মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী:
আড়াইহাজার থানা পুলিশ ও সেনাবাহিনীর যৌথ অভিযানে বিপুল পরিমাণ অস্ত্র, গুলি, ককটেল, দেশীয় অস্ত্র, মাদকদ্রব্য এবং মাদক বিক্রির নগদ ১৬ লাখ ৯০ হাজার টাকাসহ চারজন মাদক কারবারিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযানে উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও মাদকের পরিমাণ দেখে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, সোমবার (১২ জানুয়ারি ২০২৬) দিবাগত রাত আনুমানিক ৪টা ৪০ মিনিটে আড়াইহাজার থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আলাউদ্দিনের দিকনির্দেশনায় সেনাবাহিনীর সহযোগিতায় আড়াইহাজার থানাধীন হাইজাদি ইউনিয়নের ভিটি কামালদী (মুন্সিরপুর) এলাকার মো. নাঈমের বসতবাড়িতে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে সন্দেহভাজন চারজনকে আটক করা হয়।
আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে তাদের পরিচয় পাওয়া যায়—
১) মো. সুজন (৩০), পিতা-আব্দুল মতিন,
২) রুবেল ভূঁইয়া (৩৫), পিতা-মো. আরজু ভূঁইয়া,
৩) রুনা বেগম (৩৮), স্বামী-মো. নাঈম,
৪) মো. নাঈম (৪২), পিতা-শহিদুল ওরফে শহিদুল্লাহ মিয়া।
তাদের সবার বাড়ি আড়াইহাজার থানাধীন হাইজাদি ইউনিয়নের ভিটি কামালদী (মুন্সিরপুর) এলাকায় বলে জানা গেছে।
প্রাথমিক তল্লাশিতে তাদের হেফাজত থেকে ১০৫ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট, ১৬ পুরিয়া হেরোইন, একটি বিয়ারের ক্যান, একটি প্লাস্টিকের বোতলে আনুমানিক ১৫০ গ্রাম মদ, মাদক বিক্রির নগদ ১৬ লাখ ৯০ হাজার টাকা এবং ৬টি টালি খাতা উদ্ধার করা হয়। উদ্ধারকৃত সব আলামত বিধি মোতাবেক জব্দ করা হয়।
পরে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে মূল আসামি মো. নাঈম স্বীকার করেন যে, তার বসতবাড়িতে অস্ত্র, গুলি ও বিস্ফোরকজাতীয় ককটেল লুকানো রয়েছে। তার দেওয়া তথ্যমতে পুলিশ ও সেনাবাহিনীর যৌথ টিম পুনরায় তল্লাশি চালিয়ে বাড়ির রান্নাঘরে চালের ড্রামের ভেতর থেকে দুটি পিস্তল, তিন রাউন্ড গুলি, একটি গুলির খোসা, দুটি ম্যাগাজিন, ১০টি ককটেল, একটি দা, একটি ধারালো চাকু, একটি ছুরি এবং একটি ধারালো চাপাতি উদ্ধার করে।
পুলিশের ভাষ্যমতে, উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও বিস্ফোরক থেকে ধারণা করা হচ্ছে—গ্রেপ্তারকৃতরা শুধু মাদক কারবারেই নয়, সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের সঙ্গেও জড়িত থাকতে পারে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।
এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের বিরুদ্ধে আড়াইহাজার থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, অস্ত্র আইন ও বিস্ফোরক দ্রব্য আইন অনুযায়ী পৃথক পৃথক মামলা রুজু করা হয়েছে। পরবর্তীতে আসামিদের বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়।
এ বিষয়ে আড়াইহাজার থানা পুলিশ জানায়, মাদক ও অস্ত্রের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। এলাকায় মাদক নির্মূল ও অপরাধ দমনে এ ধরনের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।
অভিযানের পর স্থানীয়দের মধ্যে স্বস্তি ফিরলেও তারা দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন, যাতে ভবিষ্যতে কেউ মাদক ও অস্ত্রের কারবারে জড়ানোর সাহস না পায়।