নিজস্ব প্রতিবেদক:
বাংলাদেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, দেশে ভালো-মন্দ সব ধরনের মানুষ রয়েছে। কিছু মানুষ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটালেও সরকার আইন সবার জন্য সমানভাবে প্রয়োগ করতে সর্বশক্তি দিয়ে কাজ করবে।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৩টায় ফেনীর পরশুরামের ঘাটঘর মুহুরী ব্রিজ এলাকায় ‘মুহুরী-কহুয়া বন্যা নিয়ন্ত্রণ, নিষ্কাশন ও সেচ প্রকল্পের পুনর্বাসন’ প্রকল্প উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত জনসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ ২০ কোটি মানুষের দেশ। এখানে ভালো-মন্দ সব ধরনের মানুষ রয়েছে। কিছু কিছু মানুষ অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটাচ্ছে। তবে দেশের মানুষ বিএনপিকে দায়িত্ব দিয়েছে। তাই সর্বশক্তি দিয়ে বিএনপি প্রমাণ করবে, আইন সবার জন্য সমান এবং দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে।
দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে আইনের শাসন ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে। বর্তমান সরকার সেই পরিস্থিতি পরিবর্তন করে ধীরে ধীরে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চায়। তবে কিছু অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনাকে কেন্দ্র করে কিছু রাজনৈতিক দল অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জামায়াতে ইসলামীর নাম উল্লেখ না করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি রাজনৈতিক দলের নেতারা সরকারকে বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ দিচ্ছেন। তাদের নিজেদের ঘরের দিকে নজর দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ওই দলের কিছু সদস্যের বিরুদ্ধে নারীদের ওপর নির্যাতনের অভিযোগ রয়েছে এবং বিষয়টি তদন্তাধীন। এ কারণে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে চান না বলেও জানান।
তিনি আরও বলেন, ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে একটি রাজনৈতিক দল মানুষকে বিভ্রান্ত করে কিছু আসনে জয় পেয়েছে। এরপর তারা নিজেদের প্রভাবকে অতিরঞ্জিতভাবে দেখছে বলেও মন্তব্য করেন প্রধানমন্ত্রী। ১৯৭১ সালে তাদের ভূমিকা এবং পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের প্রসঙ্গও তিনি তুলে ধরেন।
ফেনীতে বিএনপির নেতা-কর্মীদের ওপর দীর্ঘদিন ধরে গুম, খুন ও নির্যাতনের অভিযোগ তুলে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এখন দেশের গণতান্ত্রিক ধারাকে অব্যাহত রাখার সময় এসেছে। একই সঙ্গে অরাজকতা ও ষড়যন্ত্রের বিরুদ্ধে রাজনৈতিকভাবে জবাব দেওয়ার কথাও বলেন তিনি।
মুহুরী ও কহুয়া নদীর পুনঃখনন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুই থেকে আড়াই বছর আগে এ এলাকায় বড় ধরনের বন্যা হয়েছিল। ওই সময় মুহুরী ব্রিজের ওপর দিয়েও পানি প্রবাহিত হয়েছিল। ভবিষ্যতে এ ধরনের বন্যা প্রতিরোধের লক্ষ্যেই প্রকল্পটি নেওয়া হয়েছে। এটি নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির অংশ বলেও জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, খাল ও নদী খনন কর্মসূচি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান শুরু করেছিলেন। বিএনপি দেশের মানুষের জন্য রাজনীতি করে বলেই এ ধরনের কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এলাকার প্রায় চার থেকে সাড়ে চার লাখ মানুষ সরাসরি উপকৃত হবে। প্রায় ৩৪ হাজার হেক্টর জমিতে সেচসুবিধা তৈরি করা সম্ভব হবে এবং ফসলের উৎপাদন প্রায় এক লাখ মেট্রিক টন বাড়বে বলেও জানান তিনি।
কৃষকদের জন্য সরকারের বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সরকার কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত কৃষিঋণ মওকুফ করেছে। এতে সরকারের প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে এবং দেশের প্রায় ১৩ লাখ কৃষক উপকৃত হয়েছেন।
তিনি জানান, দেশের প্রতিটি পরিবারের মায়েদের কাছে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে খেটে খাওয়া পরিবারের নারীদের ধীরে ধীরে স্বাবলম্বী করে গড়ে তোলার লক্ষ্য রয়েছে। একইভাবে কৃষকদেরও ‘কৃষি কার্ড’ দেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
স্বাস্থ্যসেবা প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে দেশের প্রতিটি উপজেলা হাসপাতালকে ৫০ থেকে ১৫০ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে চিকিৎসা, ডায়ালাইসিস, শিশু ও মাতৃসেবা সহজলভ্য করার লক্ষ্য রয়েছে।
এর আগে দুপুরে নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথমবারের মতো ফেনী সফরে যান প্রধানমন্ত্রী। পরে পরশুরাম থেকে ফুলগাজী উপজেলার বেগম খালেদা জিয়া মহিলা কলেজে যান তিনি। সেখানে কলেজ প্রাঙ্গণে বৃক্ষরোপণ করেন এবং শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দিকনির্দেশনামূলক কথা বলেন। শিক্ষার্থীরা ভালো ফলাফল করলে কলেজটিকে জাতীয়করণের আশ্বাসও দেন প্রধানমন্ত্রী।
জনসভায় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আবদুল আউয়াল মিন্টু, পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি, গণপূর্তমন্ত্রী জাকারিয়া তাহের, স্থানীয় সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম মজনু, পরশুরাম উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আবদুল হালিমসহ স্থানীয় নেতারা বক্তব্য দেন।