গোলাপবাগে রাজউকের বিধিমালা উপেক্ষা করে অবৈধ ভবন নির্মাণ, জননিরাপত্তা নিয়ে চরম উদ্বেগ

স্টাফ রিপোর্টার:

রাজধানীর ঢাকা দক্ষিণ সিটির ব্রাহ্মণচিরণ এলাকার ২৯/১/এ, গোলাপবাগ, ঢাকা–১২০৩ নম্বর ভবনের পূর্ব পাশে রাজউকের ইমারত নির্মাণ বিধিমালা তোয়াক্কা না করেই একটি অবৈধ ভবনের নির্মাণকাজ দীর্ঘদিন ধরে চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, কোনো ধরনের বৈধ অনুমোদন, নকশা বা নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছাড়াই প্রকাশ্যেই নির্মাণকাজ চালাচ্ছে সংশ্লিষ্টরা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, নির্মাণাধীন ভবনটিতে রাজউকের নির্ধারিত সেটব্যাক, উচ্চতা সীমা ও কাঠামোগত নিরাপত্তা বিধি সম্পূর্ণভাবে উপেক্ষা করা হচ্ছে। নির্মাণস্থলে নেই কোনো সতর্কতামূলক সাইনবোর্ড, নিরাপত্তা বেষ্টনী, সেফটি নেট কিংবা শ্রমিকদের জন্য প্রয়োজনীয় সুরক্ষা সামগ্রী। এমনকি ভবন নির্মাণের অনুমোদন সংক্রান্ত কোনো নথিপত্রও দৃশ্যমান নয়।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, এই অবৈধ নির্মাণের কারণে আশপাশের ভবনের বাসিন্দা ও পথচারীদের মধ্যে চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। যেকোনো সময় দুর্ঘটনা ঘটতে পারে—এই আশঙ্কায় অনেকেই আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। বিশেষ করে সরু রাস্তার পাশে ও ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় এভাবে অনিরাপদ নির্মাণকাজ চলতে থাকায় শিশু, বয়স্ক ও পথচারীদের জীবন ঝুঁকির মুখে পড়ছে।

স্থানীয়রা আরও জানান, বিষয়টি একাধিকবার রাজউকসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হলেও এখন পর্যন্ত কোনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। বরং প্রশাসনের নীরবতার সুযোগ নিয়ে কোনো বাধা ছাড়াই নির্মাণকাজ পুরোদমে চলমান রয়েছে। এতে করে প্রশ্ন উঠেছে—কীভাবে প্রশাসনের চোখের সামনে এমন অবৈধ কাজ দিনের পর দিন চলতে পারে? তবে কি এর পেছনে কোনো প্রভাবশালী মহলের ছত্রছায়া রয়েছে?

নির্মাণ ও নগর পরিকল্পনা বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অনুমোদনহীন ও বিধি লঙ্ঘন করে গড়ে ওঠা ভবন ভবিষ্যতে বড় ধরনের দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে। অপরিকল্পিত নির্মাণ শুধু সংশ্লিষ্ট ভবনের জন্য নয়, আশপাশের ভবন ও পুরো এলাকার জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করে। অতীতে ঢাকায় এ ধরনের অবৈধ নির্মাণের কারণে ভবন ধস, ফাটল ও প্রাণহানির একাধিক নজির রয়েছে।

এ বিষয়ে রাজউকের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের বক্তব্য জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। তবে এলাকাবাসীর দাবি, অবিলম্বে নির্মাণকাজ বন্ধ করে তদন্ত করতে হবে এবং যারা এই অবৈধ নির্মাণের সঙ্গে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে অপর প্রান্ত থেকে একজন ব্যক্তি ফোন রিসিভ করেন। তিনি দাবি করেন, নির্মাণাধীন ভবনটি কোনো ধরনের নিয়মনীতি লঙ্ঘন করেনি। তার ভাষ্য অনুযায়ী, “আমাদের এই ভবনটি সম্পূর্ণ নিয়ম মেনেই তৈরি হচ্ছে। আমাদের সঙ্গে কিছু সাংবাদিকও পার্টনার হিসেবে যুক্ত আছেন। আপনারা নিউজ করলে আমাদের কোনো সমস্যা নেই।”

তবে কথোপকথনের একপর্যায়ে তিনি নিজেকে প্রভাবশালী পরিচয়ে উপস্থাপন করে বলেন, “আমি ডিফেন্সে রয়েছি। আপনারা নিউজ করার পর যদি প্রকাশ্যে আসে যে নিউজটি ফেইক, তাহলে আপনারাও পার পাবেন না।”
এ সময় তার বক্তব্যে একধরনের হুমকির সুর লক্ষ্য করা যায় বলে অভিযোগ।

পরবর্তীতে তাকে জিজ্ঞাসা করা হলে—তিনি কোন ডিফেন্সে কর্মরত, তখন জবাবে তিনি বলেন, “আমি এয়ার ডিফেন্সে আছি।”

এখন প্রশ্ন একটাই—গোলাপবাগে চলমান এই অবৈধ নির্মাণের বিরুদ্ধে আদৌ কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে, নাকি নিয়ম লঙ্ঘনের এই সংস্কৃতি আরও একধাপ এগিয়ে যাবে? জননিরাপত্তা রক্ষায় প্রশাসনের কার্যকর ভূমিকার দিকেই তাকিয়ে আছে এলাকাবাসী।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *