স্টাফ রিপোর্টার:
রাজধানীর দক্ষিণখান এলাকার নর্দাপাড়া মোড়ের একটি পলিথিন উৎপাদনকারী কারখানাকে ঘিরে নানা অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ‘আসাদ পিপি কালেকশন’ নামের প্রতিষ্ঠানটিতে দীর্ঘদিন ধরে নিষিদ্ধ পলিথিন তৈরি করা হচ্ছে। তাঁদের দাবি, প্রকাশ্যে কারখানার কার্যক্রম চললেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, নিষিদ্ধ পলিথিন উৎপাদন বন্ধে আইন ও সরকারি নির্দেশনা থাকলেও দক্ষিণখানের নর্দাপাড়া মোড় এলাকায় কারখানাটির কার্যক্রম নিয়ে যথাযথ তদারকি হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। তাঁদের ভাষ্য, কারখানাটি যদি প্রয়োজনীয় পরিবেশগত অনুমোদন ছাড়া নিষিদ্ধ পলিথিন উৎপাদন করে থাকে, তাহলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত করে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা প্রশ্ন তুলে বলেন, আবাসিক এলাকার কাছাকাছি এ ধরনের কারখানা চললে তা পরিবেশ ও জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগের কারণ হতে পারে। তাঁদের মতে, অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে কারখানাটির বৈধতা, উৎপাদিত পণ্যের ধরন এবং প্রয়োজনীয় অনুমোদন রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা দরকার।
প্রশাসনকে ‘ম্যানেজ’ করার দাবি
কারখানার মালিকের বক্তব্য জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে কোনো ব্যবসায়ী শতভাগ ঠিক নেই। আমরা প্রশাসনকে ম্যানেজ করেই এই কারখানা চালাই।’
মালিকের এই বক্তব্যের সত্যতা এবং এর মাধ্যমে তিনি কী বোঝাতে চেয়েছেন, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। সংশ্লিষ্ট কোনো কর্মকর্তা বা সংস্থার বিরুদ্ধে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগেরও স্বতন্ত্র প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে বিষয়টি তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
পরিবেশ অধিদপ্তর ও পুলিশের বক্তব্য পাওয়া যায়নি
কারখানাটির কার্যক্রম এবং নিষিদ্ধ পলিথিন উৎপাদনের অভিযোগ সম্পর্কে জানতে পরিবেশ অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। দক্ষিণখান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার (ওসি) সঙ্গেও ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়, তবে তাঁর বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।
তদন্তের দাবি স্থানীয়দের
এলাকাবাসীর দাবি, সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ যেন সরেজমিনে কারখানাটি পরিদর্শন করে। সেখানে নিষিদ্ধ পলিথিন উৎপাদন করা হচ্ছে কি না, পরিবেশগত ছাড়পত্র ও প্রয়োজনীয় অনুমোদন রয়েছে কি না এবং আইন লঙ্ঘনের কোনো ঘটনা ঘটছে কি না, তা তদন্ত করে দেখা প্রয়োজন।
বাংলাদেশে নিষিদ্ধ পলিথিন উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার বিধান রয়েছে। তাই অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
তবে কারখানাটির অনুমোদন, উৎপাদন কার্যক্রম, প্রশাসনিক তদারকি এবং আর্থিক লেনদেনসংক্রান্ত অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে।