স্টাফ রিপোর্টার:
রাজধানীর কেরানীগঞ্জ থানাধীন শাক্তা ইউনিয়নের উত্তর বালুরচর এলাকার ঝাউচর গুদারা ঘাটের পাশে রাজউকের কোনো ধরনের অনুমোদন ছাড়াই বহুতলা ভবন নির্মাণের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ওই এলাকার বাসিন্দা সুলতান মিয়ার ছেলে মহিউদ্দিন দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে এই বহুতলা ভবন নির্মাণ করে যাচ্ছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, ভবনটি নির্মাণে রাজউকের অনুমোদিত কোনো নকশা, প্ল্যান বা নির্মাণ অনুমতির সাইনবোর্ড নেই। অথচ দিনের পর দিন নির্বিঘ্নে কাজ চলছে। এলাকাবাসীর অভিযোগ, রাজউকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বিষয়টি জানলেও কোনো ধরনের আইনগত ব্যবস্থা নিচ্ছেন না। বরং তারা চোখ বন্ধ করে অবৈধ নির্মাণ কার্যক্রম চলতে দিচ্ছেন।
স্থানীয়দের দাবি, রাজউকের বিধি অনুযায়ী বহুতলা ভবন নির্মাণের আগে নকশা অনুমোদন, ভূমির শ্রেণি যাচাই, উচ্চতা ও সেটব্যাক নিশ্চিত করা বাধ্যতামূলক। কিন্তু এই ভবনের ক্ষেত্রে এসব নিয়মের কোনোটিই মানা হয়নি। তবুও রহস্যজনক কারণে নির্মাণকাজ বন্ধ হয়নি।
অভিযোগ রয়েছে, সংশ্লিষ্ট পরিদর্শক ও মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা অবৈধ নির্মাণকারীদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের অর্থ গ্রহণ করে তাদের ‘ম্যানেজ’ করে দিচ্ছেন। একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, কেরানীগঞ্জসহ আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় অনুমোদনহীন ভবন নির্মাণের বিনিময়ে লক্ষ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়েছে। এই অবৈধ অর্থ লেনদেনের কারণেই রাজউকের পক্ষ থেকে কার্যকর অভিযান দেখা যাচ্ছে না বলে অভিযোগ উঠেছে।
ভুক্তভোগী কয়েকজন এলাকাবাসী জানান, নিয়ম মেনে ভবন নির্মাণ করতে গেলে রাজউকের বিভিন্ন দপ্তরে বারবার ঘুরতে হয় এবং নানা ধরনের হয়রানির শিকার হতে হয়। অথচ প্রভাবশালী ও অর্থশালী ব্যক্তিরা কোনো অনুমোদন ছাড়াই বহুতলা ভবন নির্মাণ করে যাচ্ছেন। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও বৈষম্যের অনুভূতি তৈরি হয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন,
“আমরা নিয়ম মেনে একতলা বাড়ি তুলতেও রাজউকের ভয়ে থাকি। আর এখানে অনুমোদন ছাড়াই বহুতলা ভবন হচ্ছে, কেউ কিছু বলছে না। দুর্ঘটনা হলে দায় কে নেবে?”
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ ধরনের অপরিকল্পিত ও অনুমোদনহীন ভবন নগর পরিকল্পনার জন্য মারাত্মক হুমকি। অগ্নি নিরাপত্তা, ভূমিকম্প ঝুঁকি, ড্রেনেজ ও রাস্তার সক্ষমতা বিবেচনা না করেই ভবন নির্মাণ করা হলে ভবিষ্যতে বড় ধরনের প্রাণহানির আশঙ্কা থাকে। বিশেষ করে নদী ও জলাভূমি সংলগ্ন এলাকায় অবৈধ বহুতলা ভবন নির্মাণ পরিবেশ ও জননিরাপত্তার জন্য অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ।
এলাকাবাসী দ্রুত অবৈধ ভবন নির্মাণ বন্ধ করে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে রাজউকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভূমিকা তদন্ত করে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।