কোচ-ক্যাপ্টেনকে সাইজ করে ভালো পারফরম্যান্স আশা কীভাবে: সারোয়ার

ক্রীড়া ডেস্ক:

সোনা জয়ের স্বপ্ন নিয়ে জাপানে গিয়েছিল বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। তবে স্বর্ণপদক তো দূরের কথা, এশিয়ান গেমস থেকে এবার খালি হাতেই ফিরতে হচ্ছে নিগার সুলতানা জ্যোতি-মারুফা আক্তারদের।

ব্রোঞ্জপদক জয়ের সুযোগও শেষ হয়েছে পাকিস্তানের কাছে ৩১ রানে হেরে। ফলে নাগোয়ায় দলের হতাশাজনক পারফরম্যান্সে স্বাভাবিকভাবেই কোচ ও খেলোয়াড়দের ওপর চাপ আরও বেড়েছে।

তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচ শেষে মাঠের বাইরের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ নারী দলের প্রধান কোচ সারোয়ার ইমরান।

কিছুদিন ধরেই নিগার সুলতানা জ্যোতির অধিনায়কত্ব নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছিল। এরই মধ্যে অধিনায়কত্ব থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন জ্যোতি। আজকের টি-টোয়েন্টি ম্যাচটিই ছিল অধিনায়ক হিসেবে তার শেষ ম্যাচ।

অন্যদিকে কোচ সারোয়ার ইমরানের সঙ্গে চুক্তির মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী অক্টোবরে। তার চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর সম্ভাবনাও নেই বলে আলোচনা রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে সারোয়ারের প্রশ্ন, কোচ-ক্যাপ্টেনকে ‘সাইজ’ করে দিলে কীভাবে ভালো পারফরম্যান্স আশা করা যায়।

নাগোয়ায় ম্যাচ শেষে সংবাদমাধ্যমকে সারোয়ার বলেন, ‘টুর্নামেন্ট চলাকালীন এমনটা হতে পারে না। আমরা একটা টুর্নামেন্ট খেলছি, হেড কোচ আর ক্যাপ্টেনকে আপনি সাইজ করে দিলেন, তো কীভাবে আপনি (ভালো পারফরম্যান্স) আশা করেন?’

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের নারী ক্রিকেট দলের পারফরম্যান্স ভালো না হওয়ায় জ্যোতি, নাহিদা আক্তারসহ খেলোয়াড়দের সমালোচনাও হয়েছে। এসবের প্রভাব দলের ওপর পড়েছে বলে মনে করেন সারোয়ার।

বাংলাদেশের এই কোচ বলেন, ‘আমাদের সমস্যার শুরুটা হয়েছে এশিয়া কাপ থেকে। শ্রীলঙ্কার সঙ্গে ক্লোজ ম্যাচ হেরেছি। হারার পর থেকে আমাদের নিয়ে বিভিন্ন জায়গায় খবর-টবর এসব নিয়ে। এমনকি ইন্দোনেশিয়া-আরব আমিরাতের মতো দলের সঙ্গে আমরা ১২০-৩০ করতে পারিনি। এটা এখনো ক্যারি করছি আমরা এশিয়ান গেমসে। এটা হয়তো টিমের ওপর, প্লেয়ারদের ওপর প্রভাব পড়তে পারে। আমার মনে হয়, এটা একটা কারণ হতে পারে।’

নারী ক্রিকেটে খেলোয়াড় সংকট নিয়েও হতাশা প্রকাশ করেছেন সারোয়ার। তার মতে, বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট একটি জায়গায় আটকে রয়েছে এবং নতুন খেলোয়াড় তৈরির কাঠামোও যথেষ্ট শক্তিশালী নয়।

হেড কোচ বলেন, ‘আমরা কিন্তু পারছি না, কোনোভাবেই ওই লেভেলে যেতে পারছি না। যে কোনো টিম সহজেই ছয় মারছে, আমাদের টিম কিন্তু ছয় মারতেই পারছে না। যে আগে মারতো, সেও এখন আগের জায়গাতে নেই। নারী ক্রিকেট একটি জায়গায় আটকে রয়েছে। শ্রীলঙ্কায় নারী স্কুল ক্রিকেট চলছে, শত শত খেলোয়াড় খেলছে। আমাদের কিন্তু ও রকম স্ট্রাকচার নেই। নতুন খেলোয়াড় নেই, আমরা ৩০ জনের বেশি প্লেয়ার বের করতে পারি না যে ডাকব।’

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *