স্টাফ রিপোর্টার:
রাজধানীর যাত্রাবাড়ীতে একটি ছোট দোকানকে কেন্দ্র করে ‘বেনাস’ নামের ডিটারজেন্ট পাউডার উৎপাদন ও বাজারজাতকরণের কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানটির নামে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) থেকে স্ট্যান্ডার্ড মার্ক ব্যবহারের লাইসেন্স থাকলেও, বাস্তবে সেখানে নির্ধারিত মান অনুযায়ী ডিটারজেন্ট পাউডার উৎপাদন হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
প্রাপ্ত লাইসেন্সের নথি অনুযায়ী, হেল্প গেইট কনজ্যুমার, ৩০ খানবাড়ী, যাত্রাবাড়ী, ঢাকা-এর শারমিন আক্তারের নামে ‘Synthetic Detergent Powder’ পণ্যের জন্য স্ট্যান্ডার্ড চিহ্ন ব্যবহারের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। লাইসেন্সে পণ্যের মান হিসেবে BDS 1445:2019 (2nd Revision) উল্লেখ রয়েছে।
নথিতে লাইসেন্স নম্বর CMN-DHK-0000000000003 এবং ইস্যু তারিখ ১২ মার্চ ২০২৬ উল্লেখ করা হয়েছে। লাইসেন্সটির মেয়াদ ১২ মার্চ ২০২৬ থেকে ১১ মার্চ ২০২৯ পর্যন্ত।
অভিযোগ রয়েছে, লাইসেন্সে ডিটারজেন্ট পাউডার উৎপাদনের অনুমোদন থাকলেও সংশ্লিষ্ট ঠিকানায় বড় ধরনের উৎপাদন অবকাঠামো বা প্রয়োজনীয় কারখানা স্থাপনার পরিবর্তে একটি ছোট দোকানকেন্দ্রিক কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। সেখানে কীভাবে বিপুল পরিমাণ ডিটারজেন্ট পাউডার উৎপাদন, প্যাকেটজাত ও বাজারজাত করা হচ্ছে—এ নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
অভিযোগকারীদের দাবি, পণ্যের মান নিয়ন্ত্রণ, কাঁচামালের ব্যবহার, উৎপাদন প্রক্রিয়া, সংরক্ষণ ও প্যাকেটজাতকরণে নির্ধারিত নিয়ম যথাযথভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে কি না, তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সরেজমিনে পরিদর্শনের মাধ্যমে যাচাই করা প্রয়োজন।
লাইসেন্সের শর্ত অনুযায়ী, পণ্যের মোড়কে বিএসটিআই কর্তৃক প্রদত্ত মেশিন রিডেবল কোড ব্যবহার করার কথা রয়েছে। একই সঙ্গে লাইসেন্সধারীকে লাইসেন্সের সব শর্ত প্রতিপালন করতে হবে। ফলে বাস্তবে উৎপাদন কার্যক্রম লাইসেন্সের শর্ত ও নির্ধারিত বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ড অনুযায়ী পরিচালিত হচ্ছে কি না, সেটিও তদন্তের দাবি রাখে।
এদিকে, লাইসেন্সে বার্ষিক লাইসেন্স ফি এবং উৎপাদনের ভিত্তিতে অতিরিক্ত ফি প্রদানের বিধানের কথাও উল্লেখ রয়েছে। কিন্তু সংশ্লিষ্ট স্থানে প্রকৃত উৎপাদন সক্ষমতা কতটুকু, কত পরিমাণ পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করা হচ্ছে এবং সেই অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ফি ও অন্যান্য শর্ত যথাযথভাবে পালন করা হচ্ছে কি না—এসব বিষয়ও খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ছোট একটি দোকানকে কেন্দ্র করে যদি শিল্পকারখানার মতো পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করা হয়ে থাকে, তাহলে সেখানে স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ উৎপাদন পরিবেশ রয়েছে কি না, তা নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত নজর দেওয়া প্রয়োজন।
ভোক্তাদের স্বার্থে বিষয়টি সরেজমিনে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিএসটিআইসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।