ক্রাইম রিপোর্টার:
গৌরীপুর উপজেলা-এ জমি ও পুকুর দখলকে কেন্দ্র করে দায়ের করা অভিযোগের জেরে বাদীকে মামলা তুলে নিতে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে এবং ভুক্তভোগী পরিবার নিরাপত্তাহীনতায় দিন কাটাচ্ছে বলে জানা গেছে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, উপজেলার মাওয়া ইউনিয়ন-এর বড়ই কান্দা গ্রামের মৃত আব্দুল হামিদের ছেলে মোঃ রিপন মিয়া গত ২৫ মার্চ ২০২৬ তারিখে গৌরীপুর থানা-এর অফিসার ইনচার্জ বরাবর একটি লিখিত অভিযোগ দাখিল করেন। অভিযোগে একই গ্রামের মৃত জালাল উদ্দিনের ছেলে মোঃ রুবেল মিয়া সহ তার সহযোগীদের আসামি করা হয়।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, দীর্ঘদিন ধরে রিপন মিয়া ও তার পরিবার পুকুরসহ সংশ্লিষ্ট জমি সাফ-কবলা মূলে ভোগদখল করে আসছিলেন। কিন্তু সম্প্রতি প্রতিপক্ষ রুবেল মিয়া ও তার লোকজন জোরপূর্বক ওই জমি দখল করে নেয় এবং পুকুরপাড়ে থাকা বিভিন্ন প্রজাতির গাছ কেটে সেখানে ঘর নির্মাণ করে বলে অভিযোগ উঠেছে।
ঘটনার সময় রিপন মিয়া ও তার ভাই বাড়িতে না থাকায় এই সুযোগে প্রতিপক্ষরা সংঘবদ্ধভাবে এ দখল কার্যক্রম চালায় বলে ভুক্তভোগী পরিবার দাবি করেছে। পরে রিপন মিয়া বিষয়টি জানতে পেরে প্রতিবাদ করলে তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয় এবং দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে হামলার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় থানা পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। তদন্তকারী এক কর্মকর্তা প্রাথমিকভাবে অভিযোগের সত্যতা পেয়েছেন বলে জানা গেছে।
অভিযোগে যাদের আসামি করা হয়েছে তারা হলেন— মোঃ রুবেল মিয়া, সুহেল মিয়া, মুরাদ মিয়া, একদিন মিয়া, মোছাঃ আয়শা আক্তার, মদিনা আক্তার, ঝর্না আক্তার, মোঃ দিন আলী ও মোঃ তৌহিদ মিয়া।
ঘটনার পর ঢাকা থেকে প্রকাশিত বিভিন্ন জাতীয় দৈনিক পত্রিকার সাংবাদিক ও মানবাধিকার কর্মীরা সরেজমিনে গিয়ে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলেন। এ সময় গ্রামবাসীরা অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, “আমরা বিচার চাই, অপরাধীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।”
ভুক্তভোগী রিপন মিয়া ও তার পরিবারের সদস্যরা জানান, আসামিদের দাপটে তারা চরম ভীতিকর পরিস্থিতির মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। তাদেরকে প্রতিনিয়ত মামলা তুলে নিতে চাপ দেওয়া হচ্ছে এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও তারা অভিযোগ করেন।
পরিবারটি জানায়, তারা ন্যায়বিচারের আশায় জেলা পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দ্বারস্থ হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। একই সঙ্গে যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা এড়াতে প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
এদিকে স্থানীয়দের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে যে কোনো সময় বড় ধরনের সংঘর্ষ বা দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।