খোশবাষদ দক্ষিণ ইউনিয়ন ভূমি অফিসের জোহরা নাছরীনের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্যের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লার বরুড়া উপজেলায় ভূমি প্রশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইউনিট খোশবাষদ দক্ষিণ ইউনিয়ন ভূমি অফিসকে ঘিরে নতুন করে ঘুষ বাণিজ্য, হয়রানি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ওই অফিসের উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা জোহরা নাছরীন। তার বিরুদ্ধে সেবাগ্রহীতাদের কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ আদায়, ঘুষ দাবি এবং পরবর্তীতে অর্থ না পেলে আবেদন বাতিল করে দেওয়ার মতো অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে, যা স্থানীয়ভাবে ব্যাপক ক্ষোভ ও আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

বৃদ্ধ ভুক্তভোগীর অভিযোগে চাঞ্চল্য

ভুক্তভোগী আবদুল মজিদ (৭০+), পিতা মৃত মহব্বত আলী, গ্রামের বাড়ি মুগুর্জী, ডাকঘর সরাফতি, থানা বরুড়া, জেলা কুমিল্লা। তিনি একজন অসুস্থ ও বয়োবৃদ্ধ ব্যক্তি। দীর্ঘদিন ধরে ক্রয়কৃত জমির নামজারি ও জমাখারিজ সম্পন্ন করতে গিয়ে তিনি চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেন।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, আবদুল মজিদ ২০২৫ সালের ১৫ অক্টোবর তারিখে বরুড়া উপজেলার মগজী মৌজার ৯২৮ নং বিএস খতিয়ানের অন্তর্ভুক্ত বিভিন্ন দাগে ক্রয়কৃত জমির নামজারি ও জমাখারিজের জন্য আবেদন করেন। যার আবেদন নম্বর ৯৭৩৪০০৩ এবং মোকদ্দমা নম্বর ৭৭৪৬/২৫-২৬।

অর্থ আদায় ও হয়রানির অভিযোগ

ভুক্তভোগীর দাবি অনুযায়ী, আবেদন জমা দেওয়ার পর তিনি একাধিকবার খোশবাষদ দক্ষিণ ইউনিয়ন ভূমি অফিসে যান। সেখানে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জোহরা নাছরীন দ্রুত কাজ সম্পন্ন করে দেওয়ার আশ্বাস দেন। তবে এর বিনিময়ে তার কাছ থেকে অতিরিক্ত অর্থ দাবি করা হয় এবং একাধিক দফায় টাকা গ্রহণ করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

পরবর্তীতে আরও অর্থ দাবি করা হলে ভুক্তভোগী তা দিতে অস্বীকৃতি জানান। এর কিছুদিন পরই তার দাখিলকৃত নামজারি আবেদন অনলাইনে বাতিল করে দেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

বাতিলের কারণ নিয়ে প্রশ্ন

আবেদন বাতিলের কারণ হিসেবে অনলাইন সিস্টেমে উল্লেখ করা হয়—উক্ত খতিয়ানে ৫৭২৭ দাগ নম্বর নেই এবং মালিকানার যথাযথ দালিলিক প্রমাণ উপস্থাপন করা হয়নি।

তবে স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগীর দাবি অনুযায়ী, ওই দাগ নম্বর সংশ্লিষ্ট খতিয়ানে বিদ্যমান এবং আবেদন দাখিলের সময় প্রয়োজনীয় সব কাগজপত্র যথাযথভাবে জমা দেওয়া হয়েছিল। ফলে বাতিলের কারণকে ‘অযৌক্তিক ও সন্দেহজনক’ বলে মনে করছেন অনেকে।

স্থানীয়দের মধ্যে ক্ষোভ

ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর এলাকায় ব্যাপক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, ভূমি অফিসে সেবা নিতে গেলে প্রায়ই দালাল ও কিছু অসাধু কর্মকর্তার মাধ্যমে অতিরিক্ত টাকা দিতে বাধ্য হতে হয়।

একাধিক স্থানীয় বাসিন্দা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ভূমি অফিসে সেবা নয়, বরং হয়রানি ও ঘুষের সংস্কৃতি দীর্ঘদিন ধরেই চলছে। একজন অসুস্থ বৃদ্ধের সঙ্গে এমন আচরণ প্রশাসনিক নৈতিকতার পরিপন্থী বলেও তারা মন্তব্য করেন।

প্রশাসনিক ভাবমূর্তি নিয়ে প্রশ্ন

এ ধরনের অভিযোগ বারবার সামনে আসায় স্থানীয় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে। সাধারণ মানুষের মতে, ভূমি অফিসগুলোতে ডিজিটাল সিস্টেম চালু হলেও মাঠ পর্যায়ে দুর্নীতি ও অনিয়ম পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।

ভূমি সেবা খাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত না হলে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়বে বলেও মনে করছেন সচেতন মহল।

পুনরায় আবেদন ও তদন্তের দাবি

ভুক্তভোগী আবদুল মজিদ পুনরায় নামজারি আবেদন দাখিল করেছেন এবং দ্রুত নিষ্পত্তির দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি পূর্বের ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে অভিযুক্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণেরও দাবি তুলেছেন তিনি।

তদন্তের আহ্বান

স্থানীয় সচেতন নাগরিক ও ভুক্তভোগীরা মনে করছেন, বিষয়টি নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা হলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে। একই সঙ্গে দোষী প্রমাণিত হলে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের মাধ্যমে ভূমি প্রশাসনের ওপর জনগণের আস্থা পুনরুদ্ধার করা সম্ভব হবে।

এদিকে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *