নিজস্ব প্রতিবেদক:
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি শুরু করেছেন শিক্ষানবিশ চিকিৎসকেরা। মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক (চলতি দায়িত্ব) মো. জহিরুল হককে বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব দেওয়ার প্রতিবাদে শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টা থেকে তাঁরা এ কর্মবিরতি শুরু করেন। সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত কর্মবিরতি চলছিল।
শিক্ষানবিশ চিকিৎসকেরা জানান, গত বৃহস্পতিবার খুলনা মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক সৈয়দ আমানুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে মো. জহিরুল হককে মেডিসিন বিভাগের বিভাগীয় প্রধানের দায়িত্ব দেওয়ার কথা জানানো হয়। আদেশে বলা হয়, বর্তমান বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক এ বি এম সাইফুল আলম আগামী ৩০ সেপ্টেম্বর অবসরোত্তর ছুটিতে যাবেন। তাঁর শেষ কর্মদিবসে জহিরুল হক দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন।
এর প্রতিবাদে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক কমিটি কর্মবিরতির ঘোষণা দেয়। অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে জহিরুল হকের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা নিয়ে আপত্তি তোলা হয়েছে। তাদের অভিযোগ, তিনি আওয়ামী লীগ ও স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের (স্বাচিপ) সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন এবং জুলাইয়ের আন্দোলনের বিরোধিতা করেছিলেন।
শিক্ষানবিশ চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, অফিস আদেশ বাতিল না হওয়া পর্যন্ত কর্মবিরতি চলবে। তবে হাসপাতালের জরুরি চিকিৎসাসেবা চালু থাকবে বলে জানিয়েছেন তাঁরা।
ইন্টার্ন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশনের আহ্বায়ক কমিটির সদস্যসচিব মো. এস এম কামরান হোসেন বলেন, শিক্ষক হিসেবে জহিরুল হকের একাডেমিক কার্যক্রমে থাকার বিষয়ে তাঁদের আপত্তি নেই। তবে তাঁকে মেডিসিন বিভাগের প্রধান করার আদেশকে তাঁরা অনৈতিক মনে করছেন। তাঁর দাবি, জহিরুল হক স্বাচিপের আজীবন সদস্য এবং জুলাইয়ের আন্দোলনের সময় শিক্ষার্থীদের আন্দোলন থেকে বিরত রাখার চেষ্টা করেছিলেন।
খুলনায় ডেঙ্গুর সংক্রমণ বাড়ছে উল্লেখ করে শিক্ষানবিশ চিকিৎসকেরা বলেন, তাঁরা চান না কর্মবিরতির কারণে রোগীদের চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হোক। তাই দ্রুত বিষয়টি নিষ্পত্তি করে জহিরুল হককে দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা।
অভিযোগের বিষয়ে মো. জহিরুল হক বলেন, ‘অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। জুলাই আন্দোলনের সময় আমি খুলনায় ছিলাম না। আওয়ামী লীগের শেষ দিকে আমাকে শাস্তিমূলক বদলি দিয়ে গোপালগঞ্জে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। স্বাচিপের কেন্দ্রের যে তালিকা আছে, সেখানে আমার কোনো নাম নেই।’
তিনি আরও বলেন, ‘বরং ২০১৪ সালে ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাবের) আজীবন সদস্য হওয়ার জন্য টাকা ও ফরম জমা দিয়েছিলাম। ড্যাবের খসড়া তালিকায় আমার নাম ছিল।’