বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব: ডিসি রায়হান কবির

মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী:

আজ বুধবার  নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে নারায়ণগঞ্জ জেলার নিকাহ রেজিস্ট্রার ও হিন্দু বিবাহ নিবন্ধকদের দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বাল্যবিবাহ নিরোধে উদ্বুদ্ধকরণ বিষয়ক ‘প্রশিক্ষণ কর্মশালা ২০২৬’ অনুষ্ঠিত হয়।

উক্ত প্রশিক্ষণ কর্মশালায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোঃ রায়হান কবির।

উক্ত কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন জেলা রেজিস্ট্রার জনাব মোহা: আব্দুল হাফিজ।

অনুষ্ঠানে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসনের অন্যান্য কর্মকর্তাবৃন্দসহ নারায়ণগঞ্জ জেলার বিভিন্ন এলাকার নিকাহ রেজিস্ট্রার ও হিন্দু বিবাহ নিবন্ধকরা অংশগ্রহণ করেন।

আজকের এই গুরুত্বপূর্ণ প্রশিক্ষণে নারায়ণগঞ্জ জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত সম্মানিত নিকাহ রেজিস্ট্রার ও হিন্দু বিবাহ নিবন্ধকদের উদ্দেশ্যে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসক মোঃ রায়হান কবির বলেন, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে নিকাহ রেজিস্ট্রার ও নিবন্ধকদের দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক যাচাই-বাছাই ও আইন মেনে নিবন্ধন কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তন আনা সম্ভব। বিবাহ একটি পবিত্র সামাজিক ও ধর্মীয় বন্ধন। আর এই বন্ধনের আইনগত বৈধতা দেওয়ার গুরুদায়িত্ব আপনাদের হাতে। আপনারা শুধু একটি খাতায় স্বাক্ষর নেন না, আপনারা একটি পরিবারের ভবিষ্যৎ, একটি মেয়ের জীবন এবং একটি জাতির ভিত্তি রেজিস্ট্রি করেন।

আজকের কর্মশালার মূল লক্ষ্য—আপনাদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধি এবং বাল্যবিবাহের মতো সামাজিক ব্যাধি প্রতিরোধে আপনাদের সক্রিয় ভূমিকা নিশ্চিত করা।

বাল্যবিবাহ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না; এটি একটি শিশুর শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও স্বপ্নকে হত্যা করে। এটি আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন-২০১৭ অনুযায়ী মেয়েদের ১৮ এবং ছেলেদের ২১ বছরের আগে বিয়ে দেওয়া বা রেজিস্ট্রি করা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এই অপরাধের সাথে কোনো নিকাহ রেজিস্ট্রার বা নিবন্ধক জড়িত থাকলে তার লাইসেন্স বাতিলসহ ফৌজদারি মামলা হবে। এখানে কোনো ছাড় নেই, জিরো টলারেন্স।

আমি আপনাদের কাছে তিনটি বিষয়ে কঠোরভাবে অনুরোধ করছি:
বয়স যাচাই: জন্ম নিবন্ধন সনদ, জাতীয় পরিচয়পত্র বা পিইসি/জেএসসি/এসএসসি সার্টিফিকেট ছাড়া কারও বয়স বিশ্বাস করবেন না। মৌখিক বয়স বা এফিডেভিট গ্রহণযোগ্য নয়। সন্দেহ হলে সাথে সাথে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সাথে যোগাযোগ করুন।
তথ্য প্রযুক্তির ব্যবহার: অনলাইন জন্ম নিবন্ধন সার্ভার থেকে বয়স ভেরিফাই করার পদ্ধতি আপনাদের শেখানো হবে। ডিজিটাল পদ্ধতিতে রেজিস্ট্রেশন করুন, যাতে কেন্দ্রীয়ভাবে মনিটরিং করা যায়।
সামাজিক দায়বদ্ধতা: আপনারা সমাজের সম্মানিত ব্যক্তি। বাল্যবিবাহের কুফল সম্পর্কে মসজিদ, মন্দির ও কমিউনিটিতে সচেতনতা তৈরি করুন। বাল্যবিবাহের সংবাদ পেলে বিয়ে পড়ানোর আগে প্রশাসনকে জানান—আপনিই হতে পারেন একজন শিশুর জীবন রক্ষাকারী।

মনে রাখবেন, একটি বাল্যবিবাহ রেজিস্ট্রি করা মানে একটি শিশুর ভবিষ্যৎ অন্ধকারে ঠেলে দেওয়া। আর একটি বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ করা মানে একটি পরিবারকে, একটি প্রজন্মকে বাঁচিয়ে দেওয়া।

নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন আপনাদের পাশে আছে। আপনাদের আইনগত সুরক্ষা, প্রশিক্ষণ ও লজিস্টিক সাপোর্ট আমরা দেব। বিনিময়ে আমরা চাই একটি বাল্যবিবাহমুক্ত নারায়ণগঞ্জ।
এই প্রত্যয় নিয়ে আপনারা কাজ করবেন—এই আশাবাদ ব্যক্ত করি আপনাদের সকলের উপর।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *