আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
ভারতের গুয়াহাটিতে একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবারের এ ঘটনায় তার সঙ্গে থাকা এক যুবককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
গ্রেপ্তার যুবকের দাবি, ওই ছাত্রী আত্মহত্যা করেছেন। তবে তার বক্তব্য নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করেছে পুলিশ। ঘটনাটি আত্মহত্যা নাকি হত্যাকাণ্ড, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গুয়াহাটি পুলিশ কমিশনার দেওরি বলেন, তদন্ত এখনো প্রাথমিক পর্যায়ে রয়েছে। পুলিশ সম্ভাব্য হত্যাকাণ্ডের বিষয়টিও খতিয়ে দেখছে। তিনি বলেন, মৃতদেহের আশপাশে বা মেঝেতে কোনো রক্ত পাওয়া যায়নি।
এদিকে নিহত তরুণীর পরিবারের এক বন্ধুর দাবি, ওই তরুণী তাঁর মাকে ফোন করে জানিয়েছিলেন যে তিনি এক বন্ধুর বাড়িতে রাত কাটাবেন। কিন্তু গভীর রাতে হঠাৎ মাকে ফোন করে বলেন, ‘ওরা আমাকে মেরে ফেলবে।’ এরপর সম্ভবত তাঁর ফোনটি কেড়ে নেওয়া হয়। তবে এ বক্তব্যের সত্যতা এখনো খতিয়ে দেখা হয়নি।
অন্যদিকে, হোমস্টের তত্ত্বাবধায়কের বক্তব্যও তদন্তে গুরুত্ব পাচ্ছে। তিনি জানান, রাতে এক ব্যক্তির চিৎকার শুনেছিলেন। ওই ব্যক্তি কাউকে ওঠার জন্য বলছিলেন। তিনি পুরুষ কণ্ঠে ‘দাদা ওঠো, ওঠো’ বলে চিৎকার শুনেছেন বলেও জানান।
নিহত তরুণী হিন্দু ধর্মাবলম্বী এবং গ্রেপ্তার যুবক মুসলিম। ঘটনাটিকে কেন্দ্র করে কয়েকটি সংগঠন বিক্ষোভ করেছে। বিক্ষোভকারীরা ঘটনাটিকে কথিত ‘লাভ জিহাদ’ বলে অভিযোগ করেন।
‘লাভ জিহাদ’ বলতে হিন্দুত্ববাদী কিছু গোষ্ঠীর প্রচারিত একটি ধারণাকে বোঝানো হয়, যেখানে অভিযোগ করা হয়, মুসলিম পুরুষরা ধর্মান্তরিত করার উদ্দেশ্যে হিন্দু নারীদের প্রেমের সম্পর্কে জড়ান।
বিক্ষোভকারীরা একপর্যায়ে সড়ক অবরোধ করেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের সরে যাওয়ার অনুরোধ করলে অবরোধ তুলে নেওয়া হয়।