জেলা প্রতিনিধি:
ঢাকা থেকে লালমনিরহাটের বুড়িমারীর উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়া আনাস এন্টারপ্রাইজের একটি চলন্ত বাসে ছেলে সন্তান প্রসব করেছেন আবিদা বেগম (২৮) নামে এক নারী। গত শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) রাতের দিকে রংপুরের মিঠাপুকুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। বাসের মধ্যেই নিরাপদে সন্তান জন্ম দেওয়ার পর মা ও নবজাতক দুজনেই সুস্থ রয়েছেন।
ঘটনাটি জানাজানি হলে বাসের স্টাফরা যাত্রীদের মধ্যে মিষ্টি বিতরণ করেন। পরে বিষয়টি পরিবহনটির মালিক আলহাজ দিপুকে জানানো হলে তিনি নবজাতকের জন্য উপহারসামগ্রী পাঠানোর পাশাপাশি বিশেষ সুবিধা দেওয়ার ঘোষণা দেন।
পরিবহন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে জানানো হয়, নবজাতক আনাস হাসান আজীবন আনাস এন্টারপ্রাইজের বাসে বিনা ভাড়ায় যাতায়াত করতে পারবে। একই সঙ্গে শিশুটি প্রাপ্তবয়স্ক না হওয়া পর্যন্ত তার মা ও শিশুর বিনা ভাড়ায় যাতায়াতের সুযোগ থাকবে।
গত বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) দুপুরে আনাস এন্টারপ্রাইজের সুপারভাইজার মজনু মিয়া নবজাতকের বাড়িতে গিয়ে উপহারসামগ্রী পৌঁছে দেন। উপহার হিসেবে দেওয়া হয় একটি দোলনা, বেবি বেড, মশারি ও প্রসাধনীসামগ্রী।
পরিবারের সদস্যরা জানান, আবিদা বেগম তার বাবা-মায়ের সঙ্গে ঢাকার জিরানী এলাকায় বসবাস করছিলেন। গত শুক্রবার সন্ধ্যায় তারা লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার ফকিরপাড়া ইউনিয়নের রমনীগঞ্জ গ্রামের বাড়ির উদ্দেশে রওনা হন। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী, সন্তান প্রসবের সম্ভাব্য সময় আরও প্রায় ২০ দিন পর ছিল। সে অনুযায়ী তারা বাসে করে গ্রামের বাড়িতে ফিরছিলেন।
বাসটি রংপুরের মিঠাপুকুর এলাকায় পৌঁছালে হঠাৎ আবিদার প্রসববেদনা শুরু হয়। পরিস্থিতি বুঝতে পেরে বাস থামানো হয়। পরে বাসে থাকা এক ধাত্রীর সহায়তায় সেখানেই তিনি ছেলে সন্তান প্রসব করেন।
সন্তান জন্মের পর বাসের সুপারভাইজার মজনু মিয়া যাত্রীদের মধ্যে মিষ্টি বিতরণ করেন এবং বিষয়টি পরিবহন মালিককে জানান। এরপর মালিকের পক্ষ থেকে নবজাতকের জন্য উপহার ও বিনা ভাড়ায় যাতায়াতের ঘোষণা দেওয়া হয়।
নবজাতকের বাবা-মায়ের পরিবারের সদস্যরা জানান, বাসের মধ্যেই শিশুটির জন্ম হওয়ায় পরিবহনের নামের সঙ্গে মিল রেখে তার নাম রাখা হয়েছে ‘আনাস হাসান’।
ঘটনার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে নবজাতক ও তার মাকে দেখতে রমনীগঞ্জ গ্রামের বাড়িতে স্থানীয় মানুষের ভিড় জমে।
আনাস এন্টারপ্রাইজের সুপারভাইজার মজনু মিয়া বলেন, ঢাকার জিরানী থেকে বাবা-মায়ের সঙ্গে ওই অন্তঃসত্ত্বা নারী বাসে উঠেছিলেন। রাত ৩টার দিকে মিঠাপুকুর এলাকায় পৌঁছালে তার প্রসববেদনা শুরু হয়। পরে বাস থামিয়ে ধাত্রীর সহায়তায় সন্তান প্রসব করানো হয়। বিষয়টি মালিককে জানালে তিনি শিশুটির আজীবন বিনা ভাড়ায় চলাচলের ঘোষণা দেন।
প্রসূতির বাবা আবেদ আলী বলেন, চিকিৎসক জানিয়েছিলেন সন্তান প্রসব হতে আরও প্রায় ২০ দিন সময় লাগবে। তাই মেয়েকে নিয়ে গ্রামের বাড়িতে ফিরছিলেন। কিন্তু পথেই বাসের মধ্যে তার মেয়ে সন্তান প্রসব করেন। বর্তমানে মেয়ে ও নাতি দুজনেই সুস্থ আছেন। বাসে জন্ম নেওয়ায় পরিবহনের নামের সঙ্গে মিল রেখে নাতির নাম আনাস হাসান রাখা হয়েছে।
ফকিরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফজল রহমান খোকন বলেন, ইউপি সদস্যের মাধ্যমে তিনি বিষয়টি জানতে পেরেছেন। বর্তমানে প্রসূতি ও নবজাতক দুজনেই সুস্থ রয়েছেন। তাদের খোঁজখবর রাখা হচ্ছে।