আন্তর্জাতিক ডেস্ক: মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরও বাড়িয়ে আগামী চার সপ্তাহ ইরানের ওপর হামলা অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, ওয়াশিংটন ইরানের বিরুদ্ধে ‘খুব কঠোরভাবে’ সামরিক অভিযান চালিয়ে যাবে।
মন্ত্রিসভার বৈঠকে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, “এক পর্যায়ে তারা বলবে, আমরা আর এটা সহ্য করতে পারছি না।” তার এই মন্তব্য নতুন করে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
অন্যদিকে, গাজা ইস্যুতেও বড় ধরনের অগ্রগতির দাবি করেছেন ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) রাতে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যাল-এ এক পোস্টে তিনি জানান, ‘বোর্ড অব পিস’ হামাস এবং গাজার অন্যান্য সব সশস্ত্র গোষ্ঠীর সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ নিয়ে একটি ‘ঐতিহাসিক’ চুক্তিতে পৌঁছেছে।
ট্রাম্পের ভাষায়, “এটি স্থায়ী শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার পথে একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।”
হোয়াইট হাউসের বোর্ড অব পিস–এর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা জানান, কয়েক মাস ধরে অত্যন্ত সতর্ক ও সংবেদনশীল আলোচনা শেষে এই অগ্রগতি সম্ভব হয়েছে। হামাসের বিভিন্ন উদ্বেগ ও আপত্তি নিয়ে দীর্ঘ আলোচনার পর সমঝোতার ভিত্তি তৈরি হয়। তাদের আশা, আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই চুক্তি বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া শুরু হবে।
কর্মকর্তারা আরও জানান, এ বিষয়ে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। পরিকল্পনার অন্যতম লক্ষ্য হলো হামাসের কাছে সরাসরি অর্থায়নের পথ বন্ধ করা এবং গাজায় একটি কার্যকর প্রশাসনিক কাঠামো গড়ে তোলা।
এ লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বাহিনীর জন্য অর্থ সংগ্রহ, সদস্য নিয়োগ এবং হামাসের পরিবর্তে দায়িত্ব নেওয়ার জন্য স্থানীয় ফিলিস্তিনি বাহিনীকে প্রশিক্ষণ দেওয়ার উদ্যোগও চলছে বলে দাবি করা হয়েছে।
তবে ট্রাম্প প্রশাসনের এই দাবির বিষয়ে হামাস কিংবা ইরানের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি। ফলে ঘোষিত পরিকল্পনা বাস্তবে কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনা ও অনিশ্চয়তা অব্যাহত রয়েছে।