কুমিল্লা প্রতিনিধি:
কুমিল্লা রেলস্টেশনের অদূরে অবস্থিত আবাসিক হোটেল ‘ঝিনুক’-কে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে মাদক বাণিজ্য ও অসামাজিক কার্যকলাপ পরিচালিত হচ্ছে—এমন গুরুতর অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় বাস মালিক, পরিবহন শ্রমিক ও আশপাশের একাধিক বাসিন্দার কাছ থেকে। অভিযোগে হোটেলটির মালিক সুমন মালিক এবং স্থানীয় পর্যায়ের এক আওয়ামী লীগ নেতার সম্পৃক্ততার কথাও উঠে এসেছে। তবে এসব অভিযোগ এখনো পর্যন্ত স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
স্থানীয় সূত্র ও বাস মালিকদের দাবি, হোটেল ‘ঝিনুক’কে ঘিরে একটি সংঘবদ্ধ চক্র সক্রিয় রয়েছে, যারা রাতের অন্ধকারে মাদক ব্যবসা ও অবৈধ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে থাকে। তাদের অভিযোগ, দূরপাল্লা ও লোকাল বাসের অনেক চালক ও সহকারী এই হোটেলের সংস্পর্শে এসে মাদকাসক্ত হয়ে পড়ছেন, যা সড়ক নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করছে।
একাধিক বাস মালিক নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, “এই হোটেলের কারণে আমাদের গাড়ির ড্রাইভাররা নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে। অনেক সময় দেখা যায় তারা হোটেলের ভেতরে বা আশপাশে মাদক গ্রহণ করছে। এতে দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ছে এবং আমাদের ব্যবসাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।”
এছাড়া অভিযোগ রয়েছে, হোটেলের ভেতরে ও আশপাশে কিছু তরুণীকে ব্যবহার করে অসামাজিক কার্যকলাপ পরিচালনা করা হয়। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব কার্যকলাপের কারণে এলাকায় সামাজিক পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে এবং সাধারণ মানুষ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। যদিও এসব অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রামাণ্য নথি বা আইনি প্রমাণ এখনো প্রকাশ্যে আসেনি।
অভিযোগকারীদের দাবি, হোটেল মালিক সুমন মালিক এবং তার ঘনিষ্ঠ একটি রাজনৈতিক মহল প্রশাসনিক প্রভাব ব্যবহার করে দীর্ঘদিন ধরে এসব কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। এমনকি কুমিল্লা সদর থানার এক শীর্ষ কর্মকর্তার নাম ব্যবহার করে প্রভাব খাটানো হয় বলেও কিছু স্থানীয় সূত্র দাবি করেছে। তবে সংশ্লিষ্ট থানার পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এদিকে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষ দ্রুত এ পরিস্থিতির তদন্ত ও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। তাদের মতে, রেলস্টেশন এলাকার মতো গুরুত্বপূর্ণ ও জনসমাগমপূর্ণ স্থানে এমন অভিযোগ থাকলে তা পুরো নগরীর ভাবমূর্তিকে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
একজন স্থানীয় দোকানদার বলেন, “দিনে-রাতে এখানে অচেনা লোকজনের আনাগোনা থাকে। হোটেলের ভেতরে কী হয় আমরা স্পষ্ট জানি না, তবে পরিবেশ ভালো না—এটা সবাই বুঝতে পারে।”
অন্যদিকে পরিবহন শ্রমিক সংগঠনের এক নেতা জানান, তারা বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করবেন। তিনি বলেন, “যদি সত্যিই মাদক ও অসামাজিক কার্যকলাপ হয়ে থাকে, তাহলে দ্রুত অভিযান চালিয়ে দোষীদের আইনের আওতায় আনতে হবে। না হলে সড়ক নিরাপত্তা আরও ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।”
এ বিষয়ে হোটেল ‘ঝিনুক’-এর মালিক সুমন মালিকের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে তার প্রতিক্রিয়া জানার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, অভিযোগগুলো সত্য হলে তা শুধু আইনশৃঙ্খলার জন্য নয়, বরং পুরো এলাকার সামাজিক নিরাপত্তার জন্যও হুমকি। তারা দ্রুত প্রশাসনিক তদন্ত, নিয়মিত অভিযান এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন।
এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত প্রশাসনের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক অভিযান বা মন্তব্য পাওয়া যায়নি।