কুমিল্লায় চাঁদাবাজির প্রতিবাদ করায় মেলা পরিচালকের উপর সন্ত্রাসী হামলা, লুট ৭২ হাজার টাকা

 

কুমিল্লা প্রতিনিধি :

কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার শাকপুর ইউনিয়নে একটি বৈশাখী মেলার পরিচালককে পরিকল্পিতভাবে পথ আটকে নির্মম মারধর এবং দোকানঘরে আটকে রেখে গুরুতর জখম করেছে একদল সন্ত্রাসী। একই সময়ে তাঁর সঙ্গে থাকা সাক্ষীকেও মারধর করা হয়। দুজনের কাছ থেকে মোট ৭২,৫৬০ টাকা ছিনিয়ে নেওয়া হয়। ঘটনাটি ঘটেছে গত ৯ মে ২০২৬ তারিখ দুপুর সাড়ে বারোটার দিকে বরুড়া থানার শাকপুর সাকিনস্থ ইঞ্জিনিয়ার গেটসংলগ্ন রাস্তার উপর।

ঘটনার পটভূমি,
ভুক্তভোগী আলমগীর হোসেন খন্দকার (৪৮), পিতা-মৃত ফজর আলী খন্দকার, সাং-শাকপুর, ০৮ নং শাকপুর ইউনিয়ন পরিষদ, বরুড়া, কুমিল্লা। তিনি স্থানীয় শাকপুর পুরাতন বাজার হাইস্কুল মাঠে প্রতি বছর একটি বৈশাখী মেলা পরিচালনা করে থাকেন।

জানা গেছে, গত ৮ মে ২০২৬ তারিখ রাত আনুমানিক ৯টার দিকে প্রধান আসামি শাহাদাত হোসেন ও শাহপরান ফয়সালের নেতৃত্বে একটি সন্ত্রাসী দল মেলার ‘ভূতের ঘর’ স্টলে এসে চাঁদা দাবি করে এবং চেয়ার ভাঙচুর করে। আলমগীর হোসেন ও তাঁর সাক্ষী মাজহারুল ইসলাম উপস্থিত হলে সন্ত্রাসীরা হুমকি-ধমকি দিয়ে চলে যায়। পরে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের মাধ্যমে বিষয়টি সাময়িকভাবে মীমাংসা হয়।

পথ আটকে পরিকল্পিত হামলা,
কিন্তু এরপরেও সন্ত্রাসীরা ক্ষান্ত হয়নি। ৯ জুন ২০২৫ তারিখ দুপুরে আলমগীর হোসেন ও তাঁর সঙ্গী মাজহারুল ইসলাম মোটরসাইকেলে ব্যক্তিগত কাজে বরুড়া গিয়ে ফেরার পথে শাকপুরের ইঞ্জিনিয়ার গেটসংলগ্ন রাস্তায় পৌঁছালে পূর্বপরিকল্পনা অনুযায়ী বিবাদীরা মোটরসাইকেল আটকে এলোপাতাড়ি মারধর শুরু করে।

এ সময়, ১ নং আসামি শাহাদাত হোসেন* লোহার রড দিয়ে আলমগীরের কোমরে সজোরে আঘাত করে, যাতে হাড়ভাঙা মারাত্মক জখম হয়।২ নং আসামি শাহপরান ফয়সাল হকিস্টিক দিয়ে তাঁর পিঠে আঘাত করে রক্তাক্ত জখম করে।৪ ও ৫ নং আসামি মাসুদ ও মাহি কাঠের লাঠি দিয়ে হাতে-পায়ে উপর্যুপরি আঘাত করে মাটিতে ফেলে দেয়।৩ নং আসামি শাহ আলম,আলমগীরের লুঙ্গির কোচ থেকে নগদ ৪২,৫৬০ টাকা* ছিনিয়ে নেয়।৭ নং আসামি ইমন হোসেন,পাইপ দিয়ে সাক্ষী মাজহারুলের হাতে মারাত্মক আঘাত করে।৮ থেকে ১০ নং আসামি ও অজ্ঞাতনামা আসামিরা মাজহারুলকে কিল-ঘুষি দিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে ক্ষতবিক্ষত করে।২ নং আসামি শাহপরান ফয়সাল** সাক্ষীর পকেট থেকে আরও ৩০,০০০ টাকা লুট করে নেয়।

 

দোকানঘরে আটকে পুনরায় নির্যাতন,
হামলার পর বিবাদীরা আলমগীর হোসেনকে টানাহেঁচড়া করে পাশের ফারুকের সিমেন্টের দোকানঘরে নিয়ে গিয়ে শাটার বন্ধ করে দেয়। বন্ধ ঘরের ভেতরে পুনরায় নির্মম মারধর করে গুরুতর জখম করা হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়। চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে এলে বিবাদীদের কবল থেকে দুজনকে উদ্ধার করা হয়।

চিকিৎসা ও অভিযোগ দায়ের,
উদ্ধারের পর আলমগীর হোসেন ও মাজহারুল ইসলামকে বরুড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসা শেষে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে পরামর্শ করে আলমগীর হোসেন বরুড়া থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন।

অভিযোগে মোট *১০ জন নামীয় আসামি এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে** বিবাদী করা হয়েছে। সকল আসামি শাকপুর, ০৮ নং শাকপুর ইউনিয়ন পরিষদ, বরুড়া, কুমিল্লার বাসিন্দা।

এলাকায় আতঙ্ক,
এই ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা জানান, অভিযুক্তরা এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। বরুড়া থানা পুলিশ বিষয়টি তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *