মোঃআনজার শাহ
রাজধানীর অসহনীয় যানজটের গিঁট খুলতে এবার শহরের প্রবেশদ্বারেই দাঁড়াচ্ছে নতুন এক নিয়ন্ত্রণরেখা। কেরানীগঞ্জের ঝিলমিল আবাসন প্রকল্প এলাকায় ‘রাজউক ঝিলমিল অস্থায়ী আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপিত হয়েছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) আনুষ্ঠানিকভাবে এ ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) চেয়ারম্যান প্রকৌশলী মোহাম্মদ রিয়াজুল ইসলাম।
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার আলোকে রাজধানীর যানজট হ্রাস এবং আন্তঃজেলা বাস চলাচলে শৃঙ্খলা আনার লক্ষ্যে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পরিকল্পনা অনুযায়ী, দেশের দক্ষিণাঞ্চলের ১৯টি জেলার বাস চলাচলের জন্য কেরানীগঞ্জে গড়ে উঠবে এই অস্থায়ী বাস টার্মিনাল। স্থায়ী টার্মিনাল নির্মাণের আগ পর্যন্ত ঝিলমিল প্রকল্প এলাকাই ব্যবহৃত হবে বলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
টার্মিনালটি চালু হলে দক্ষিণাঞ্চলগামী ও সেখান থেকে আসা বাসসহ বিভিন্ন পরিবহনসেবার ব্যবস্থাপনা আরও গোছানো হবে বলে আশা করা হচ্ছে। এতে আন্তঃজেলা বাসের রাজধানীর কেন্দ্রীয় অংশে প্রবেশ ও চলাচলজনিত চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে এবং সামগ্রিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
কর্তৃপক্ষ জানায়, যানজট নিরসন, গণপরিবহন ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন ও পরিকল্পিত নগরায়ণ নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত উদ্যোগের অংশ হিসেবেই এ কার্যক্রম হাতে নেওয়া হয়েছে। ঝিলমিল প্রকল্পে প্রাথমিকভাবে অস্থায়ী ডিপো ও টার্মিনাল স্থাপনের পরিকল্পনা রয়েছে; পরবর্তীতে বৃহত্তর জায়গায় স্থায়ী টার্মিনাল ও ডিপো নির্মাণের পরিকল্পনাও রয়েছে।
ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক) মোহাম্মদ আনিছুর রহমান। এ ছাড়া ডিএমপি ও রাজউকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও অনুষ্ঠানে যোগ দেন।
রাজধানীর গুলিস্তান ও ফুলবাড়িয়া টার্মিনাল থেকে বাস স্থানান্তরের বিষয়টি ইতিমধ্যেই প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার। চুনকুটিয়ার ঝিলমিল প্রকল্পে ১০ একর জমিতে অস্থায়ী ডিপো তৈরির কাজ শুরু হয়েছে এবং কাজ শেষ হলে সংশ্লিষ্ট বাসগুলো সেখানে স্থানান্তরিত হবে।
পরিবহন বিশ্লেষকদের মতে, টার্মিনাল রাজধানীর বাইরে সরানো হলে শুধু যানজট নয়, দূষণ ও দুর্ঘটনার ঝুঁকিও কমতে পারে। একইসঙ্গে দক্ষিণাঞ্চলের যাত্রীদের জন্য ঢাকায় প্রবেশ ও প্রস্থানের ব্যবস্থা আরও সুশৃঙ্খল হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
তবে টার্মিনাল স্থানান্তরের ফলে যাত্রীদের যাতায়াত ব্যবস্থা, ফিডার সার্ভিস এবং স্থানীয় যোগাযোগ ব্যবস্থা যথাযথভাবে নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ শুধু টার্মিনাল সরালেই যাত্রীসেবার সমস্যা সমাধান হবে না; সমন্বিত পরিবহন ব্যবস্থাও প্রয়োজন।