রিপোর্টার :মোঃ আনজার শাহ
প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের অধীনে সরকারি সেবা নিতে গিয়ে ঘুষের ফাঁদে পড়েন এক প্রবাসীর স্ত্রী। তবে এবার দুর্নীতিবাজদের সেই অপকর্ম ধামাচাপা দেওয়ার সুযোগ মেলেনি। অভিযোগ পাওয়া মাত্রই ঘটনাস্থলে ছুটে গিয়ে তাৎক্ষণিক অ্যাকশনে নামেন প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নূর। হাতেনাতে অনিয়মের প্রমাণ জব্দ করে অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।
ঘটনার সূত্রপাত,
দেশের লক্ষ লক্ষ রেমিটেন্স যোদ্ধার একজনের স্ত্রী সরকারি সেবা গ্রহণের উদ্দেশ্যে প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যান। সেখানে এক শ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা ও দালালচক্র তাঁকে টার্গেট করে ঘুষের দাবি তোলে। নির্ধারিত সরকারি সেবা পেতে হলে ‘বাড়তি টাকা’ দিতে হবে বলে চাপ দেওয়া হয় ওই নারীকে।
বিপদে পড়ে এবং ন্যায়বিচারের আশায় তিনি সরাসরি প্রতিমন্ত্রীর কাছে অভিযোগ জানান। অভিযোগ পাওয়ার পর মুহূর্তের দেরি না করে সক্রিয় হন নুরুল হক নূর।
তাৎক্ষণিক অভিযান ও হাতেনাতে প্রমাণ,
প্রতিমন্ত্রীর নির্দেশে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অতর্কিত অভিযান পরিচালনা করা হয়। অভিযানে ঘটনাস্থল থেকে ঘুষ গ্রহণের সরাসরি প্রমাণ উদ্ধার করা সম্ভব হয়। নিউজ২৪-এর ক্যামেরায় ধারণ করা হয় সেই শ্বাসরুদ্ধকর অভিযানের দৃশ্য।
প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নূর ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে সরাসরি জিজ্ঞাসাবাদ করেন এবং অভিযুক্ত কর্মকর্তা ও দালালদের বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিকভাবে বিভাগীয় ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন।
প্রতিমন্ত্রীর বক্তব্য,
অভিযান শেষে প্রতিমন্ত্রী নুরুল হক নূর সাংবাদিকদের বলেন,”প্রবাসীরা এই দেশের অর্থনীতির মেরুদণ্ড। তাদের পরিবারকে দেশে বসে হয়রানি করার কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না। দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতিতে আমরা অটল। যারা এই ঘুষ বাণিজ্যে জড়িত, তাদের কেউই ছাড় পাবে না।”
তিনি আরও জানান, এই ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে মন্ত্রণালয়ের অধীন সকল দপ্তরে নিয়মিত তদারকি জোরদার করা হবে এবং অভিযোগ গ্রহণের বিশেষ ব্যবস্থা আরও সহজলভ্য করা হবে।
দুর্নীতিবিরোধী জিরো টলারেন্স নীতির বাস্তব প্রয়োগ,
২০২৬ সালে এসেও দেশের রেমিটেন্স যোদ্ধাদের পরিবারগুলো সরকারি দপ্তরে পদে পদে হয়রানির শিকার হচ্ছেন, এই ঘটনা তারই প্রমাণ। তবে বর্তমান সরকারের দুর্নীতিবিরোধী কঠোর অবস্থান এবং প্রতিমন্ত্রীর সরাসরি হস্তক্ষেপ এবার একটি ভিন্ন বার্তা দিল ক্ষমতার অপব্যবহার এবং সাধারণ নাগরিককে জিম্মি করে ঘুষ আদায়ের দিন শেষ হচ্ছে।
আইনি ব্যবস্থা,
ঘটনায় জড়িত অভিযুক্ত কর্মকর্তা ও দালালদের বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)-এ অভিযোগ দায়ের এবং বিভাগীয় মামলা রুজু করার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে মন্ত্রণালয় সূত্র নিশ্চিত করেছে। অভিযুক্তদের দ্রুত চাকরিচ্যুত ও বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী নারী ও তার পরিবার।
প্রবাসীদের প্রতিক্রিয়া,
এই ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে প্রবাসী বাংলাদেশিদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয়। অনেকেই প্রতিমন্ত্রীর তাৎক্ষণিক পদক্ষেপের প্রশংসা করেন এবং দাবি করেন, এই ধরনের অভিযান নিয়মিত পরিচালনা করা হলে প্রবাসী পরিবারগুলো সত্যিকার অর্থেই নিরাপদ সেবা পাবেন।