গাজী মামুন:
গাজীপুরের ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে অনধিকার প্রবেশ করে ব্যাপক ভাঙচুর, কর্তব্যরত চিকিৎসক, নার্স ও স্টাফদের মারধর এবং হত্যার চেষ্টার অভিযোগে আদালতে মামলা দায়ের করা হয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষে ডা. শেখ মাহমুদ হাসান বাদী হয়ে আজ ২৪ মে (রবিবার) গাজীপুর বিজ্ঞ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত নং-৫ এ মামলাটি দায়ের করেন (সিআর মোকদ্দমা নং- ১৮৩/২৬)।
বিজ্ঞ আদালত মামলাটি আমলে নিয়ে টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) ঘটনাটি সঠিক তদন্ত করে আগামী ৩০ জুনের মধ্যে আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ প্রদান করেছেন। একই সাথে তদন্ত প্রতিবেদন প্রাপ্তি সাপেক্ষে হাসপাতালের সার্বিক নিরাপত্তা জোরদারে প্রয়োজনীয় আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে আশ্বস্ত করেছেন আদালত।
মামলায় অভিযুক্ত আসামিরা হলেন— মো. রায়হান হোসেন ও হাসনাহেনা (উভয়ের পিতা হারুনুর রশিদ), মাহমুদ হোসাইন (পিতা আলী হোসেন), আব্দুর রহমান (পিতা মৃত করিম উদ্দিন), সাজু মিয়া (পিতা হাবিবুর রহমান) এবং বাবুল মিয়া (পিতা মফিজুল ইসলাম)। এই মামলায় হাসপাতালটির চিকিৎসক ডা. পীযূষ পাল, মেডিকেল অফিসার ডা. আলামিন, স্টাফ নার্স মারুফা বেগম ও মেরিনা খাতুন এবং ওয়ার্ড বয় মো. তাহসিন মাহমুদ রাব্বিসহ বেশ কয়েকজনকে সাক্ষী করা হয়েছে।
মামলার আরজি ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ২১ ডিসেম্বর রাহেলা (৬০) নামের এক নারী রোগী তীব্র ব্যথা, জ্বর, বমি, শারীরিক অস্থিরতা ও ডায়াবেটিসসহ বিভিন্ন জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে দীর্ঘ ১০ দিন নিবিড় চিকিৎসাধীন থাকার পর গত ২৯ ডিসেম্বর রাত ১টা ৫৩ মিনিটে তিনি মারা যান।
অভিযোগ রয়েছে, রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে ক্ষিপ্ত হয়ে তার ছেলে মো. রায়হান হোসেন ও মেয়ে হাসনাহেনাসহ আসামিরা দলবল নিয়ে হাসপাতালের ভেতর অনধিকার প্রবেশ করে। তারা হাসপাতালের জরুরি (ইমার্জেন্সি) বিভাগ, তিনতলার আইসিইউ (ICU) এবং পঞ্চম তলার সাধারণ ওয়ার্ডে অতর্কিত হামলা ও ব্যাপক ভাঙচুর চালায়। এতে হাসপাতালের চিকিৎসা সরঞ্জাম ও আসবাবপত্রসহ সর্বমোট ১ লাখ ৮৩ হাজার টাকার আর্থিক ক্ষতিসাধন করা হয়।
মামলার এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়, ভাঙচুরের সময় আসামিরা কর্তব্যরত চিকিৎসক, নার্স ও ওয়ার্ড বয়দের ওপর চড়াও হন এবং তাদের পিটিয়ে নীলাফুলা জখম করেন। এক পর্যায়ে ১ নম্বর আসামি মো. রায়হান হোসেন কর্তব্যরত ওয়ার্ড বয় সোহাইনকে হত্যার উদ্দেশ্যে গলা চেপে ধরেন। পরবর্তীতে হাসপাতালের অন্যান্য চিকিৎসক ও কর্তৃপক্ষ এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করেন।
বাদী ডা. শেখ মাহমুদ হাসান জানান, চিকিৎসকেরা মানুষের জীবন বাঁচানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করেন। কিন্তু রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে এভাবে হাসপাতালে ভাঙচুর এবং চিকিৎসকদের ওপর হামলা অত্যন্ত বর্বরোচিত। তিনি এই ন্যাক্কারজনক ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেন এবং কর্মক্ষেত্রে চিকিৎসক ও চিকিৎসা কর্মীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশের প্রচলিত আইনের কঠোর প্রয়োগের জন্য বিজ্ঞ আদালতের কাছে আর্জি জানান।