ইয়ামালের জাদুতে গালাতাসারাইকে উড়িয়ে দিল বার্সেলোনা

ক্রীড়া ডেস্ক:

তরুণ তারকা লামিন ইয়ামালের দুর্দান্ত নৈপুণ্যে উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে বড় জয় পেয়েছে বার্সেলোনা। মঙ্গলবার দিবাগত রাতে ইস্তাম্বুলের আলি সামি ইয়েন স্টেডিয়ামে স্বাগতিক গালাতাসারাইকে ৪-১ গোলে হারিয়েছে কাতালান ক্লাবটি। প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়লেও বিরতির পর দুর্দান্তভাবে ঘুরে দাঁড়িয়ে জয় নিশ্চিত করে বার্সেলোনা।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগে দুই রাউন্ড শেষে টানা দুই জয়ে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে উঠে এসেছে বার্সেলোনা। অন্যদিকে, টানা দুই ম্যাচে পয়েন্ট হারিয়ে তালিকার নিচের দিকে রয়েছে গালাতাসারাই।

প্রথমার্ধে পিছিয়ে বার্সেলোনা

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে বার্সেলোনা। তবে ডান প্রান্তে ইয়ামালকে কড়া পাহারায় রাখে গালাতাসারাইয়ের রক্ষণভাগ। ফলে বাম প্রান্ত দিয়ে বেশি আক্রমণ গড়ে তোলে সফরকারীরা।

২৭ মিনিটে এগিয়ে যায় গালাতাসারাই। রাফায়েল লেয়াওয়ের বাড়ানো বল পেয়ে আলেক্সেই বাতরাকভ শট নেন। বলটি বার্সেলোনার জোয়াও কানসেলোর গায়ে লেগে দিক পরিবর্তন করে জালে জড়ায়।

গোলের পর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে স্বাগতিকরা। কর্নার থেকে ভিক্টর ওসিমেন হেডে বল জালে পাঠালেও অফসাইডের কারণে গোলটি বাতিল হয়।

পরে ম্যাচে ফেরার চেষ্টা জোরদার করে বার্সেলোনা। বক্সের সামনে বলের নিয়ন্ত্রণ হারান গালাতাসারাইয়ের ডিফেন্ডার ডেভিনসন সানচেজ। সুযোগ কাজে লাগিয়ে দানি ওলমোর পাস থেকে গোল করে বার্সেলোনাকে সমতায় ফেরান জোয়াও কানসেলো।

বিরতির পর ইয়ামালের নৈপুণ্য

দ্বিতীয়ার্ধের শুরু থেকেই ম্যাচের চিত্র বদলে দিতে ভূমিকা রাখেন ইয়ামাল। ৫০ মিনিটে তাঁর দারুণ ক্রস থেকে হেডে গোল করে বার্সেলোনাকে এগিয়ে দেন ফারমিন লোপেজ।

এর তিন মিনিট পর আবারও নিজের দক্ষতার প্রমাণ দেন ইয়ামাল। অল্প জায়গার মধ্যে তুরস্কের আন্তর্জাতিক ফুটবলার এরেন এলমালিকে কৌশলে পরাস্ত করে বল বাড়িয়ে দেন সতীর্থের উদ্দেশে। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে গোল করেন ইংলিশ ফরোয়ার্ড অ্যান্থনি গর্ডন। এতে ব্যবধান আরও বাড়ে বার্সেলোনার।

৬৫ মিনিটে ডান প্রান্ত দিয়ে ভেতরে ঢুকে ইয়ামাল পাস দেন বদলি হিসেবে নামা গ্যাব্রিয়েল জেসুসকে। তিনি বল নিয়ন্ত্রণে নিতে না পারলেও সেটি চলে যায় করিম আদেয়েমির কাছে। জোরালো শটে গোল করে বার্সেলোনার জয় নিশ্চিত করেন আদেয়েমি।

এর তিন মিনিট পর গোল করার সুযোগ পেয়েছিলেন ইয়ামালও। আলগা বলের নিয়ন্ত্রণ নিতে দ্রুত এগিয়ে গিয়ে শট নিলেও সেটি ক্রসবারের ওপর দিয়ে চলে যায়।

গোল না পেলেও আলোচনায় ইয়ামাল

১৯ বছর বয়সী ইয়ামাল নিজে গোল করতে না পারলেও পুরো ম্যাচে তাঁর নৈপুণ্য নজর কেড়েছে। সতীর্থদের গোলের সুযোগ তৈরি করে দেওয়া এবং আক্রমণে গতি বাড়ানোর মাধ্যমে দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন তিনি।

চ্যাম্পিয়ন্স লিগে কিশোর বয়সে সর্বোচ্চ গোলের রেকর্ডধারী কিলিয়ান এমবাপ্পের আরও কাছে যাওয়ার সুযোগ থাকলেও এ ম্যাচে গোলের দেখা পাননি ইয়ামাল।

তবে বার্সেলোনার নেতৃত্বে তাঁর গুরুত্ব আরও একবার স্পষ্ট হয়েছে। আগের রাউন্ডে ক্লাবটির ইতিহাসে সবচেয়ে কম বয়সী অধিনায়ক হওয়ার পর এ ম্যাচেও পেদ্রি মাঠ ছাড়লে অধিনায়কের আর্মব্যান্ড পরেন ইয়ামাল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *