মো. আব্দুল গফুর সিকদার:
ভোলা-৪ (চরফ্যাশন-মনপুরা) আসনের সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলাম নয়নের উদ্যোগে গত ছয় মাসে চরফ্যাশন ও মনপুরা উপজেলায় বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কার্যক্রম ও পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ, যোগাযোগ, অবকাঠামো, কৃষি, ক্রীড়া ও নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন খাতে এসব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
দুর্গম ও বিচ্ছিন্ন জনপদ হিসেবে পরিচিত মনপুরার মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন এবং দীর্ঘদিনের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে এসব উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখছেন স্থানীয়রা। বিশেষ করে স্বাস্থ্যসেবা, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগব্যবস্থার উন্নয়ন হলে দ্বীপ উপজেলা মনপুরার মানুষের দুর্ভোগ অনেকটাই কমবে বলে মনে করছেন তারা।
স্বাস্থ্যসেবায় বড় পরিবর্তনের উদ্যোগ
স্বাস্থ্য খাতে মনপুরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ৫০ শয্যা থেকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে হাসপাতালের সেবার পরিধি বাড়াতে একটি অ্যাম্বুলেন্সের অনুমোদনের প্রক্রিয়াও চলছে। বর্তমানে জরুরি চিকিৎসাসেবা ও রোগী পরিবহনে নানা সীমাবদ্ধতার কারণে স্থানীয়দের ভোগান্তিতে পড়তে হয়। হাসপাতালটি ১০০ শয্যায় উন্নীত হলে এবং অ্যাম্বুলেন্স সুবিধা চালু হলে দুর্গম এ উপজেলার মানুষের চিকিৎসাসেবা আরও সহজলভ্য হবে বলে আশা করছেন স্থানীয়রা।
বিদ্যুৎ খাতে নতুন সম্ভাবনা
বিদ্যুৎ খাতেও নেওয়া হয়েছে গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। চরফ্যাশনের নতুন গ্রিড থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু করা হয়েছে। এর ফলে চরফ্যাশন উপজেলার বিদ্যুৎ ব্যবস্থাপনায় সক্ষমতা বাড়ার পাশাপাশি নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে মনপুরাকে জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ সরবরাহের আওতায় আনতে টেন্ডার আহ্বান করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে মনপুরার মানুষ নিজস্ব বিদ্যুৎ ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে আসছেন। জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ সরবরাহ চালু হলে বিদ্যুৎ ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা, কৃষি ও দৈনন্দিন নাগরিক সেবায়ও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।
যোগাযোগব্যবস্থায় গুরুত্ব
মনপুরার মানুষের অন্যতম প্রধান সমস্যা যোগাযোগব্যবস্থা। এ সমস্যা নিরসনে বিভিন্ন নৌঘাটে পন্টুন স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে চারটি পন্টুন অনুমোদনের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পন্টুন স্থাপন করা হলে নৌযানে যাত্রী ওঠানামা ও পণ্য পরিবহনে নিরাপত্তা ও সুবিধা বাড়বে।
এ ছাড়া উপজেলার বিভিন্ন সড়ক নির্মাণ ও সংস্কার, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং খাল খননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সড়ক যোগাযোগের উন্নয়ন হলে ইউনিয়ন ও গ্রাম পর্যায়ের মানুষের উপজেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগ আরও সহজ হবে বলে প্রত্যাশা স্থানীয়দের।
ক্রীড়া ও বিনোদনে নতুন পরিকল্পনা
ক্রীড়া ও বিনোদনের ক্ষেত্রেও রয়েছে একাধিক উন্নয়ন পরিকল্পনা। মনপুরায় একটি মিনি স্টেডিয়াম ও শিশু পার্ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। শিশু-কিশোরদের খেলাধুলার সুযোগ বৃদ্ধি এবং তরুণ প্রজন্মকে ক্রীড়ামুখী করতে এসব উদ্যোগ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা।
এর পাশাপাশি মনপুরা ঈদগাহ নির্মাণ এবং কলাতলী-কাজিরচর সেতু নির্মাণের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এসব প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় যোগাযোগ ও সামাজিক অবকাঠামোতে নতুন গতি আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জলাবদ্ধতা নিরসন ও কৃষিতে উদ্যোগ
জলাবদ্ধতা নিরসন এবং কৃষি ব্যবস্থাপনার উন্নয়নেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। উপজেলার দুটি খাল খননের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। খালগুলো পুনঃখনন করা হলে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা উন্নত হওয়ার পাশাপাশি কৃষিজমিতে জলাবদ্ধতা কমবে বলে আশা করছেন কৃষকরা।
একই সঙ্গে সামাজিক নিরাপত্তা ও কৃষি সহায়তা কর্মসূচির আওতায় মনপুরায় ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষি কার্ড তৈরির প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এসব কর্মসূচির মাধ্যমে সুবিধাবঞ্চিত পরিবার ও কৃষকদের সরকারি সহায়তার আওতায় আনার সুযোগ তৈরি হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
পৌরসভায় উন্নীত করার উদ্যোগ
মনপুরা সদরকে পৌরসভায় উন্নীত করার উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। এটি বাস্তবায়িত হলে স্থানীয় পর্যায়ে নাগরিক সেবার পরিধি বাড়ার পাশাপাশি পরিকল্পিত নগর ব্যবস্থাপনা ও অবকাঠামো উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হবে। পাশাপাশি নাগরিক সুবিধা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় অবকাঠামো উন্নয়নে আরও কয়েকটি পরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, দীর্ঘদিন ধরে মনপুরা যোগাযোগ, স্বাস্থ্য, বিদ্যুৎ ও অবকাঠামোগত নানা সমস্যায় রয়েছে। ফলে এসব উদ্যোগ দ্রুত বাস্তবায়ন করা গেলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে। তবে শুধু পরিকল্পনা গ্রহণ নয়, ঘোষিত প্রকল্পগুলো দ্রুত বাস্তবায়ন করে জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন তারা।
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের শয্যা সংখ্যা বৃদ্ধি, জাতীয় গ্রিডের বিদ্যুৎ সরবরাহ, পন্টুন স্থাপন, সড়ক ও সেতু নির্মাণ, খাল পুনঃখনন এবং মিনি স্টেডিয়াম ও শিশু পার্কসহ বিভিন্ন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে চরফ্যাশন ও মনপুরার সামগ্রিক উন্নয়ন আরও ত্বরান্বিত হবে। একই সঙ্গে কৃষি ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন হলে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীও উপকৃত হবে।
সংসদ সদস্য মো. নূরুল ইসলাম নয়ন বলেন, “আমি চরফ্যাশন ও মনপুরাকে মডেল উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করে যাব। ইনশাআল্লাহ, পর্যায়ক্রমে এসব উন্নয়ন পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে চরফ্যাশন-মনপুরার মানুষের জীবনমান আরও উন্নত হবে।”
তিনি আরও বলেন, এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের সমস্যা চিহ্নিত করে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে উন্নয়ন কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। স্বাস্থ্য, শিক্ষা, বিদ্যুৎ, যোগাযোগ ও নাগরিক সুবিধার পাশাপাশি কৃষি ও ক্রীড়া খাতেও প্রয়োজনীয় উদ্যোগ বাস্তবায়নের চেষ্টা চলছে। পর্যায়ক্রমে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে চরফ্যাশন-মনপুরার সামগ্রিক চিত্রে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।