কাম্রুল ইসলাম:
কক্সবাজারের ঈদগাঁও থানায় স্বল্প সময় দায়িত্ব পালন করেও স্থানীয় মানুষের মনে স্মরণীয় হয়ে আছেন সাবেক অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ফরিদা ইয়াসমিন। দায়িত্ব পালনের মাত্র তিন মাসের মধ্যেই সাহসী পদক্ষেপ, দায়িত্বশীল ভূমিকা, অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থান এবং সাধারণ মানুষের সঙ্গে জনবান্ধব আচরণের মাধ্যমে তিনি ঈদগাঁওয়ের মানুষের কাছে পরিচিতি লাভ করেন। বর্তমানে তিনি চট্টগ্রামের মীরসরাই থানার অফিসার ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
ঈদগাঁও থানায় দায়িত্ব পালনকালে ডাকাতি, মাদক কারবার, অপহরণসহ বিভিন্ন অপরাধ দমনে তাঁর ভূমিকা স্থানীয়দের আলোচনায় ছিল বলে জানা গেছে। বিশেষ করে নারী ও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, অভিযোগ নিয়ে থানায় আসা ব্যক্তিদের কথা শোনা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের কারণে তিনি অনেকের কাছে আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছিলেন। দায়িত্ব পালনের স্বল্প সময়ের মধ্যেই মানুষের সঙ্গে তাঁর যে সম্পর্ক তৈরি হয়েছিল, তা বদলির পরও স্থানীয়দের স্মৃতিতে রয়ে গেছে।
স্থানীয়দের অনেকের মতে, একজন পুলিশ কর্মকর্তার প্রতি মানুষের আস্থা তৈরির জন্য দীর্ঘ সময় দায়িত্ব পালন করাই একমাত্র বিষয় নয়; বরং সততা, সাহসিকতা, দায়িত্ববোধ এবং সাধারণ মানুষের প্রতি আন্তরিকতাই গুরুত্বপূর্ণ। তাঁদের ভাষ্য অনুযায়ী, ফরিদা ইয়াসমিন ঈদগাঁও থানায় দায়িত্ব পালনকালে এসব গুণের পরিচয় দেওয়ার চেষ্টা করেছেন। এ কারণে তাঁর বিদায়ের পরও অনেকে তাঁকে শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন।
ফরিদা ইয়াসমিনের দায়িত্ব পালনকালীন বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ইতিবাচক আলোচনা রয়েছে। বিশেষ করে এলাকার মা-বোনদের নিরাপত্তা, অপরাধপ্রবণতা নিয়ন্ত্রণ এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাবোধ তৈরির বিষয়গুলোতে তাঁর ভূমিকার কথা স্মরণ করেন অনেকে। তাঁদের প্রত্যাশা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা একইভাবে দায়িত্বশীলতা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে কাজ করে যাবেন।
তবে জাতীয় নির্বাচনকে কেন্দ্র করে তাঁর বদলির পর ঈদগাঁওয়ের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে নানা আলোচনা ও উদ্বেগের কথাও উঠে এসেছে। এলাকাবাসীর কারও কারও অভিযোগ, তাঁর বিদায়ের পর মাদক কারবার, ডাকাতি ও অপহরণের মতো অপরাধে জড়িত বলে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের তৎপরতা বেড়েছে। এসব অভিযোগের বিষয়ে নিরপেক্ষভাবে যাচাই করা প্রয়োজন। পাশাপাশি অপরাধের প্রকৃত চিত্র নিরূপণ করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয়দের প্রশ্ন, আগের মতো অপরাধ দমনে দৃশ্যমান তৎপরতা ও কার্যকর পদক্ষেপ কতটা বজায় রয়েছে? তাঁদের মতে, এলাকায় শান্তিপূর্ণ পরিবেশ নিশ্চিত করতে পুলিশি নজরদারি বৃদ্ধি, অপরাধপ্রবণ এলাকাগুলোতে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সাধারণ মানুষের অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা প্রয়োজন। মাদক, ডাকাতি ও অপহরণসহ সব ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্রিয় ভূমিকা প্রত্যাশা করছেন তাঁরা।
ঈদগাঁওবাসীর কাছে ফরিদা ইয়াসমিনের স্মৃতি কেবল একজন সাবেক পুলিশ কর্মকর্তাকে ঘিরে নয়; বরং তাঁর দায়িত্ববোধ, সাহসিকতা, বিচক্ষণতা এবং জনসাধারণের সঙ্গে যোগাযোগের ধরন নিয়েও। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের নিরাপত্তা এবং সাধারণ মানুষের অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের সংবেদনশীল ভূমিকার প্রত্যাশা থেকেই অনেকে তাঁর দায়িত্ব পালনের সময়টিকে স্মরণ করেন।
স্থানীয়দের মতে, মাত্র তিন মাস দায়িত্ব পালন করেও মানুষের ভালোবাসা ও আস্থা অর্জনের বিষয়টি একজন পুলিশ কর্মকর্তার জনবান্ধব ভূমিকার গুরুত্ব তুলে ধরে। জনগণের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা, তাঁদের সমস্যার কথা শোনা এবং অপরাধ দমনে আইনানুগ পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে পুলিশ ও সাধারণ মানুষের মধ্যে আস্থার সম্পর্ক আরও দৃঢ় করা সম্ভব।
বর্তমানে চট্টগ্রামের মীরসরাই থানায় দায়িত্ব পালন করছেন ফরিদা ইয়াসমিন। নতুন কর্মস্থলেও তিনি সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন—এমন প্রত্যাশা তাঁর শুভাকাঙ্ক্ষীদের। একই সঙ্গে ঈদগাঁওয়ের বাসিন্দারা চান, বর্তমান পুলিশ প্রশাসন এলাকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা, মাদক কারবার ও অপরাধপ্রবণতা নিয়ন্ত্রণ এবং সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করুক।
এলাকাবাসীর প্রত্যাশা, ঈদগাঁও থানায় দায়িত্ব পালনকারী পুলিশ কর্মকর্তারা জনবান্ধব আচরণ, দ্রুত সেবা প্রদান এবং অপরাধ দমনে কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে জনগণের আস্থা ধরে রাখবেন। কোনো ব্যক্তি অপরাধের সঙ্গে জড়িত বলে অভিযোগ উঠলে তা যথাযথভাবে তদন্ত করে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে—এমন প্রত্যাশাও তাঁদের।
দায়িত্বের প্রয়োজনে ফরিদা ইয়াসমিন ঈদগাঁও ছেড়ে গেলেও স্থানীয় অনেক মানুষের স্মৃতিতে তাঁর কর্মকাল রয়ে গেছে। তাঁর দায়িত্বশীল ভূমিকা ও জনসাধারণের সঙ্গে সুসম্পর্কের কথা উল্লেখ করে অনেকে তাঁকে স্মরণ করেন। তাঁদের প্রত্যাশা, তিনি নতুন কর্মস্থলেও মানুষের কল্যাণে নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করে যাবেন এবং ঈদগাঁওয়ের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় নিয়োজিত পুলিশ সদস্যরাও সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করবেন।
ঈদগাঁওবাসীর প্রত্যাশা, অপরাধমুক্ত, নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ গড়ে তুলতে পুলিশ ও স্থানীয় জনগণের মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা আরও জোরদার হবে। একই সঙ্গে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতিটি সদস্য সততা, দায়িত্ববোধ ও পেশাদারত্বের মাধ্যমে মানুষের আস্থা অর্জনে সচেষ্ট থাকবেন।