স্টাফ রিপোর্টার:
রাজধানীর ব্যস্ততম এলাকা গুলিস্তানে বাস থেকে নিয়মিত মাসোহারা আদায়ের অভিযোগ উঠেছে ট্রাফিক ইন্সপেক্টর (টিআই) মেহেদীর বিরুদ্ধে। গাউছিয়া ও মদনপুর থেকে গুলিস্তানগামী বিভিন্ন বাসের চালক, হেলপার ও মালিকদের অভিযোগ, প্রতিটি গাড়ি থেকে মাসে ৫ হাজার টাকা করে নেওয়া হয়। এ ছাড়া গুলিস্তান ট্রাফিক বক্সের সামনে দিয়ে গাড়ি ঘোরানোর জন্য প্রতিটি বাস থেকে ৬০ টাকা করে আদায়ের অভিযোগও করেছেন তাঁরা।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন বাসচালক, হেলপার ও মালিক জানান, মাসিক নির্ধারিত টাকা না দিলে বিভিন্ন অজুহাতে মামলা ও হয়রানির ভয় দেখানো হয়। তাঁদের দাবি, গাড়ির কাগজপত্র ঠিক থাকলেও টাকা দিতে বাধ্য করা হয়।
অভিযোগকারীদের ভাষ্য, গুলিস্তান ট্রাফিক বক্সের সামনে দিয়ে বাস ঘোরানোর ক্ষেত্রে ৬০ টাকা করে নেওয়া হয়। টাকা না দিলে বক্সের সামনে দিয়ে গাড়ি ঘোরানোর সুযোগ দেওয়া হয় না; বরং অন্য জায়গা দিয়ে ঘুরে আসতে বলা হয়। ফলে বাধ্য হয়ে চালকেরা টাকা দেন।
তাঁদের আরও অভিযোগ, গাউছিয়া ও মদনপুর থেকে গুলিস্তানে চলাচলকারী কিছু বাসের অবস্থা জরাজীর্ণ। এসব গাড়ি রাজধানীর সড়কে চলাচলের উপযোগী কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। তবে নিয়মিত অর্থ দেওয়ার কারণে সংশ্লিষ্ট বাসগুলোর বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারীরা।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে গত শুক্রবার (৬ নভেম্বর) বিকেল আনুমানিক ৪টা ১০ মিনিটে গুলিস্তান ট্রাফিক বক্সে সরেজমিনে যান প্রতিবেদক। এ সময় টিআই মেহেদীকে পাশের একটি কক্ষে খাটের ওপর শুয়ে থাকতে দেখা যায় । তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) সুজনকেও ট্রাফিক বক্সের ভেতরে এসি চালু অবস্থায় ঘুমিয়ে থাকতে দেখা যায়।
পরে টিআই মেহেদীর সঙ্গে কথা বলার জন্য একাধিকবার মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। ফলে তাঁর বক্তব্য পাওয়া সম্ভব হয়নি।