়া চট্টগ্রামে স্ক্র্যাপ বিক্রির কথা বলে এবিএসের এক প্রশাসনিক ব্যবস্থাপক (এডমিন ম্যানেজার) এক ক্রেতার কাছ থেকে অগ্রিম অর্থ গ্রহণ করেন। পরে স্ক্র্যাপ সরবরাহ না করে ওই অর্থ আত্মসাতের অভিযোগও উঠেছে।
এদিকে, বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পে বৈধ ম্যানপাওয়ার লাইসেন্স ছাড়াই শ্রমিক সরবরাহ করার অভিযোগও রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে। সংশ্লিষ্টদের দাবি, প্রয়োজনীয় লাইসেন্স না থাকা সত্ত্বেও দীর্ঘদিন ধরে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে জনবল সরবরাহ করে আসছে এবিএস।
অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে এবিএসের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোঃ আব্দুর রহমানের সঙ্গে একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে এবিএসের ব্যবস্থাপক মোঃ বাশার বলেন, প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ম্যানপাওয়ার লাইসেন্স না থাকলেও পারস্পরিক সমঝোতার ভিত্তিতে জনবল সরবরাহ করা হয়েছে।
এর আগে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে অভিযোগ করা হয়, যমুনা রেল সেতু নির্মাণ প্রকল্পে লেক ভরাটের জন্য টেন্ডারের শর্ত অনুযায়ী বাইরে থেকে মাটি সংগ্রহ না করে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের (বিবিএ) মালিকানাধীন জমি থেকে ড্রেজিংয়ের মাধ্যমে মাটি কেটে ব্যবহার করা হয়েছে। এতে সরকারি সম্পদের ক্ষতির পাশাপাশি আশপাশের কৃষিজমিও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।
স্থানীয়রা অভিযোগগুলোর নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।