কামরুল ইসলাম:
চট্টগ্রামের আনোয়ারা থানা এলাকায় টোকেন বাণিজ্য ও ঘুষ লেনদেনকে কেন্দ্র করে দুই পুলিশ সদস্যকে ঘিরে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে আনোয়ারা থানার ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টি আই) আজাদের বিরুদ্ধে অবৈধ টোকেন বাণিজ্যের মাধ্যমে বিপুল অর্থ উপার্জনের অভিযোগ উঠে আসছে। অভিযোগের ভিত্তিতে একাধিকবার বদলি করা হলেও রাজনৈতিক ও প্রভাবশালী মহলের তদবিরে তিনি দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থেকে যান বলে স্থানীয় সূত্র দাবি করেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ অনুযায়ী, আনোয়ারা থানা এলাকার বিভিন্ন সিএনজি, পণ্যবাহী ও অন্যান্য যানবাহন থেকে মাসিক ভিত্তিতে টোকেনের মাধ্যমে বিপুল অঙ্কের অর্থ আদায় করা হতো। অভিযোগকারীদের দাবি, এই অবৈধ আয়ের একটি অংশ বিভিন্ন পর্যায়ে উপরস্থ মহলেও পৌঁছাতো।
অবশেষে প্রায় এক মাস আগে পুনরায় বদলি করা হয় টি আই আজাদকে। তবে স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, বদলির পরও বিভিন্ন প্রক্রিয়ায় তিনি এক মাস পর্যন্ত একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করেন। পরবর্তীতে শেষ পর্যন্ত তাকে বদলি কার্যকর করা হয়।
এদিকে টি আই আজাদের স্থলাভিষিক্ত হয়ে দোহাজারী থেকে আনোয়ারা থানায় যোগদান করেন সার্জেন্ট মোজাম্মেল। তার বিরুদ্ধেও ঘুষ বাণিজ্যের একাধিক অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রের দাবি, দোহাজারীতে কর্মরত থাকাকালীন সময়ে তিনি বিভিন্ন পরিবহন মালিক ও চালকদের কাছ থেকে ঘুষ আদায় করতেন এবং লক্ষ লক্ষ টাকার অবৈধ লেনদেনের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
অভিযোগ রয়েছে, চন্দনাইশ ও দোহাজারী এলাকায় টোকেন বাণিজ্যের বিরুদ্ধে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃত্বের কঠোর অবস্থানের পর মোজাম্মেল কৌশলে বদলি নিয়ে আনোয়ারায় যোগ দেন। এরপর তিনি পূর্বের মতোই আবারও অবৈধ অর্থ আদায়ের কার্যক্রম শুরু করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ বিষয়ে স্থানীয় পরিবহন শ্রমিক ও মালিকপক্ষের একাধিক সদস্য অভিযোগ করে বলেন, টি আই আজাদের সময় পরিস্থিতি তুলনামূলকভাবে নিয়ন্ত্রণে ছিল। তবে সার্জেন্ট মোজাম্মেলের যোগদানের পর থেকে পরিবহন খাত আরও বেশি হয়রানি ও চাপের মুখে পড়েছে।
তারা আরও বলেন, অবৈধ টোকেন বাণিজ্য বন্ধে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ প্রয়োজন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে টি আই আজাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি। অন্যদিকে সার্জেন্ট মোজাম্মেল অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।”
এদিকে পুরো বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় পরিবহন মহলে চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগ বিরাজ করছে। তারা দ্রুত তদন্ত করে প্রকৃত সত্য উদঘাটনের দাবি জানিয়েছেন।