ইরানের ড্রোন ডিপো ও এয়ারক্রাফট হ্যাঙ্গারে মার্কিন বিমান হামলা, টানা ১১ দিনের অভিযানের দাবি সেন্টকম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ::

ইরানের সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে টানা ১১তম দিনের মতো বিমান হামলা চালানোর দাবি করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির স্থানীয় সময় মঙ্গলবার গভীর রাতে পরিচালিত অভিযানে ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনীর একাধিক সামরিক অপারেশন কেন্দ্র, একটি এয়ারক্রাফট হ্যাঙ্গার এবং ড্রোন সংরক্ষণাগারে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)।

বুধবার (২২ জুলাই) ভোরে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত করে সেন্টকম।

বিবৃতিতে বলা হয়, সর্বশেষ অভিযানে ইরানের সামরিক সক্ষমতা দুর্বল করতে গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অবকাঠামোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। তবে নিরাপত্তাজনিত কারণে হামলার শিকার এয়ারক্রাফট হ্যাঙ্গার ও ড্রোন ডিপোর সুনির্দিষ্ট অবস্থান প্রকাশ করা হয়নি।

সেন্টকম আরও জানায়, গত ১১ দিনের ধারাবাহিক অভিযানে ইরানের একাধিক সামরিক কমান্ড সেন্টার, সামুদ্রিক স্থাপনা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন উৎক্ষেপণকেন্দ্র এবং প্রতিরক্ষা অবকাঠামোর বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে।

এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ সর্বশেষ বিমান হামলার ভিডিও প্রকাশ করেছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দীর্ঘ উত্তেজনার পর গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত শুরু হয়। টানা ৪০ দিনের সংঘর্ষ শেষে ৭ এপ্রিল উভয় দেশ যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়।

পরবর্তীতে গত ১৭ জুন পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় ইসলামাবাদে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান ‘ইসলামাবাদ সমঝোতা স্মারক (এমওইউ)’-এ স্বাক্ষর করেন। ১৪ দফা ওই চুক্তির অন্যতম শর্ত ছিল, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা বন্ধ করবে ইরান এবং এর বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের তেল রপ্তানির ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা ও বন্দর অবরোধ শিথিল করবে।

তবে গত ৫ জুলাই হরমুজ প্রণালিতে সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুটি তেলবাহী ট্যাংকারে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটে। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, হামলাটি ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) পরিচালনা করেছে। এর জবাবে ৭ জুলাই থেকে ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় ধারাবাহিক বিমান হামলা শুরু করে সেন্টকম।

এদিকে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই গত ১৩ জুলাই প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বন্দরগুলোর ওপর পুনরায় অবরোধ আরোপের নির্দেশ দেন।

আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বিশ্লেষকদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের নতুন দফার সংঘাতের কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি। বিশ্বের অন্যতম ব্যস্ত এই জ্বালানি পরিবহনপথে নিয়ন্ত্রণ ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করাকে ঘিরেই দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা আরও তীব্র হচ্ছে।

সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি)

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *