মো. রাসেল, স্টাফ রিপোর্টার:
বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার দুর্গম এলাকার শিশুদের প্রাথমিক শিক্ষার আলো ছড়ানো ‘দোপ্রু পাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়’ (স্থাপিত: ২০১০ খ্রি., জাতীয়করণ: ২০১৭ খ্রি.) বর্তমানে নানা সমস্যায় জর্জরিত হয়ে একপ্রকার বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে। বর্ষা মৌসুমে বিদ্যালয়টির চারপাশের মাটি ও সামনের একমাত্র খেলার মাঠটি তীব্র কাদা-পানিতে সয়লাব হয়ে যাওয়ায় কোমলমতি শিক্ষার্থীরা ক্লাসরুমে প্রবেশ করতে পারছে না।
সরেজমিনে দেখা গেছে, বিদ্যালয়ে যাতায়াতের জন্য কোনো পাকা বা ভালো রাস্তা নেই। তার ওপর পুরো মাঠজুড়ে থিকথিকে কাদা জমে আছে। শিশুদের ক্লাসে ঢুকতে হলে এই কাদা মাড়িয়েই যেতে হয়। ফলে প্রতিদিন অনেক শিক্ষার্থীর জামাকাপড় ও বই-খাতা কাদায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। এই নোংরা, কর্দমাক্ত ও বিপজ্জনক পরিবেশের কারণে শিশুরা এখন আর বিদ্যালয়ে আসতে চাইছে না। ঘরে ঘরে অভিভাবকেরা তাদের সন্তানদের এই অবর্ণনীয় পরিবেশে স্কুলে পাঠাতে অনীহা প্রকাশ করছেন।
বিদ্যালয়ে সন্তান পাঠানো এক ক্ষুব্ধ অভিভাবক আক্ষেপ করে বলেন, “স্কুলের মাঠ আর চারপাশের যে অবস্থা, তাতে বড় মানুষেরাই হাঁটতে পারে না। ছোট ছোট বাচ্চারা কীভাবে এই কাদা ভেঙে ক্লাসে ঢুকবে? আসার কোনো ভালো রাস্তাও নেই। প্রতিদিন কাদা মাড়াতে গিয়ে বাচ্চাদের জামাকাপড় ও বই-খাতা নষ্ট হয়ে যায়। এই ভয়ে বাচ্চারা এখন আর স্কুলেই যেতে চায় না। কাদার মধ্যে পিছলে পড়ে হাত-পা ভেঙে যাওয়ার ভয়ও থাকে। শিক্ষা অফিস কেন এই স্কুলটার দিকে নজর দিচ্ছে না?”
এই চরম অব্যবস্থাপনা ও মাঠের বেহাল দশা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বলেন, “মাঠ ও বিদ্যালয়ের চারপাশের পরিবেশ এখন এতটাই কর্দমাক্ত যে ছোট ছোট শিশুদের পক্ষে হেঁটে ক্লাসে ঢোকা অসম্ভব হয়ে পড়েছে। যাতায়াতের কোনো সুনির্দিষ্ট রাস্তাও নেই। কাদা মাড়িয়ে আসতে গিয়ে প্রতিনিয়ত শিশুরা পিছলে পড়ছে, তাদের পোশাক ও বই-খাতা নষ্ট হচ্ছে। এই নোংরা পরিবেশের কারণে শিক্ষার্থীরা এখন বিদ্যালয়ে আসতে তীব্র অনীহা প্রকাশ করছে এবং দিন দিন ছাত্র-ছাত্রীদের উপস্থিতি আশঙ্কাজনক হারে কমছে। আমরা দ্রুত এই মাঠ ভরাট ও রাস্তা সংস্কারের জন্য উপজেলা শিক্ষা অফিসের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি।”
স্থানীয় সচেতন মহল ও শিক্ষানুরাগীদের মতে, একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এই চিত্র কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। কাদার কারণে শিশুদের স্কুলবিমুখ হওয়া অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং এটি প্রাথমিক শিক্ষার লক্ষ্যকে ব্যাহত করছে। দুর্গম এলাকার শিশুদের শিক্ষার কার্যক্রম সচল রাখতে এবং তাদের আনন্দময় শৈশব ও খেলার পরিবেশ ফিরিয়ে দিতে আলীকদম উপজেলা শিক্ষা অফিস ও স্থানীয় প্রশাসনের অবিলম্বে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া উচিত।