চৌদ্দগ্রামে বিধবা সমাজসেবিকার পৈত্রিক সম্পত্তি দখলের অভিযোগ

স্টাফ রিপোর্টার:

কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলায় এক বিধবা সমাজসেবিকার পৈত্রিক সম্পত্তি জবরদখলের চেষ্টা, সীমানা প্রাচীর ভাঙচুর এবং মারধরের অভিযোগে কয়েকজনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। ভুক্তভোগীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে তার সম্পত্তি দখলের চেষ্টা করে আসছিলেন স্থানীয় নেয়ামত উল্লাহ ও তার সহযোগীরা। সর্বশেষ হামলার ঘটনার পর তিনি চৌদ্দগ্রাম থানায় মামলা করেন।

মামলার তথ্য অনুযায়ী, গত সোমবার (৬ জুলাই) ভুক্তভোগী সুফিয়া বেগম বাদী হয়ে চৌদ্দগ্রাম থানায় মামলা দায়ের করেন (মামলা নং-১০, তারিখ: ০৬/০৭/২০২৬)। মামলায় স্থানীয় নেয়ামত উল্লাহসহ কয়েকজনকে আসামি করা হয়েছে।

মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার চিওড়া ইউনিয়নের পূর্ব সাঙ্গীশ্বর গ্রামের বাসিন্দা সমাজসেবিকা সুফিয়া বেগম তার পৈত্রিক সম্পত্তির বৈধ মালিক। অভিযোগ রয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে ওই জমি দখলের উদ্দেশ্যে বিভিন্নভাবে তাকে ও তার পরিবারকে চাপ দিয়ে আসছিলেন অভিযুক্তরা। এরই ধারাবাহিকতায় গত রোববার একদল লোক নিয়ে তারা তার মালিকানাধীন জমিতে প্রবেশ করে সীমানা প্রাচীর ভেঙে ফেলে এবং জমির সীমানা চিহ্ন নষ্ট করে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, এ সময় সুফিয়া বেগম বাধা দিতে গেলে তাকে মারধর করা হয়। এতে তিনি আহত হন। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসার ব্যবস্থা করেন। ঘটনার পর থেকে তিনি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছেন বলে জানিয়েছেন। তার দুই ছেলে বর্তমানে সৌদি আরবে কর্মরত থাকায় তিনি বাড়িতে একাই বসবাস করেন, ফলে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে বলে দাবি করেছেন।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, জমি-সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে এলাকায় দীর্ঘদিন ধরেই উত্তেজনা বিরাজ করছে। অভিযোগ রয়েছে, এর আগেও একই পক্ষের সঙ্গে সুফিয়া বেগম ও তার পরিবারের বিরোধ হয়েছিল। ভুক্তভোগীর দাবি, ২০২১ সালেও তার স্বামী মরহুম আব্দুল ওহাবের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনায় আদালতে মামলা হলে অভিযুক্তরা ভবিষ্যতে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়িত না থাকার মুচলেকা দিয়ে জামিন লাভ করেন। তবে এরপরও তারা পূর্বের মতোই প্রভাব খাটিয়ে বিভিন্ন ধরনের হয়রানি চালিয়ে যাচ্ছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।

এলাকার কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে অতীতেও জমি দখলের একাধিক অভিযোগ উঠেছে। তাদের দাবি, সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের কয়েকটি পরিবারের জমি নিয়েও অতীতে বিরোধ সৃষ্টি হয়েছিল। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চিওড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান ঘটনার বিষয়ে অবগত থাকার কথা জানিয়ে বলেন, একজন অসহায় বিধবা নারীর সঙ্গে এমন আচরণ কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান।

চৌদ্দগ্রাম থানা পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভুক্তভোগীর লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। ঘটনার তদন্ত শুরু হয়েছে এবং মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তদন্ত শেষে আইন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *