আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ইসরায়েলের পরবর্তী সরকারে কট্টর ডানপন্থি দুই নেতা ইতামার বেন-গিভর ও বেজালেল স্মোৎরিচকে দেখতে চান না যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। অধিকৃত পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে তাঁর পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বাধা সৃষ্টি করছে বলে মনে করছেন তিনি। ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাত দিয়ে বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ওয়াল্লা।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরায়েলের সাম্প্রতিক নির্বাচনে কোনো পক্ষই একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। ফলে নতুন সরকার গঠন নিয়ে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। আরব দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতা না হলে সাংবিধানিক বিধি অনুযায়ী বর্তমান প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করতে হতে পারে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন সরকারে বেন-গিভর ও স্মোৎরিচকে দেখতে চান না ট্রাম্প বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন সর্বশেষ মন্ত্রিসভায় বেন-গিভর অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তাবিষয়ক মন্ত্রী এবং স্মোৎরিচ অর্থমন্ত্রীর দায়িত্বে ছিলেন। দুজনই ইসরায়েলের কট্টর ডানপন্থি রাজনীতির গুরুত্বপূর্ণ নেতা হিসেবে পরিচিত। পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে তাঁদের বক্তব্য ও অবস্থান নিয়ে বিভিন্ন সময়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরু হলে তা বন্ধের উদ্যোগের ক্ষেত্রেও এই দুই নেতার অবস্থান নিয়ে সমালোচনা হয়েছে। ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ সূত্রগুলোর দাবি, পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টা আরও কঠিন হয়ে পড়বে।
ওয়াল্লার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজা নিয়ে ট্রাম্পের পরিকল্পনা, ইসরায়েলের সঙ্গে আরব মুসলিম দেশগুলোর সম্পর্ক উন্নয়ন এবং ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’ সম্প্রসারণের উদ্যোগ পশ্চিম তীরের সহিংসতার কারণে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে বলে মনে করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর পশ্চিম তীরে বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতা রেকর্ড পর্যায়ে পৌঁছেছে।
এদিকে মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত নির্বাচনের প্রাথমিক ফলের হিসাব অনুযায়ী, নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন লিকুদ পার্টির জোট ৫৩টি আসন, গাদি আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট ৪৮টি আসন এবং আরব দলগুলো ১৯টি আসন পেতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ফলে সরকার গঠনের ক্ষেত্রে আরব দলগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
এ পরিস্থিতিতে বামপন্থি দলের নেতা ইয়ার গোলান বিরোধী নেতা আইজেনকোটকে আরব দলগুলোর সঙ্গে সমঝোতা করে নেতানিয়াহুকে ক্ষমতা থেকে সরানোর আহ্বান জানিয়েছেন।
তবে বিরোধী জোটের ভবিষ্যৎ নিয়েও অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। জোটের অন্যতম ডানপন্থি নেতা আভিগদোর লিবারম্যান ও তাঁর দল ‘ইসরায়েল বেইতেনু’ নেতানিয়াহুর জোটে যোগ দিতে পারে বলে রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন রয়েছে।
সব মিলিয়ে ইসরায়েলের নতুন সরকার গঠন নিয়ে রাজনৈতিক হিসাব-নিকাশ জটিল হয়ে উঠেছে। একই সঙ্গে পশ্চিম তীরের পরিস্থিতি এবং মধ্যপ্রাচ্যে শান্তি প্রতিষ্ঠার উদ্যোগে নতুন সরকারের অবস্থান কী হবে, তা নিয়েও আন্তর্জাতিক মহলে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।