
খসরু মৃধা:
স্থানীয় সরকারের সবচেয়ে তৃণমূল স্তর হচ্ছে ইউনিয়ন পরিষদ। পরিষদের গ্রাম আদালতে কম খরচে ও স্বল্প সময়ে বিরোধ নিষ্পত্তি করা হয়। ছোট ছোট সমস্যা সমাধানে গ্রাম আদালত একটি কার্যকর ব্যবস্থা। এখানে আবেদনকারী ও প্রতিপক্ষের পক্ষ থেকে দুজন করে চারজন এবং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানসহ মোট পাঁচজন নিয়ে গ্রাম আদালতের প্যানেল গঠিত হয়। নারীর স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় হলে গ্রাম আদালত গঠনের ক্ষেত্রে নারী সদস্যের মনোনয়ন বাধ্যতামূলক।
মাদক কোনো সমাধান নয়; বরং এটি জীবন ধ্বংসের অন্যতম কারণ। মাদকাসক্ত ব্যক্তি, পরিবার ও সমাজকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। তাই মাদকমুক্ত সমাজ গড়তে হলে পরিবার থেকে শুরু করে সামাজিকভাবে সবাইকে একযোগে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে।
বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন, ২০১৭ এবং বাল্যবিবাহের কুফল ও সচেতনতা বিষয়ে আলোচনায় তিনি বলেন, “২০-তে বুড়ি নয়, ১৮ বছরের নিচে মেয়েদের বিয়ে নয়।” আগামীতে যাতে বাল্যবিবাহ না হয়, সে বিষয়ে উপস্থিত সবাইকে সচেতন থাকতে হবে।
গাজীপুরের কালীগঞ্জে পরিবার পরিকল্পনা, বাল্যবিবাহ নিরোধ, মাদকবিরোধী সচেতনতা ও গ্রাম আদালত বিষয়ে আয়োজিত এক সচেতনতামূলক সভায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এটিএম কামরুল ইসলাম এসব কথা বলেন।
মঙ্গলবার (৭ জুলাই) সকালে উপজেলা প্রশাসন ও বক্তারপুর ইউনিয়ন পরিষদের আয়োজনে বেরুয়া ঈদগাহ মাঠে অনুষ্ঠিত সভায় স্থানীয় চেয়ারম্যান মো. আতিকুর রহমান আকন্দ ফারুকের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কালীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এটিএম কামরুল ইসলাম।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন গাজীপুর জেলা পরিবার পরিকল্পনা বিভাগের উপপরিচালক আবু তাহের মো. সানাউল্লাহ নূরী, কালীগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. জাকির হোসেন, উপজেলা প্রকৌশলী মো. রেজাউল হক, উপজেলা তথ্যসেবা কর্মকর্তা সোহা তামান্না এবং উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা নাহিদা খাতুন।
উপজেলা মহিলা সংস্থার অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জেসমিন বেগমের সঞ্চালনায় মো. জাকির হোসেন বলেন, “মাদকমুক্ত কালীগঞ্জ গড়ি, সুস্থ-সবল জীবন গড়ি। মাদক শুধু একজনকে ধ্বংস করে না, একটি পরিবার ও একটি সমাজকে ধ্বংস করে দেয়। একটি ছেলে মাদকে জড়িয়ে পড়লে শুধু সে-ই নষ্ট হয় না, তার বাবা-মায়ের স্বপ্ন ও তার ভবিষ্যৎও শেষ হয়ে যায়। তাই মাদকের বিরুদ্ধে লড়াই মানে নিজের ভবিষ্যৎ বাঁচানোর লড়াই।”
মো. আতিকুর রহমান আকন্দ ফারুক বলেন, গ্রাম আদালতে দেওয়ানি ও ফৌজদারি—উভয় ধরনের বিরোধের নিষ্পত্তি হতে পারে। এখানে নিজের কথা নিজেই বলা যায়, আইনজীবীর প্রয়োজন হয় না। গ্রাম আদালতে দেওয়ানি মামলার জন্য ফি ২০ টাকা এবং ফৌজদারি মামলার জন্য ফি ১০ টাকা।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ের উপপ্রশাসনিক কর্মকর্তা মো. হুমায়ুন শিকদার, জেলা বিএনপির সাবেক প্রবাসী কল্যাণ সম্পাদক মো. গোলজার হোসেন মোল্লা, উপজেলা বিএনপির সদস্য কাজী মাহাবুর রহমান সবুজ, বক্তারপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আহমদুল কবির খান নাঈম, উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক নাঈম শাহরিয়ার মাসুম, জেলা ছাত্রদলের সদস্য নাদিম হাসানসহ উপজেলার বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য এবং স্থানীয় বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ।