ঢাকা প্রতিনিধি:
রাজধানীর উত্তরখান ভূমি অফিসে সেবা নিতে গিয়ে ঘুষ ও হয়রানির শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কয়েকজন সেবাগ্রহীতা। তাদের অভিযোগ, নামজারি, খাজনা, পর্চা উত্তোলনসহ বিভিন্ন ভূমিসেবা নিতে গেলে সরকারি ফির বাইরে অতিরিক্ত টাকা দাবি করা হয়। টাকা না দিলে ফাইল আটকে রাখা এবং নানা অজুহাতে সেবাগ্রহীতাদের হয়রানি করা হয় বলেও অভিযোগ রয়েছে।
সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ, এসব অনিয়মের নেপথ্যে ‘মনির’ নামে এক ব্যক্তি সক্রিয় রয়েছেন। তার মাধ্যমে অতিরিক্ত টাকা দিলে দ্রুত কাজ হয়ে যায়, আর টাকা না দিলে সংশ্লিষ্ট ফাইল দীর্ঘদিন পড়ে থাকে—এমন অভিযোগ করেছেন কয়েকজন ভুক্তভোগী।
এক ভুক্তভোগীর ভাষ্য, সরকারি নির্ধারিত ফি কয়েকশ টাকা হলেও বিভিন্ন কাজের জন্য তাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত হাজার হাজার টাকা দাবি করা হচ্ছে। তার অভিযোগ, ‘মনিরের সঙ্গে কথা না বললে অফিসে ফাইল নড়াচড়া করানো কঠিন।’
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভূমি অফিসে সাধারণ মানুষ নামজারি, খাজনা, পর্চা উত্তোলনসহ বিভিন্ন সেবা নিতে এসে মধ্যস্বত্বভোগীদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ছেন। এতে নির্ধারিত সরকারি ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ গুনতে হচ্ছে বলে দাবি তাদের।
অভিযোগকারীদের আরও দাবি, অফিসের নিয়মিত কার্যক্রমের বাইরে একজন বেসরকারি ব্যক্তি কীভাবে সেবাগ্রহীতাদের সঙ্গে যোগাযোগ ও ফাইলের বিষয়ে প্রভাব বিস্তার করছেন, তা খতিয়ে দেখা প্রয়োজন। তাদের অভিযোগ, মনিরের মাধ্যমে টাকা লেনদেনের ব্যবস্থা থাকায় সাধারণ সেবাগ্রহীতারা অনেকটা বাধ্য হয়েই অতিরিক্ত অর্থ দিতে বাধ্য হচ্ছেন।
এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভও তৈরি হয়েছে। তাদের দাবি, অভিযোগগুলো নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে সত্যতা যাচাই করা হোক। একই সঙ্গে ভূমি অফিসে সেবা নিতে আসা নাগরিকদের হয়রানি বন্ধ এবং সরকারি নির্ধারিত ফির বাইরে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হোক।
অভিযোগকারীরা বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ঢাকা জেলা প্রশাসন ও দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে ‘মনিরের’ বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। একইভাবে উত্তরখান ভূমি অফিসের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা দীপঙ্কর চন্দ্র চন্দের বক্তব্যও পাওয়া যায়নি। তাদের বক্তব্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনে তা সংযুক্ত করা হবে।