নিজস্ব সংবাদদাতা
রাঙামাটির রাজস্থলী উপজেলার শফিপুর সরকারি কবরস্থানের ৪৫ বছরের পুরাতন গাছ ৭ লক্ষ টাকায় টেন্ডারবিহীন বিক্রির সংবাদ প্রকাশ করায় সাংবাদিক ও বীর মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের বসতভিটা দখল করে নিয়েছে
সন্ত্রাসী মিজানুর রহমান প্রিন্স ও তার দলবল
ঘর দখলের পর প্রিন্স ওই ঘর শফিপুর গ্রামের আউয়াল মাস্টার ও তার মেয়ের জামাইকে বুঝায় দিয়ে ২ ঘরে ৫-৭ জন মহিলা বসায় পাহারা দিচ্ছে। দখলকৃত ঘর আউয়াল মাস্টারের বসবাসরত বাড়ি থেকে প্রায় ৪ কিলোমিটার দূরে।
*৭ লাখ টাকার গাছ লুট → সংবাদ → প্রতিশোধ:*
ভুক্তভোগী সাংবাদিক মোঃ রিয়াজ উদ্দীন রানা জানান, শফিপুর সরকারি কবরস্থানের ৪৫ বছরের পুরাতন বড় বড় গাছ প্রিন্স ও তার “পকেট কমিটি” টেন্ডার ছাড়াই ৭ লক্ষ টাকায় বিক্রি করে দেয়। এই সরকারি সম্পদ লুটের সংবাদ তিনি “রূপান্তর বাংলা”য় প্রকাশ করেন। সংবাদ প্রকাশের পর প্রশাসন নড়েচড়ে বসে তদন্তের আশ্বাস দেয়।
কিন্তু সংবাদের “প্রতিশোধ” নিতে প্রিন্স গত বুধবার ৩/০৬/২০২৬ দিবাগত রাত আনুমানিক ২ থেকে ৩ টায় ৩০-৪০ জন সন্ত্রাসী নিয়ে সাংবাদিকের বসতভিটা দখল করে। দখলের পর প্রিন্স নিজে ঘরে না থেকে স্থানীয় আউয়াল মাস্টার ও তার মেয়ের জামাইকে ঘর বুঝায় দেয়।
*মহিলা দিয়ে পাহারা – নতুন কৌশল:*
ভুক্তভোগীর মা বীর মুক্তিযোদ্ধার স্ত্রী মোছাঃ রেজিয়া বেগম NID: 8417823238905 অভিযোগ করেন, “প্রিন্স আমার মূল বসতঘর, লাগোয়া রান্নাঘর এবং রাস্তার অপর পার্শ্বে বসবাসের উদ্দেশ্যে নির্মিত নতুন ছোট ঘর – মোট 2টি স্থাপনা আউয়াল মাস্টার ও তার মেয়ের জামাইকে বুঝায় দিছে। এখন ওরা দুই ঘরের ভিতর ৫-৭ জন করে মহিলা রাখছে পাহার জন্য। যাতে আমরা ঘরে ঢুকতে না পারি।”
*মুক্তিযোদ্ধার পরিবার গৃহীন:*
ভুক্তভোগী আরও জানান, তারা বীর মুক্তিযোদ্ধা নেয়ামত আলীর পরিবার। হামলাকারীরা 5 বছরের শিশুসহ নারীদের মারধর করে ঘর থেকে বের করে দেয়। মূল বসতঘর হইতে বিদ্যুতের প্রিপেইড মিটার, টিভি, ফ্যান, মুক্তিযোদ্ধা সনদপত্র এবং নতুন ঘর হইতে নির্মাণ সামগ্রী লুট করে নেয়।
*পুলিশের আদেশ অমান্য:*
“এর আগেও 999 কল করলে পুলিশ এসে কাজ বন্ধ করতে বলেছিল। কিন্তু পুলিশ চলে যাওয়ার পর তারা পুনরায় কাজ শুরু করে। গত 27/10/20 তারিখে চন্দ্রঘোনা থানার জিডি নং 896/22 এর মুচলেকা ভেঙে তারা এই ডাকাতি করেছে” – বলেন ভুক্তভোগী।
*OC: মামলা রেকর্ড হবে*
চন্দ্রঘোনা থানার ওসি সাকের আহমেদ বলেন, “ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ পেয়েছি। মামলা রেকর্ড করা হবে। তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা নেয়া হবে।”
*প্রশ্ন জনতার:*
সরকারি কবরস্থানের 7 লাখ টাকার গাছ লুটের সংবাদ লিখায় যদি রাজস্থলী উপজেলায় সাংবাদিক ও মুক্তিযোদ্ধার বসতভিটা দখল হয়, আর দখলকৃত ঘরে মহিলা দিয়ে পাহারা বসায়, তাহলে আইন আছে নাকি প্রিন্সের আইন চলে?
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রুপান্তর বাংলা পত্রিকার সম্পাদক প্রকাশক জনাব রিয়াজ উদ্দিন রানা বলেন, বিএনপি সরকার গঠন করার মাত্র দুই মাসের ভিতর রাজস্হলী উপজেলার কতিপয় বিএনপির সন্ত্রাসী লোকজন নিউজ প্রকাশের কারণে আমারও আমার পরিবারের উপর অত্যাচার শুরু করে দিল। আমি সঠিক নিউজ তুলে ধরেছি বিধায় আজ আমার কপালে দুঃখ আমি প্রশাসন সহ সকল সাংবাদিক সম্পাদক দের সহযোগিতা কামনা করছি।