ইরান সীমান্ত থেকে হাজার কিলোমিটার দূরে ‘পালিয়েছে’ মার্কিন বাহিনী , দাবি আইআরজিসির

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

ইরানের সীমান্ত থেকে মার্কিন সামরিক বাহিনী এক হাজার কিলোমিটারের বেশি দূরে সরে গেছে বলে দাবি করেছেন ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) জ্যেষ্ঠ কমান্ডার রিয়ার অ্যাডমিরাল আলী ফাদাবি। তাঁর দাবি, ইরানের প্রতিরোধের মুখে যুক্তরাষ্ট্রকে ওই এলাকা থেকে নিজেদের বাহিনী সরিয়ে নিতে হয়েছে।

রোববার ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ফাদাবি বলেন, মার্কিন বাহিনী ইরানের সীমান্ত থেকে এক হাজার কিলোমিটারের বেশি দূরে অবস্থান নিয়েছে। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এটি যুক্তরাষ্ট্রের স্বেচ্ছায় নেওয়া কোনো সিদ্ধান্ত নয়; বরং ইরান ও আইআরজিসির সামরিক সক্ষমতার কারণে তাদের পিছু হটতে হয়েছে।

ফাদাবি আরও দাবি করেন, বর্তমানে পারস্য উপসাগর, হরমুজ প্রণালী, ওমান সাগর কিংবা উত্তর ভারত মহাসাগরে কোনো মার্কিন নৌযান নেই। তাঁর বক্তব্য, ইরানের জলসীমার কাছাকাছি অবস্থান নেওয়ার ক্ষেত্রে মার্কিন নৌবাহিনী এখন আগের মতো সক্ষম অবস্থানে নেই।

আইআরজিসির এই কমান্ডার দাবি করেন, মার্কিন যুদ্ধজাহাজগুলো ইরানের হামলার ক্ষেত্রে ‘শতভাগ অরক্ষিত’। একই সঙ্গে হরমুজ প্রণালিতে নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।

তবে মার্কিন সামরিক বাহিনী ইরানের বন্দর ও উপকূলীয় এলাকায় নৌ অবরোধ কার্যক্রম চালানোর কথা আগেই জানিয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) ১৩ জুলাই জানায়, ইরানের বন্দরে যাওয়া-আসা করা সামুদ্রিক বাণিজ্যিক যান চলাচলের ওপর নৌ অবরোধ পুনরায় কার্যকর করা হয়েছে।

সেন্টকমের তথ্য অনুযায়ী, এর আগে এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত অবরোধ কার্যকরের সময়ে ১৪০টির বেশি বাণিজ্যিক জাহাজের গতিপথ পরিবর্তন করা হয়েছিল এবং নয়টি জাহাজকে অচল করা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে জুলাইয়েও ইরানের দিকে যাওয়া বাণিজ্যিক জাহাজের বিরুদ্ধে একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

ফাদাবির বক্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এলো, যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা অব্যাহত রয়েছে। এর আগে ইরান জানিয়েছে, নির্দিষ্ট কয়েকটি শর্ত পূরণ না হওয়া পর্যন্ত হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়া হবে না।

মার্কিন বাহিনীর অবস্থান সম্পর্কে আইআরজিসি কমান্ডারের এক হাজার কিলোমিটার সরে যাওয়ার দাবি স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়ার তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে এটি আপাতত ইরানি সামরিক কর্মকর্তার বক্তব্য হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *