বরুড়ায় বর্ণাঢ্য বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬, সবুজ বাংলাদেশ গড়ার সংকল্প

মোঃআনজার শাহ

বরুড়ায় সোমবার (২৭ জুলাই) “বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ” প্রতিপাদ্য নিয়ে অনুষ্ঠিত বর্ণাঢ্য বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬-এ উপজেলা প্রশাসন ও সামাজিক বন বিভাগের যৌথ উদ্যোগে স্কুল-কলেজের ছাত্রছাত্রী, জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা ও স্থানীয় মানুষদের অংশগ্রহণে সবুজ বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার দৃঢ়ভাবে প্রকাশ পেয়েছে।

বরুড়া (কুমিল্লা)  উপজেলা চত্বরকে ঢেকে রাখা র‌্যালি, আলোচনা সভা ও বৃক্ষমেলার মধ্য দিয়ে বরুড়ায় আজ সোমবার “বৃক্ষরোপণে সাজাই দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ” প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে পালন করা হয় বৃক্ষরোপণ অভিযান ও বৃক্ষমেলা-২০২৬। উপজেলা প্রশাসন ও সামাজিক বন বিভাগের যৌথ আয়োজনে অনুষ্ঠিত অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, শিক্ষার্থী, জনপ্রতিনিধি, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং সামাজিক ও রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেন এবং উৎসবমুখর পরিবেশ তৈরি করেন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. আসাদুজ্জামান রনি বলেন, বৃক্ষ কেবল পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা করে না, এটি আগামী প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ ও সুন্দর পৃথিবী গড়ার অন্যতম হাতিয়ার। জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলায় ব্যাপক বৃক্ষরোপণের বিকল্প নেই তিনি যোগ করেন, “একটি গাছ মানেই একটি জীবনের নিরাপত্তা, একটি শ্বাস নেওয়ার নিশ্চয়তা এবং একটি সবুজ ভবিষ্যতের প্রতিশ্রুতি। প্রত্যেক নাগরিককে অন্তত একটি করে গাছ রোপণ ও পরিচর্যার দায়িত্ব নিতে হবে।”
আলোচকরা উদ্বুদ্ধ করেন যে, আজ রোপিত চারাগাছই ভবিষ্যতে ছায়া, অক্সিজেন ও বাসস্থানের উৎসে পরিণত হবে। তারা আরও বলেন, বৃক্ষরোপণকে শুধুই একদিনের কর্মসূচি হিসেবে না দেখে দৈনন্দিন অনুশীলনে পরিণত করতে হবে এটি হবে সবুজ, টেকসই ও পরিবেশবান্ধব বাংলাদেশের ভিত্তি।

উপজেলা বিএনপি সভাপতি কায়সার আলম সেলিম বলেন, একটি গাছ মানুষকে প্রকৃতির সঙ্গে ও মানবতার সঙ্গে সংযুক্ত রাখে। পরিবেশবান্ধব ও টেকসই বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে বৃক্ষরোপণকে গণমানুষের আন্দোলনে রূপ দিতে হবে। তিনি দল-মত নির্বিশেষে সবাইকে এই উদ্যোগে অংশগ্রহণের আহ্বান জানান এবং উল্লেখ করেন, “একটি গাছ রোপণ মানে একটি সম্ভাবনার বীজ বপন করা।”

অনুষ্ঠানে বক্তারা আরও বলেন, বৃক্ষরোপণ জোরালো রাজনৈতিক বা সামাজিক মেসেজ নয়, এটি নৈতিক দায়িত্ব; সন্তানেরা যাতে নির্মল ও সবুজ পৃথিবী পায় তা নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য। তারা ব্যক্তিসহ পরিবার ও প্রতিষ্ঠান পর্যায়ে নিয়মিতভাবে গাছ রোপণ ও পরিচর্যা নিশ্চিত করার পরামর্শ দেন। অনুষ্ঠান জুড়ে পরিবেশ সচেতনতা বাড়াতে বিভিন্ন পোস্টার, নির্দেশনা ও গাছরোপণ-বিষয়ক প্রচারণা পরিচালনা করা হয়।

বৃক্ষমেলায় বিভিন্ন প্রজাতির চারা ও গাছের চারা বিনামূল্যে বিতরণ করা হয় এবং অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে গাছ রোপণ ও পরিচর্যার বিষয়ে কার্যকর পদ্ধতি নিয়ে সংক্ষিপ্ত প্রশিক্ষণ সেশন পরিচালিত হয়। স্থানীয় স্কুল-পাঠশালা থেকে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীরা র‌্যালি ও পরিবেশ সংরক্ষণবিষয়ক সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করে উৎসবমুখর পরিবেশ সুস্থিত করে।
উপজেলা প্রশাসন ও সামাজিক বন বিভাগ ভবিষ্যতে নিয়মিত বৃক্ষরোপণ ও রক্ষণাবেক্ষণ কার্যক্রম পরিচালনা করা এবং স্থানীয় সম্প্রদায়ের সঙ্গে সমন্বয়ে সবুজ আচ্ছাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। অনুষ্ঠানের সমাপনী বক্তৃতায় সবাইকে সবুজে গড়া করোনাহীন, টেকসই ও সমৃদ্ধশালী বাংলাদেশ নির্মাণে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানানো হয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *