মোশাররফ হোসেন জসিম পাঠান:
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জে এক ধান ব্যবসায়ীকে ব্ল্যাকমেইল, মারধর ও তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান থেকে মালামাল ও নগদ টাকা লুটের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ব্যবসায়ী মো. আব্দুল মতিন বাদী হয়ে ঈশ্বরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন।
অভিযোগের ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের দাবি, পূর্বপরিকল্পিতভাবে একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাঁকে হয়রানি এবং তাঁর কাছ থেকে টাকা আদায়ের চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার রাজিবপুর ইউনিয়নের উজান চর নওপাড়া (খুলিয়ার চর) গ্রামের মৃত রুস্তম আলীর ছেলে মো. আব্দুল মতিন (৪৫) দীর্ঘদিন ধরে শাহাগঞ্জ বাজারে ধান, চাল, পেঁয়াজ, রসুন ও আদার ব্যবসা করে আসছেন।
গত ৪ আগস্ট দিবাগত রাত আনুমানিক সাড়ে ১২টার দিকে আব্দুল মতিন তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান খোলা রেখে পাশের চায়ের দোকানে চা পান করতে যান। এ সময় অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, স্বল্প চরপাড়া গ্রামের মো. ভুট্টু মিয়ার মেয়ে মোছা. ইয়াছমিন আক্তার কোনো এক সময় তাঁর ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের ভেতরে প্রবেশ করেন।
পরে আব্দুল মতিন দোকান বন্ধ করতে গেলে ইয়াছমিন আক্তারের বাবা ও কয়েকজন লোক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সেখানে প্রবেশ করে তাঁকে মারধর শুরু করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তাঁর চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এসে তাঁকে হামলাকারীদের হাত থেকে উদ্ধার করেন।
অভিযোগে আরও বলা হয়, এ সময় ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে থাকা চাল, পেঁয়াজ, রসুন ও আদার বস্তাসহ ক্যাশে থাকা নগদ টাকা নিয়ে হামলাকারীরা চলে যায়।
ঘটনার পর থেকে শাহাগঞ্জ বাজার ও আশপাশের এলাকায় বিষয়টি নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। স্থানীয়দের দাবি, ঘটনাটি সুষ্ঠুভাবে তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা বের করা প্রয়োজন।
স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, আব্দুল মতিন দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় ব্যবসা করে আসছেন এবং তাঁর সঙ্গে এ ধরনের ঘটনা আগে ঘটেনি। তাঁরা বলেন, কোনো একটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে তাঁকে পরিকল্পিতভাবে হয়রানি করে অর্থ আদায়ের চেষ্টা করা হয়ে থাকতে পারে। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
এলাকাবাসীর আরও অভিযোগ, ইয়াছমিন আক্তারকে ঘিরে বিভিন্ন ধরনের অনৈতিক ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো নির্ভরযোগ্য নথি বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর সত্যতা নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে ব্যবসায়ী মো. আব্দুল মতিন ঈশ্বরগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ বরাবর লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। এতে মো. রফিকুল ইসলাম মেম্বার, মো. ভুট্টু মিয়া, ইয়াছমিন আক্তার, মো. সোহেল মিয়া ও মো. জুয়েল মিয়াকে নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত আরও ৩-৪ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছে।
স্থানীয়রা জানান, ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত না হলে বিষয়টি আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে। তাই জেলার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, জেলা পুলিশ সুপার ও স্থানীয় প্রশাসনের কাছে দ্রুত তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
এ বিষয়ে স্থানীয়দের মধ্যে অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক মো. তাহের উদ্দিন, মো. হাসান মাস্টার, শাহাগঞ্জ বাজার কমিটির সভাপতি মো. আব্দুল বাতেন, সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান মিজান, ইউপি সদস্য মো. আবুল কালাম খান, মো. আবুল হাশেম, মো. মোশাররফ হোসেন, মো. সোহেল শেখ, মোস্তাক আহমেদ, আব্দুল সোবহান, চায়ের দোকানদার আবু তাহের, মো. জনাব আলী, আবুল কাশেম, আব্দুল সালাম, নাসির উদ্দিন, কসম উদ্দিন, নুরুল ইসলাম, জুলহাস মিয়া, আব্দুল মোতালেব, কাইয়ুম মিয়া, মো. মিয়া হোসেন, শহীদ মিয়া, আবুল কালাম, সামাদ মিয়া, আব্দুর রহমান, স্বপন মিয়া, রুহুল আমিন ও সাইফুল ইসলামসহ আরও অনেকে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
তবে অভিযোগে অভিযুক্ত মো. ভুট্টু মিয়া, ইয়াছমিন আক্তার ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। তাঁদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
এদিকে ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করায় যেকোনো সময় অপ্রীতিকর বা বড় ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দ্রুত তদন্ত ও প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।