মৌলভীবাজার প্রতিনিধি : বাংলাদেশের চা শিল্পে নতুন মাইলফলক সৃষ্টি করেছে ন্যাশনাল টি কোম্পানি লিমিটেড (এনটিসি)। চট্টগ্রাম চা নিলামে অতীতের রেকর্ড ছাড়িয়ে এক নিলামেই বিপুল পরিমাণ চা বিক্রি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। উচ্চমূল্যে চা বিক্রির পাশাপাশি ১২টি বাগানের প্রতিটিতেই আশানুরূপ দাম পাওয়ায় প্রতিষ্ঠানটির এ অর্জনকে চা শিল্পে গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য হিসেবে দেখা হচ্ছে।
চলতি বছরের ৩ আগস্ট অনুষ্ঠিত চট্টগ্রাম চা নিলামে এনটিসির মালিকানাধীন ১২টি চা বাগানের মোট ১ লাখ ৫১ হাজার ৫৬০ কেজি চা বিক্রি হয়। এসব চায়ের গড় বিক্রয়মূল্য দাঁড়ায় প্রতি কেজি ২৮৬ টাকা ৫৯ পয়সা। যা সরকার নির্ধারিত ফ্লোর প্রাইস ২৪৫ টাকার তুলনায় কেজিপ্রতি ৪১ টাকা ৫৯ পয়সা বেশি।
এনটিসি সূত্রে জানা গেছে, এবারের নিলামের উল্লেখযোগ্য দিক হলো প্রতিষ্ঠানটির ১২টি চা বাগানের প্রতিটির চায়ের গড় বিক্রয়মূল্য কেজিপ্রতি ২৮০ টাকার ওপরে ছিল। একটি নিলামে একই প্রতিষ্ঠানের সবকটি বাগানের চা ধারাবাহিকভাবে এত উচ্চমূল্যে বিক্রি হওয়ার ঘটনা বিরল বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
নিলামে চা বিক্রির মাধ্যমে ওই এক দিনেই এনটিসির মোট আয় দাঁড়ায় ৪ কোটি ৪৭ লাখ ৭৩ হাজার ৭২২ টাকা। বিপুল পরিমাণ চা উচ্চমূল্যে বিক্রির পাশাপাশি উৎপাদনেও অগ্রগতি হয়েছে প্রতিষ্ঠানটির। চলতি বছরের ৩১ জুলাই পর্যন্ত এনটিসির মোট চা উৎপাদন গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৫ শতাংশ বেড়েছে।
এনটিসির সচিব এ. কে. আজাদ চৌধুরী বলেন, এ সাফল্যের পেছনে মাঠপর্যায়ে চায়ের গুণগত মান নিশ্চিত করার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। চা শ্রমিকদের মাধ্যমে বাছাই করে ‘দুটি পাতা ও একটি কুঁড়ি’ সংগ্রহের ওপর বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে। পরে আধুনিক প্রক্রিয়াজাতকরণ ও নিবিড় মান নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে চায়ের গুণগত মান ধরে রাখা হচ্ছে।
তিনি বলেন, উন্নত মানের কারণে নিলামে দেশের শীর্ষস্থানীয় চা ক্রেতাদের মধ্যে এনটিসির চা নিয়ে প্রতিযোগিতা তৈরি হয়। চায়ের রং, সুবাস, ঘনত্ব ও স্বাদে মান নিশ্চিত করার পাশাপাশি উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনা, ব্যয় নিয়ন্ত্রণ এবং কঠোর মান নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠানটির এ সাফল্যে ভূমিকা রেখেছে।
এ. কে. আজাদ চৌধুরী আরও বলেন, এনটিসির এই অর্জন গুণগত উৎকর্ষ ও সংশ্লিষ্টদের কঠোর পরিশ্রমের ফল। ভবিষ্যতেও বিশ্বমানের চা উৎপাদন অব্যাহত রেখে দেশের চা শিল্পকে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও এগিয়ে নিতে প্রতিষ্ঠানটি কাজ করবে। এ সময় তিনি কোম্পানির ক্রেতা, ভোক্তা ও শুভানুধ্যায়ীদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, উৎপাদন বৃদ্ধি ও গুণগত মান ধরে রাখার পাশাপাশি চায়ের বাজার সম্প্রসারণে এ ধরনের সাফল্য বাংলাদেশের চা শিল্পের জন্য ইতিবাচক বার্তা বহন করছে। একই ধারাবাহিকতা বজায় রাখা গেলে দেশীয় চায়ের বাজারের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও বাংলাদেশের চায়ের অবস্থান আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।