চরাঞ্চলের ঘাস খেয়ে ৩ মহিষের মৃত্যু, বিষক্রিয়ায় অসুস্থ আরও ৩০

পটুয়াখালী প্রতিনিধি:
পটুয়াখালীর বাউফলে চরাঞ্চলের মাঠে ঘাস খাওয়ার পর তিনটি মহিষের মৃত্যু হয়েছে। একই ঘটনায় আরও ৩০টি মহিষ অসুস্থ হয়ে পড়েছে। খাদ্যে বিষক্রিয়ার কারণে এ ঘটনা ঘটেছে বলে নিশ্চিত করেছে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর। এতে দুর্গম চরাঞ্চলের দরিদ্র কৃষকেরা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছেন।

শুক্রবার (২৮ আগস্ট) বিকেলে উপজেলার নদীবেষ্টিত চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের চরাঞ্চলে এ ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে একই দিন সন্ধ্যায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর ও ভেটেরিনারি হাসপাতালের কর্মকর্তা শুভেন্দু সরকার। তিনি মহিষগুলোর খাদ্যে বিষক্রিয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, চন্দ্রদ্বীপ ইউনিয়নের চরাঞ্চলের কৃষক সুমন মাঝি, আসাদুল ফকির, বাবলু মৃধা, চান্দু খান, বশির ফকির, মিরাজ ফকির, কবির, শাহজাহান, রিপন, শাহিন, সুজন ও জাহাঙ্গীরের ৩০টিরও বেশি মহিষ প্রতিদিনের মতো মাঠে চড়তে যায়।

বিকেলে মহিষগুলো বাড়িতে ফেরার পরপরই কয়েকটি মহিষ হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়ে। তারা যন্ত্রণায় ছটফট করতে থাকে। পরে সন্ধ্যার দিকে তিনটি মহিষ মারা যায়। অসুস্থ হয়ে পড়া আরও ৩০টি মহিষের অবস্থাও আশঙ্কাজনক বলে জানিয়েছেন প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তারা।

অসুস্থ মহিষগুলোকে নিবিড়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তর।

এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে শুক্রবার বিকেলেই ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন বাউফল আসনের সংসদ সদস্য ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ। তিনি বলেন, ‘এটি খুবই নির্মম ঘটনা। এ বিষয়ে প্রশাসনের সঙ্গে কথা হয়েছে। তারা শিগগিরই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।’

ভুক্তভোগী কৃষকদের অভিযোগ, শত্রুতার জেরে চরাঞ্চলের যে মাঠে তারা মহিষ চরান, সেখানে কেউ বিষাক্ত কীটনাশক বা অন্য কোনো বিষাক্ত পদার্থ ছিটিয়ে রাখতে পারে। সেই ঘাস খাওয়ার কারণেই মহিষগুলোর মৃত্যু ও অসুস্থতার ঘটনা ঘটেছে বলে তাদের ধারণা। এ ঘটনায় জড়িতদের বিচার এবং ক্ষতিপূরণ দাবি করেছেন তারা।

কৃষক বাবলু মৃধা বলেন, ‘সকালে মহিষগুলো প্রতিদিনের মতো ঘাস খেতে গিয়েছিল। কিন্তু কেউ তাদের সঙ্গে এমন করবে, তা বুঝতে পারিনি। আমরা এ ঘটনার বিচার চাই।’

বাউফল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বিষক্রিয়ায় মহিষের মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। কৃষকদের অভিযোগের ভিত্তিতে ঘটনার প্রকৃত কারণ এবং এর সঙ্গে জড়িতদের শনাক্তে পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে। জড়িতদের বিরুদ্ধে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *