কিমের তত্ত্বাবধানে হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা উত্তর কোরিয়ার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:

উত্তর কোরিয়ার সর্বোচ্চ নেতা কিম জং উনের তত্ত্বাবধানে একটি মধ্যম-পাল্লার কৌশলগত ক্ষেপণাস্ত্রের পরীক্ষা চালানো হয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম কেসিএনএর দাবি, হাইপারসনিক কৌশলগত অস্ত্রব্যবস্থার অংশ হিসেবে চালানো এ পরীক্ষায় ক্ষেপণাস্ত্রটি প্রায় ১ হাজার কিলোমিটার দূরের নির্ধারিত লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানে।

শনিবার (৩ অক্টোবর) ভোরে উত্তর কোরিয়ার পূর্বাঞ্চল থেকে ক্ষেপণাস্ত্রটি উৎক্ষেপণ করা হয়। কেসিএনএর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্র বাহিনীর প্রশিক্ষণ এবং দেশটির পারমাণবিক প্রতিরোধ সক্ষমতার কার্যকারিতা ও গতিশীলতা মূল্যায়ন করাই ছিল এ মহড়ার উদ্দেশ্য।

পরীক্ষা পর্যবেক্ষণের সময় কিম জং উন বলেন, কৌশলগত আক্রমণাত্মক অস্ত্রের সক্ষমতা ও কার্যকারিতা প্রতিপক্ষকে বারবার উপলব্ধি করানোর জন্য এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত রাখা প্রয়োজন। জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে পারমাণবিক প্রতিরোধ সক্ষমতা আরও জোরদারের কথাও তিনি বলেন।

তবে ক্ষেপণাস্ত্রটির উড্ডয়নপথ ও দূরত্ব নিয়ে উত্তর কোরিয়ার দাবি এবং দক্ষিণ কোরিয়ার হিসাবের মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়ার সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা ওয়ানসান এলাকা থেকে উৎক্ষেপণ শনাক্ত করে এবং ক্ষেপণাস্ত্রটি ৭০০ কিলোমিটারের বেশি পথ পাড়ি দেয়। অন্যদিকে উত্তর কোরিয়া দাবি করেছে, এটি প্রায় ১ হাজার কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত করেছে।

উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উনের বোন ও ক্ষমতাসীন দলের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা কিম ইয়ো জং দাবি করেছেন, ক্ষেপণাস্ত্রটির বিশেষ উড্ডয়নপথের কারণে দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপানের সামরিক কর্তৃপক্ষ এর গতিপথ পুরোপুরি অনুসরণ করতে পারেনি।

তবে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রটি তাদের নজরদারি ব্যবস্থার আওতায় ছিল এবং দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এটি শনাক্ত ও প্রতিহত করতে সক্ষম।

দক্ষিণ কোরিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় আরও বলেছে, উত্তর কোরিয়ার এ ধরনের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবের লঙ্ঘন। একই সঙ্গে কোরীয় উপদ্বীপে উত্তেজনা বাড়ায়—এমন কর্মকাণ্ড বন্ধ করার আহ্বান জানিয়েছে তারা।

সাম্প্রতিক সময়ে কোরীয় উপদ্বীপে উত্তেজনা বৃদ্ধির মধ্যেই সর্বশেষ এই ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষা চালাল উত্তর কোরিয়া। এর আগে অসামরিকীকৃত অঞ্চলে (ডিএমজেড) স্থলমাইন বিস্ফোরণে দক্ষিণ কোরিয়ার তিন সেনা আহত হওয়ার ঘটনায় দুই দেশের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা তৈরি হয়। ওই ঘটনায় উত্তর কোরিয়া নিজেদের দায় অস্বীকার করেছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *