মোশাররফ হোসেন জসিম পাঠান:
ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলার এক গৃহবধূকে গাজীপুরের শ্রীপুরে নৃশংসভাবে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় একজন আসামি গ্রেফতার হলেও বাকি হত্যাকারীদের বিচার দাবিতে আদালতের দ্বারে দ্বারে ঘুরছেন নিহতের পরিবার। ময়মনসিংহ জেলার ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলাধীন সোহাগী ইউনিয়নের বগাপুতা গ্রামের মৃত আহম্মদ আলীর ছেলে মোঃ নজরুল ইসলামের কন্যা মোছাঃ নাদিয়া আক্তারকে প্রায় ছয় বছর আগে একই ইউনিয়নের জিগাতলা মাইজহাটি গ্রামের ফখরু উদ্দিনের ছেলে মোঃ আমিনুল ইসলাম খোকন (৩২)-এর সঙ্গে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ করা হয়। দাম্পত্য জীবনের প্রথম দুই বছর ভালোভাবেই কাটলেও পরবর্তীতে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে পারিবারিক কলহ শুরু হয়। একপর্যায়ে আমিনুল ইসলাম খোকন তার স্ত্রী নাদিয়াকে নিয়ে গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলাধীন কাটিয়াপাড়া এলাকায় তার বোন মোছাঃ সাবিনা আক্তারের বাসায় নিয়ে যান। সেখানে ভাড়াটিয়া হিসেবে বসবাসরত অবস্থায় নাদিয়া একটি কারখানায় চাকরি করতেন। কর্মস্থল থেকে আসা-যাওয়া এবং পারিবারিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে নাদিয়ার সঙ্গে স্বামী ও ননদের প্রায়ই ঝগড়া হতো বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এরই জের ধরে গত ২৪ এপ্রিল ২০২৫ ইং তারিখে রাতের কোনো এক সময় নাদিয়া আক্তারকে দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করা হয় এবং হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তি বা ব্যক্তিরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
ঘটনার খবর পেয়ে নিহতের বাবা মোঃ নজরুল ইসলাম ঢাকায় বসবাসরত তার ছেলেকে বিষয়টি জানান। পরে নিহতের ভাই দ্রুত ঘটনাস্থলে এসে নাদিয়া আক্তারের মৃতদেহ দেখতে পান। পুলিশকে অবহিত করলে শ্রীপুর থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে নিহতের লাশ উদ্ধার করে সুরতহাল প্রতিবেদন প্রস্তুত করে এবং ময়নাতদন্তের জন্য শহীদ তাজউদ্দিন আহমেদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। ময়নাতদন্ত শেষে লাশ নিহতের বাবার বাড়িতে এনে দাফন-কাফন সম্পন্ন করা হয়। এ ঘটনায় নিহতের বাবা মোঃ নজরুল ইসলাম বাদী হয়ে শ্রীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগে স্বামী মোঃ আমিনুল ইসলাম খোকনসহ মোট সাতজনের নাম উল্লেখ করা হয় এবং অজ্ঞাত আরও পাঁচজনকে আসামি করা হয়। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে শ্রীপুর থানায় মামলা নং ৪৪/২৫, ধারা ৩০২/৩৪ দণ্ডবিধি ১৮৬০ অনুযায়ী হত্যা মামলা রুজু হয়। পুলিশ এ মামলার এক নম্বর আসামি আমিনুল ইসলাম খোকনকে গ্রেফতার করে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠায়।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে পুরো এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়। ঢাকা থেকে প্রকাশিত জাতীয় দৈনিক পত্রিকার সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মীরা সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বললে তারা ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে জানান, দীর্ঘদিন ধরে কাটিয়াপাড়া এলাকায় আমিনুল ইসলামের বাসায় ভাড়াটিয়া হিসেবে দম্পতি বসবাস করতেন এবং সেখানেই এই হত্যাকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে। এলাকাবাসী দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে সব আসামিকে গ্রেফতার করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান। এদিকে মামলার বাদী মোঃ নজরুল ইসলাম অভিযোগ করে বলেন, তাকে অবগত না করেই তদন্ত কর্মকর্তা চার্জশিট দাখিল করেছিলেন। পরবর্তীতে আদালত মামলাটি পুনঃতদন্তের জন্য পিবিআইকে নির্দেশ দেন। বর্তমানে মামলার পুনঃতদন্ত চলমান থাকলেও ন্যায়বিচারের আশায় পিবিআই ও আদালতের বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরে বেড়াচ্ছেন বাদী। তিনি বলেন, “আমি আমার মেয়ের হত্যাকারীদের দৃষ্টান্তমূলক বিচার চাই। এজন্য জেলার ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও সংশ্লিষ্ট তদন্ত কর্মকর্তাদের সুদৃষ্টি ও কার্যকর পদক্ষেপ কামনা করছি।” এ দাবিতে নিহতের পরিবারসহ এলাকাবাসী ও শুভানুধ্যায়ীরা একাত্মতা প্রকাশ করেছেন।