মোঃ ইসলাম উদ্দিন তালুকদার:
সুনামগঞ্জের ছাতক-গোবিন্দগঞ্জ সড়ক সম্প্রসারণ, আধুনিকায়ন ও দুই লেন সড়ক নির্মাণকাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন ও ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হয়েছে। প্রায় ১৭৪ কোটি টাকা ব্যয়ে বাস্তবায়নাধীন এ প্রকল্পকে ছাতকবাসীর দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণের পথে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে উল্লেখ করেছেন ছাতক-দোয়ারাবাজার আসনের সংসদ সদস্য ও ডাক, টেলিযোগাযোগ এবং তথ্যপ্রযুক্তি সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন।
শনিবার বিকেলে গোবিন্দগঞ্জ পয়েন্ট সংলগ্ন এলাকায় গোবিন্দগঞ্জ থেকে ছাতক সুরমা ব্রিজ চত্বর পর্যন্ত সড়ক সম্প্রসারণ, আধুনিকায়ন ও দুই লেন সড়ক নির্মাণ কাজের আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সংসদ সদস্য কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন। এ উপলক্ষে আয়োজিত উদ্বোধনী সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি বলেন, ছাতক শুধু একটি জনপদের নাম নয়, এটি দেশের শিল্প, ব্যবসা-বাণিজ্য ও অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ একটি অঞ্চল। এখানকার পাথর, সিমেন্টসহ বিভিন্ন শিল্পপণ্য দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে যায়। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে উন্নত সড়ক যোগাযোগের অভাবে ব্যবসা-বাণিজ্য ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষকে যাতায়াতে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়েছে।
কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন বলেন, ছাতক-গোবিন্দগঞ্জ সড়কটির নির্মাণকাজ শেষ হলে ছাতকের সঙ্গে সিলেট, সুনামগঞ্জ, ঢাকা এবং দেশের অন্যান্য অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থা আরও দ্রুত, নিরাপদ ও সুগম হবে। ফলে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন গতি আসবে, শিল্পকারখানার পণ্য পরিবহন সহজ হবে এবং এ অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড আরও সম্প্রসারিত হবে।
তিনি বলেন, একটি উন্নত সড়ক শুধু যাতায়াতের মাধ্যম নয়; এর সঙ্গে একটি অঞ্চলের অর্থনীতি, মানুষের জীবনযাত্রা, কর্মসংস্থান ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা জড়িত। ছাতকের যে শিল্প ও অর্থনৈতিক সম্ভাবনা রয়েছে, উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে সেই সম্ভাবনাকে আরও ভালোভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হবে।
এমপি মিলন বলেন, এর আগে প্রায় ১০০ কোটি টাকা ব্যয়ে ছাতক পৌরসভার মধ্যে এই সড়কেরই একটি অংশে চার লেন সড়ক নির্মাণকাজের উদ্বোধন করা হয়েছে। পর্যায়ক্রমে পুরো সড়কটির উন্নয়নকাজ এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। আশা করছি, সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতায় দ্রুত সময়ের মধ্যে পুরো সড়কের কাজ সম্পন্ন করা সম্ভব হবে।
ছাতক-গোবিন্দগঞ্জ সড়কটি সংস্কার ও আধুনিকায়ন ছিল এ এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের প্রাণের দাবি উল্লেখ করে তিনি বলেন, আজ শত বাধা-বিপত্তি পেরিয়ে আপনাদের দোয়া ও সমর্থনে আমরা এই মেগা প্রকল্পের কাজ আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করতে পেরেছি। এটি কোনো একক ব্যক্তির সাফল্য নয়, এটি ছাতকের সর্বস্তরের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি, প্রত্যাশা ও অধিকার পূরণের প্রতিফলন।
নিজের রাজনৈতিক জীবনের বিভিন্ন কঠিন সময়ের কথা উল্লেখ করে আবেগঘন বক্তব্যে কলিম উদ্দিন আহমেদ মিলন বলেন, রাজনীতির পথ কখনোই সহজ নয়। মানুষের জন্য কাজ করতে গিয়ে অনেক প্রতিকূলতা, বাধা-বিপত্তি ও কঠিন সময় পার করতে হয়েছে। কিন্তু ছাতক-দোয়ারাবাজারের মানুষের ভালোবাসা, দোয়া ও সমর্থন সবসময় আমাকে সাহস জুগিয়েছে। মানুষের পাশে থাকার যে অঙ্গীকার নিয়ে রাজনীতিতে এসেছি, সেই অঙ্গীকার থেকে কখনো পিছিয়ে যেতে চাই না।
তিনি বলেন, মানুষের ভালোবাসা একজন জনপ্রতিনিধির সবচেয়ে বড় শক্তি। এলাকার মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করতে পারাটাই আমার কাছে সবচেয়ে বড় পাওয়া। আজকের এই উন্নয়নকাজের মাধ্যমে যদি ছাতকের মানুষের দীর্ঘদিনের কষ্ট কিছুটা লাঘব হয়, যদি ব্যবসায়ীদের পণ্য পরিবহন সহজ হয়, যদি সাধারণ মানুষ স্বস্তিতে চলাচল করতে পারেন—তাহলেই আমাদের পরিশ্রম সার্থক হবে।
তিনি আরও বলেন, আমি মনে করি, উন্নয়ন কোনো ব্যক্তির একার বিষয় নয়। উন্নয়ন হচ্ছে জনগণের অধিকার। জনপ্রতিনিধি, প্রশাসন, প্রকৌশলী, ঠিকাদার এবং সর্বস্তরের জনগণ সম্মিলিতভাবে কাজ করলে একটি প্রকল্প সফলভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব। তাই ছাতকের মানুষের স্বার্থে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।
১৭৪ কোটি টাকার এই প্রকল্পের কাজের গুণগত মান নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করে এমপি মিলন সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এবং সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) কর্মকর্তাদের উদ্দেশে বলেন, জনগণের অর্থে বাস্তবায়িত এই প্রকল্পের কাজে বিন্দুমাত্র অনিয়ম বা দুর্নীতি বরদাশত করা হবে না। প্রতিটি কাজের গুণগত মান যথাযথ রাখতে হবে এবং নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সড়ক নির্মাণকাজ সম্পন্ন করতে হবে।
তিনি বলেন, এই টাকা জনগণের টাকা। তাই প্রকল্পের প্রতিটি টাকা যথাযথভাবে কাজে লাগাতে হবে। নির্মাণকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার কিংবা কোনো ধরনের অনিয়মের সুযোগ দেওয়া যাবে না। কাজের প্রতিটি ধাপে যথাযথ তদারকি নিশ্চিত করতে হবে। স্থানীয় জনগণ ও রাজনৈতিক সহযোদ্ধারাও কাজের অগ্রগতি এবং গুণগত মানের বিষয়ে নজর রাখবেন।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য কয়েস আহমেদ বলেন, ছাতক-গোবিন্দগঞ্জ সড়কটি এ অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশার সঙ্গে জড়িত। এই সড়কের ওপর ছাতকের ব্যবসা-বাণিজ্য, শিল্পকারখানা, শিক্ষা, চিকিৎসা ও সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন যাতায়াত অনেকাংশে নির্ভরশীল। দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির উন্নয়নের দাবি থাকলেও নানা কারণে তা বাস্তবায়নে সময় লেগেছে।
কয়েস আহমেদ বলেন, দুই লেন সড়ক নির্মাণ ও আধুনিকায়নের কাজ সম্পন্ন হলে ছাতকের সঙ্গে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের যোগাযোগ আরও সহজ হবে। শিল্পপণ্য পরিবহন দ্রুততর হবে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হবে। তিনি প্রকল্পের কাজ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যথাযথ মান বজায় রেখে সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, ছাতকের মানুষের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা একটি উন্নত ও টেকসই যোগাযোগব্যবস্থা। এই প্রকল্প বাস্তবায়নের মধ্য দিয়ে সেই প্রত্যাশা পূরণের নতুন সুযোগ তৈরি হয়েছে। আমরা চাই, কোনো ধরনের অনিয়ম ছাড়াই স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মাধ্যমে প্রকল্পের কাজ সম্পন্ন হোক এবং সাধারণ মানুষ দ্রুত এর সুফল ভোগ করতে পারেন।
শনিবার বিকেলে গোবিন্দগঞ্জ পয়েন্ট সংলগ্ন এলাকায় আয়োজিত উদ্বোধনী সভায় সওজ সুনামগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জহিরুল ইসলাম, উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী (ছাতক) মো. সাহাদাৎ হোসেন, কেন্দ্রীয় যুবদলের সাবেক সহ-সম্পাদক আশিকুর রহমান আশিক, সুনামগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক কমিটির সদস্য ফারুক আহমদ, নজরুল ইসলাম, উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ফরিদ উদ্দিন, ছাতক পৌর বিএনপির আহ্বায়ক শামসুর রহমান শামছু, উপজেলা বিএনপির প্রথম যুগ্ম আহ্বায়ক ফজলুল করিম বকুল, যুগ্ম আহ্বায়ক শফিকুল আলম মতি, জেলা বিএনপির সাবেক শিল্পবিষয়ক সম্পাদক রুহুল আমিন, আহ্বায়ক কমিটির সদস্য কয়েস আহমেদ, আতাউর রহমান এমরান, দিদার আলম, অ্যাডভোকেট আব্দুল কাহার, অ্যাডভোকেট আব্দুল আহাদ, মতিউর রহমান, ফয়জুর রহমান, উপজেলা জাসাসের আহ্বায়ক আব্দুল আলিম, ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুর রুফ মাস্টার, আব্দুল হক, শামীম আলম নোমান, আজিজুর রহমান, আলা উদ্দিন, জাহেদুল ইসলাম আহবাব, জেলা যুবদলের সহ-সভাপতি আব্দুর রহিম মেম্বার, যুগ্ম সম্পাদক জহির উদ্দিন, ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক মো. নুরুল হক, কামাল উদ্দিন, ইলিয়াস আহমদ, কবির আহমদ মধু, মো. শাহজাহান, সোনা মিয়া, ছাতক পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক আবুল হোসেন, বিএনপি নেতা আব্দুল হাই, সুন্দর আলী, নিজাম উদ্দিন, আনজব আলী, জিল্লুল হক, কুতুব উদ্দিন, তাজুল ইসলাম তালুকদার, সেলিম আহমেদ, সমুজ আলী, শরীফ হোসেন, নজির আহমেদ, আমিন উদ্দিন, বাহা উদ্দিন শাহী, এনাম আহমদ, আলী হোসেন মানিক, মো. চেরাগ আলী, লুতফুর রহমান, কৃষকদল নেতা সাজ্জাদুর রহমান, ইব্রাহিম আলী রাসেল, শাহিনুর রহমান বাবুল, ফজর আলী, সাহেদ আলী, খান মোহাম্মদ আনোয়ার, রাকিব আলী, জাহির খান, হেলাল আহমদ, আব্দুল আজিজ, সাজ্জাদ আহমদ, উপজেলা যুবদলের জাহাঙ্গীর আলম, আব্দুল মমিন, মুহিবুর রহমান মুহিব, জুয়েল মেম্বার, জেলা ছাত্রদলের সহ-সভাপতি মাহবুব আহমদ, জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক এমদাদুর রহমান ইমন, কলেজ ছাত্রদলের সভাপতি মীয়া মোহাম্মদ সাদ, ছাত্রদল নেতা আব্দুল আজিজ ফয়ছল, সাহেদ ইয়াসিন ও লাভলু মিয়া তালুকদারসহ বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল এবং অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
সভায় দোয়া পাঠ করেন রাধানগর দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা সামছুল কবির মিছবাহ।
সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন, ছাতক-গোবিন্দগঞ্জ সড়কের সম্প্রসারণ, আধুনিকায়ন ও দুই লেন নির্মাণকাজ সম্পন্ন হলে এ অঞ্চলের যোগাযোগব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন আসবে। পাশাপাশি শিল্প ও ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার, পণ্য পরিবহনে গতি এবং সাধারণ মানুষের যাতায়াতের দুর্ভোগ কমানোর ক্ষেত্রে প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।