মোঃ আনজার শাহ:
বরুড়ার মাটিতে একসময় যারা বই-খাতা কাঁধে নিয়ে স্বপ্ন বুনেছিলেন, সময়ের পরিক্রমায় সেই স্বপ্নই আজ বাস্তব। বরুড়ার সেই কৃতী ও মেধাবী সন্তানরা আজ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রতিষ্ঠিত বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক হিসেবে মানুষের সেবায় নিরলস কাজ করে যাচ্ছেন। সাফল্যের শীর্ষে পৌঁছেও তাঁরা ভোলেননি নিজের শিকড়কে—ভোলেননি বরুড়ার সেই চেনা মানুষগুলোকে।
রবিবার (২৬ এপ্রিল ২০২৬) বিকেলে গৃহায়ণ ও গণপূর্তমন্ত্রী এবং কুমিল্লা-৮ বরুড়া আসনের সংসদ সদস্য জাকারিয়া তাহেরের কার্যালয়ে সেই কৃতী চিকিৎসকরা একত্রিত হন এবং মন্ত্রীকে ফুলেল শুভেচ্ছায় বরণ করে নেন। শুভেচ্ছা বিনিময়ের এই মুহূর্তটি হয়ে ওঠে আবেগ, উষ্ণতা ও মানবিক বন্ধনের এক অনন্য মিলনমেলা।
ছাত্রজীবনের মেধা আজ জাতির সম্পদ। শুভেচ্ছা জানাতে আসা চিকিৎসকরা প্রত্যেকেই বরুড়ার গর্বিত সন্তান। ছাত্রজীবনে তাঁরা ছিলেন সময়ের সেরা মেধাবী শিক্ষার্থী। কঠোর পরিশ্রম, অদম্য মনোবল ও মেধার শক্তিকে সম্বল করে তাঁরা আজ চিকিৎসাবিজ্ঞানের বিভিন্ন শাখায় বিশেষজ্ঞ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত এবং দেশের চিকিৎসাসেবায় অতুলনীয় অবদান রেখে চলেছেন। বরুড়ার এই কৃতী সন্তানরা আজ শুধু পরিবারের নয়, গোটা বরুড়াবাসীর গর্বের উৎস।
যাঁরা উপস্থিত ছিলেন:
এই হৃদয়গ্রাহী শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ডা. সোলাইমান, ডা. শাহজাহান, ডা. কামাল হোসেন, ডা. আল আমিন, ডা. শহিদ, ডা. উত্তমসহ আরও অনেক বিশিষ্ট ও অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক।
মানবতার ডাকে সাড়া—ঈদের পরেই বরুড়ায় ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প। শুধু শুভেচ্ছা বিনিময়েই সীমাবদ্ধ থাকেননি এই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা। তাঁরা ঘোষণা দিয়েছেন এক মহৎ ও অনুপ্রেরণামূলক উদ্যোগের। আসন্ন ঈদুল আজহার দুই দিন পর বরুড়ার ঐতিহ্যবাহী ঝলম উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ মাঠে অনুষ্ঠিত হবে একটি বিশেষ বিনামূল্যে মেডিকেল ক্যাম্প।
এমকেএম আবু তাহের ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে আয়োজিত এই ক্যাম্পে বরুড়ার অসহায়, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষেরা দেশের সেরা বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের কাছ থেকে সম্পূর্ণ বিনামূল্যে উন্নত চিকিৎসাসেবা পাবেন। যাঁরা অর্থাভাবে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের কাছে যেতে পারেন না, এই ক্যাম্প তাঁদের জন্য হবে এক অমূল্য সুযোগ ও আশীর্বাদ।
শিকড়ের টানে ফেরা—মানুষের জন্য চিকিৎসকের হৃদয়:
জীবনের ব্যস্ততা ও কর্মের চাপ উপেক্ষা করে নিজের শিকড়কে আঁকড়ে ধরে সাধারণ মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এই মহৎ প্রচেষ্টা ইতোমধ্যেই বরুড়াবাসীর মনে গভীর আবেগ ও কৃতজ্ঞতার সঞ্চার করেছে। বরুড়ার এই কৃতী চিকিৎসকরা আজ প্রমাণ করছেন, সত্যিকারের মানুষ সেই, যে সাফল্যের পরও ভুলে না যায় তার মাটি ও মানুষকে।
এলাকাবাসী গভীর আশাবাদ ও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে প্রত্যাশা করছেন, এমকেএম আবু তাহের ফাউন্ডেশনের এই ফ্রি মেডিকেল ক্যাম্প বরুড়ার স্বাস্থ্যসেবা-বঞ্চিত মানুষের জীবনে নতুন আলো ও আশার সঞ্চার করবে এবং এই মানবিক যাত্রা ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।