আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) ২৭ সেপ্টেম্বরের বিক্ষোভ ও ইসলামাবাদমুখী মিছিলকে কেন্দ্র করে রাজধানীতে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতে কনটেইনার ও ব্যারিকেড বসিয়ে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে এবং বিপুলসংখ্যক নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।
পিটিআই জানিয়েছে, ইমরান খানের মুক্তি, সংবিধানের প্রাধান্য এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার দাবিতে ২৭ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচি তারা চালিয়ে যাবে। অন্যদিকে পাকিস্তান সরকার জানিয়েছে, রাজধানীর সড়ক দখল করে জনজীবন ব্যাহত করার সুযোগ দেওয়া হবে না।
বিক্ষোভকে কেন্দ্র করে ইসলামাবাদের প্রধান প্রবেশপথ ও গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কে কনটেইনার বসানো হয়েছে। ইসলামাবাদ-পেশাওয়ার মহাসড়কসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল বন্ধ বা সীমিত করা হয়েছে। এর ফলে রাজধানীর সঙ্গে আশপাশের এলাকার যোগাযোগেও ব্যাপক প্রভাব পড়েছে।
রাজধানীতে ২২ হাজারের বেশি নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েনের প্রস্তুতির কথা জানিয়েছে বিভিন্ন সূত্র। পাশাপাশি ইসলামাবাদে দুই মাসের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে, যার আওতায় পাঁচ বা তার বেশি মানুষের সমাবেশ এবং জনসমাগমস্থলে র্যালি ও বিক্ষোভের ওপর বিধিনিষেধ রয়েছে।
এদিকে বিক্ষোভের আগে ইমরান খানের তিন বোন আলিমা খান, উজমা খান ও নোরিন নিয়াজিকে আটক করা হয়েছে। ডন ও অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের তথ্য অনুযায়ী, তাদের ৩০ দিনের জন্য প্রশাসনিক হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। পিটিআইয়ের আরও কয়েকজন নেতা-কর্মীকেও আটক করা হয়েছে বলে দলটি জানিয়েছে।
আলিমা খানকে ২০ সেপ্টেম্বর লাহোরে আটক করা হয়। পরদিন উজমা খান ও নোরিন নিয়াজিকেও হেফাজতে নেওয়া হয়। তাদের আটকের আদেশের বিরুদ্ধে লাহোর হাইকোর্টে আবেদন করা হয়েছে।
অন্যদিকে, মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ইমরান খানের পরিবারের সদস্য ও পিটিআই নেতা-কর্মীদের আটকের সমালোচনা করেছে। সংস্থাটি বলেছে, শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকারকে সম্মান করা উচিত। তবে পাকিস্তান সরকার জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের প্রয়োজনীয়তার কথা বলছে।
পিটিআইয়ের কর্মসূচিকে ঘিরে ইসলামাবাদে নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি পাঞ্জাবের বিভিন্ন এলাকাতেও অতিরিক্ত নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলো বন্ধ থাকায় সাধারণ মানুষের চলাচল ও পণ্য পরিবহনেও প্রভাব পড়ছে বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইমরান খান ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাগারে রয়েছেন। তার মুক্তির দাবিতে পিটিআই নিয়মিতভাবে রাজনৈতিক কর্মসূচি পালন করে আসছে। ২৭ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে এবার পাকিস্তানের রাজধানীতে নতুন করে রাজনৈতিক উত্তেজনা তৈরি হয়েছে।