নিজস্ব প্রতিবেদক:
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় সাভারে আসহাবুল ইয়ামিন হত্যার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় সাবেক সংসদ সদস্য সাইফুল ইসলামসহ ১৯ আসামির বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের শুনানি পিছিয়ে আগামী ১৮ অক্টোবর দিন ধার্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) ট্রাইব্যুনাল-২-এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন দুই সদস্যের বিচারিক প্যানেল এ আদেশ দেন। প্যানেলের অপর সদস্য বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর।
এদিন মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির জন্য দিন ধার্য ছিল। তবে প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে এক মাস সময় চাওয়া হলে আদালত আগামী ১৮ অক্টোবর শুনানির নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন। প্রসিকিউটর জহিরুল আমিন বিষয়টি জানান। এ সময় প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ, সহিদুল ইসলাম সরদার, মামুনুর রশিদ ও মঈনুল করিমসহ অন্যরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিন সকালে মামলায় গ্রেপ্তার ছয় আসামিকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করা হয়। তারা হলেন—ঢাকা জেলার সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. আব্দুল্লাহিল কাফী, সাবেক অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) মো. শাহিদুল ইসলাম, এএসআই মোহাম্মদ আলী, নায়েক সুহেল মিয়া, কনস্টেবল মাহফুজ মিয়া ও মিজানুর রহমান।
এর আগে গত ৭ সেপ্টেম্বর মামলার পলাতক ১৩ আসামির পক্ষে স্টেট ডিফেন্স আইনজীবী নিয়োগের আদেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। একই সঙ্গে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে ২৩ সেপ্টেম্বর শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছিল।
সাইফুল ইসলাম ছাড়া মামলার পলাতক অন্য আসামিরা হলেন—ঢাকা রেঞ্জের সাবেক ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম, সাবেক পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান রিপন, সাভার থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহজামান, আশুলিয়া থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এএফএম সায়েদ, সাভার উপজেলা সাবেক চেয়ারম্যান মঞ্জুরুল আলম রাজিব, মো. আতিকুর রহমান, ফখরুল আলম সমর, মেহেদী হাসান তুষার, রাজু আহম্মেদ, মো. ফরিদ, জামান খান ও শরীফ আশরাফুল আলম বাবুল।
গত ২৬ জুলাই ১৯ আসামির বিরুদ্ধে প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল-২।
প্রসিকিউশনের অভিযোগ অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১৮ জুলাই সাভার বাজার বাসস্ট্যান্ডে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে হামলা চালানো হয়। এ সময় আসহাবুল ইয়ামিনকে ধরে পুলিশের একটি সাঁজোয়া যানের কাছে নিয়ে যাওয়া হয় এবং দুপুর সাড়ে ১টার দিকে তাঁর বুকের বাঁ পাশে গুলি করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
অভিযোগে আরও বলা হয়েছে, গুলিবিদ্ধ ইয়ামিনকে সাঁজোয়া যানের ওপরে তুলে রেখে আন্দোলনরত ছাত্র-জনতাকে ভীতি প্রদর্শনের জন্য গাড়িটি চলাচল করানো হয়। পরে তাঁকে রাস্তায় ফেলে দেওয়া হয়। একপর্যায়ে সাঁজোয়া যানের ভেতর থেকে এক পুলিশ সদস্যকে বের করে ইয়ামিনের পায়ে গুলি করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল বলেও প্রসিকিউশনের অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
তবে ওই পুলিশ সদস্য ইয়ামিনকে মৃত মনে করে পায়ে গুলি না করে তাঁকে রাস্তার একপ্রান্ত থেকে অন্যপ্রান্তে টেনে নিয়ে সড়ক বিভাজকের পাশে ফেলে দেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।আগামী ১৮ অক্টোবর মামলাটির আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।