মোঃ মাহমুদুল হাসান:
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার মহারাজপুর ইউনিয়নে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৪৫ চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মোঃ নূরুল ইসলাম বুলবুলের নির্বাচনী জনসভায় নারী-পুরুষের ব্যাপক উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
বৃহস্পতিবার (২২ জানুয়ারি ২০২৬) বিকেলে মহারাজপুর ফিল্ডের হাট সংলগ্ন কারবালা স্কুল অ্যান্ড কলেজ মাঠে এ জনসভা অনুষ্ঠিত হয়।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর আমীর হাফেজ আব্দুল আলীমের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা দক্ষিণের আমীর এবং ৪৫ চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩ আসনের মনোনীত প্রার্থী মোঃ নূরুল ইসলাম বুলবুল।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে নূরুল ইসলাম বুলবুল বলেন, এদেশের তরুণ সমাজ আর বস্তাপচা রাজনীতি চায় না। তিনি দৃঢ় কণ্ঠে বলেন, ‘পিছনের দরজা দিয়ে ক্ষমতায় যাওয়ার কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না।’ জনগণের ভোটেই নেতৃত্ব নির্ধারিত হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, নারীদের কর্মঘণ্টা ৮ ঘণ্টার পরিবর্তে ৫ ঘণ্টা করা হবে। তরুণদের হাতে মাদক ও অস্ত্র নয়, দক্ষতা ও কর্মসংস্থান তুলে দিতে হবে। সুখী ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়তে তরুণদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে যোগ্য মানবসম্পদ হিসেবে গড়ে তোলা হবে।
জুলাই আন্দোলনের প্রসঙ্গ টেনে বুলবুল বলেন, এই আন্দোলনের লক্ষ্য ছিল সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠা করা। যারা দীর্ঘদিন ক্ষমতায় ছিলেন, তাদের উদ্দেশে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, চাঁপাইনবাবগঞ্জে এখনো কেন একটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল গড়ে ওঠেনি?
তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জের অর্থনৈতিক সম্ভাবনার কথা তুলে ধরে বলেন, আম সংরক্ষণের আধুনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং সরকারিভাবে বিদেশে আম রপ্তানির উদ্যোগ নেওয়া হবে। একই সঙ্গে দুর্নীতি ও শোষণমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার করেন তিনি।
বুলবুল ঘোষণা দেন, ৫ বছরের নিচে ও ৬০ বছরের ঊর্ধ্বে সকল নাগরিককে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দেওয়া হবে। ৫ লক্ষ শিক্ষিত বেকারকে ১০ হাজার টাকা করে কর্জে হাসানা দেওয়া হবে। পাশাপাশি একটি স্মার্ট কার্ডের মাধ্যমে নাগরিকদের সকল সরকারি সেবা গ্রহণের ব্যবস্থা করা হবে।
জনসভায় উপস্থিত ছিলেন সাবেক সংসদ সদস্য লতিফুর রহমান, জেলা নায়েবে আমীর ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোখলেসুর রহমান, জেলা সেক্রেটারি অধ্যাপক আবু বকর, জেলা অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি অধ্যাপক আবুল হাসানসহ উপজেলা জামায়াতে ইসলামীর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।