গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি:
গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলায় শরিফা ইসলাম (২০) নামে এক কলেজছাত্রীর ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) সকালে উপজেলার উনিশিয়া গ্রামের বাড়ির পেছনের একটি কাঁঠালগাছ থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
শরিফা ইসলাম উপজেলার উনিশিয়া গ্রামের নুরুল ইসলামের মেয়ে। তিনি কোটালীপাড়া আদর্শ সরকারি কলেজের বাংলা বিভাগের স্নাতক (সম্মান) দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন।
পরিবারের সদস্যরা জানান, শনিবার সকালে বাড়ির পেছনে কাঁঠালগাছের সঙ্গে শরিফাকে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান তাঁরা। পরে তাঁকে উদ্ধার করে কোটালীপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
শরিফার বড় বোন মাহমুদা খানম জানান, চলতি মাসের ২৮ তারিখ থেকে শরিফার সম্মান দ্বিতীয় বর্ষের পরীক্ষা শুরু হওয়ার কথা ছিল। পরীক্ষার প্রস্তুতি ভালো না থাকায় সে দুশ্চিন্তায় ছিল। এ কারণে সে আত্মহত্যা করে থাকতে পারে বলে পরিবারের ধারণা।
ঘটনার পর শরিফার পড়ার টেবিলে মা-বাবার উদ্দেশে লেখা একটি চিরকুট পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে পরিবার। সেখানে পরীক্ষার প্রস্তুতি ও ফলাফল নিয়ে উদ্বেগের কথা উল্লেখ ছিল।
চিরকুটে শরিফা লিখেছেন, ‘২৮ তারিখ আমার পরীক্ষা, আজ ১৮ তারিখ চলছে। এখন পর্যন্ত সিলেবাস কমপ্লিট করতে পারি নাই। পরীক্ষা দিলে আমার রেজাল্ট ভালো হবে না। আর রেজাল্ট ভালো না হলে তোমরা ও স্যার–ম্যামদের সামনে কীভাবে গিয়ে দাঁড়াব। তাই আমি তোমাদের কষ্ট দিয়ে চলে গেলাম।’
পুকুর থেকে যুবকের মরদেহ উদ্ধার
এদিকে শনিবার সকালে কোটালীপাড়া পৌর এলাকার একটি পুকুর থেকে মিরাজুল ইসলাম খলিফা (২৪) নামে এক যুবকের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি শিমুলবাড়ি গ্রামের লাল মিয়া খলিফার ছেলে।
মিরাজুলের বড় বোন নূপুর বেগম জানান, তাঁর ভাই মাদকাসক্ত ছিলেন। মাদকের টাকা না পেলে পরিবারের সদস্যদের মারধর এবং ঘরবাড়ি ভাঙচুর করতেন তিনি। গত শুক্রবার দুপুরে মায়ের কাছ থেকে ২০০ টাকা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন মিরাজুল। এরপর রাতে আর বাড়িতে ফেরেননি।
শনিবার সকালে এলাকাবাসী বাড়ির পাশের পুকুরে মিরাজুলের মরদেহ ভাসতে দেখে পুলিশকে খবর দেন। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
নূপুর বেগম আরও জানান, মাদকসেবনের কারণে প্রায় এক বছর আগে মিরাজুলের সঙ্গে তাঁর স্ত্রীর বিচ্ছেদ হয়। তাঁদের দুই সন্তান বর্তমানে মায়ের কাছে থাকে।
কোটালীপাড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রিয়াদ মাহমুদ বলেন, মিরাজুলের মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য গোপালগঞ্জ সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
অন্যদিকে শরিফা ইসলামকে মৃত্যুর ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা হয়েছে বলেও জানান ওসি।