চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ কর্পোরেশন প্রতিনিধি দলের সঙ্গে সিটি প্রশাসকের সৌজন্য সাক্ষাৎ

মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী:

নারায়ণগঞ্জে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও দীর্ঘমেয়াদি টেকসই নগর পরিকল্পনা নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়েছে আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন নির্মাণ প্রতিষ্ঠান চায়না রোড অ্যান্ড ব্রিজ কর্পোরেশন এর প্রতিনিধি দলের সঙ্গে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন প্রশাসনের এক সৌজন্য সাক্ষাৎ ও মতবিনিময় সভায়।

মঙ্গলবার (৩ মার্চ ২০২৬) সকাল ১১টায় নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসনিক ভবনে আয়োজিত এ সভায় নগরীর সার্বিক উন্নয়ন, অবকাঠামোগত সম্প্রসারণ, যানজট নিরসন এবং পরিবেশবান্ধব নগর গড়ে তোলার লক্ষ্যে সম্ভাব্য প্রকল্প নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশ্বব্যাপী সড়ক, সেতু, বন্দর, রেলওয়ে ও বৃহৎ অবকাঠামো নির্মাণে অভিজ্ঞ প্রতিষ্ঠানটির প্রতিনিধিরা নারায়ণগঞ্জ নগরীর বর্তমান অবস্থা, সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জসমূহ সরেজমিনে পর্যালোচনার আগ্রহ প্রকাশ করেন।

সাক্ষাৎকালে সিটি কর্পোরেশনের মাননীয় প্রশাসক এডভোকেট শাখাওয়াত হোসেন খান নগরীর বিদ্যমান সমস্যা ও সম্ভাবনার বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। তিনি বলেন, নারায়ণগঞ্জ একটি ঐতিহ্যবাহী শিল্পনগরী হিসেবে দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। কিন্তু দ্রুত নগরায়ণ, জনসংখ্যা বৃদ্ধি ও অপরিকল্পিত সম্প্রসারণের কারণে এখানে অবকাঠামোগত চাপ বাড়ছে। এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় সুপরিকল্পিত ও দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ অত্যন্ত জরুরি।

বিশেষ করে বর্জ্য ব্যবস্থাপনার আধুনিকায়ন, দীর্ঘস্থায়ী যানজট নিরসন, সমন্বিত গণপরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলা এবং নবীগঞ্জ ঘাট সংলগ্ন শীতলক্ষা নদীর নিচ দিয়ে টানেল নির্মাণের সম্ভাব্যতা নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়। প্রশাসক উল্লেখ করেন, আধুনিক প্রযুক্তিনির্ভর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চালু করা গেলে নগরীর পরিবেশ দূষণ উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব হবে। পাশাপাশি সড়ক সম্প্রসারণ ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনায় আধুনিক কৌশল প্রয়োগের মাধ্যমে দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যার স্থায়ী সমাধান সম্ভব।

শীতলক্ষা নদীর নিচ দিয়ে সম্ভাব্য টানেল নির্মাণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়িত হলে নগরীর যোগাযোগব্যবস্থায় আমূল পরিবর্তন আসবে এবং শিল্পাঞ্চলের সঙ্গে সংযোগ আরও সহজ হবে। এতে ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ কার্যক্রমও সম্প্রসারিত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

প্রতিনিধি দলের সদস্যরা জানান, সমন্বিত নগর উন্নয়ন পরিকল্পনার মাধ্যমে পরিবেশবান্ধব ও টেকসই অবকাঠামো গড়ে তুলতে হলে দীর্ঘমেয়াদি কৌশল, আর্থিক সক্ষমতা এবং দক্ষ বাস্তবায়ন কাঠামো অপরিহার্য। তারা নারায়ণগঞ্জে সম্ভাব্য বিনিয়োগ, কারিগরি সহায়তা প্রদান এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে উন্নয়ন কার্যক্রমে অংশগ্রহণে আগ্রহ প্রকাশ করেন। একই সঙ্গে তারা প্রাথমিক সমীক্ষা, সম্ভাব্যতা যাচাই ও প্রকল্প পরিকল্পনা প্রণয়নে সহযোগিতার আশ্বাস দেন।

সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ নূর কুতুবুল আলম, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী মোঃ আজগর হোসেন এবং নগর পরিকল্পনাবিদ মোঃ মঈনুল ইসলাম। তারা নিজ নিজ দপ্তরের পক্ষ থেকে চলমান উন্নয়ন প্রকল্প, প্রস্তাবিত অবকাঠামো সম্প্রসারণ পরিকল্পনা এবং ভবিষ্যৎ কর্মপরিকল্পনার বিস্তারিত উপস্থাপনা করেন। বিশেষ করে ড্রেনেজ ব্যবস্থার উন্নয়ন, সড়ক সংস্কার, নগর সবুজায়ন ও আধুনিক মার্কেট অবকাঠামো নির্মাণ সংক্রান্ত তথ্য তুলে ধরা হয়।

আলোচনার একপর্যায়ে উভয়পক্ষ নারায়ণগঞ্জের দীর্ঘমেয়াদি মাস্টারপ্ল্যান প্রণয়ন এবং তা বাস্তবায়নে আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন কারিগরি সহায়তার গুরুত্বের ওপর জোর দেন। তারা মত প্রকাশ করেন, সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্বের (পিপিপি) মাধ্যমে বৃহৎ অবকাঠামো প্রকল্প বাস্তবায়ন করলে নগর উন্নয়ন কার্যক্রম আরও গতিশীল হবে।

সভা শেষে উভয়পক্ষ নারায়ণগঞ্জের সার্বিক উন্নয়ন ও আধুনিক, বাসযোগ্য নগর গঠনে পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদারের বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, এই সৌজন্য সাক্ষাৎ নারায়ণগঞ্জ নগরীর অবকাঠামোগত উন্নয়নে আন্তর্জাতিক সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে এবং ভবিষ্যতে বৃহৎ উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নের পথ সুগম করবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *