মোহাম্মদ হোসেন হ্যাপী:
একটি রাষ্ট্রে নাগরিকের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কোনো পদ নেই’—এই প্রতিপদ্যকে সামনে রেখে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষ্যে নারায়ণগঞ্জ-৫ (সদর-বন্দর) আসনের প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের নিয়ে এক ব্যতিক্রমী ‘জনতার মুখোমুখি’ অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়েছে। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) সকাল ৯:৩০ মিনিটে নারায়ণগঞ্জ জেলা শিল্পকলা একাডেমির অডিটোরিয়ামে সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) নারায়ণগঞ্জ জেলা কমিটির উদ্যোগে এই সভার আয়োজন করা হয়।
এক মঞ্চে সব প্রার্থী, উন্নয়নের অভিন্ন সুর
অনুষ্ঠানে নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বীতাকারী সব প্রার্থী একই মঞ্চে উপস্থিত হয়ে এক অনন্য রাজনৈতিক সম্প্রীতির উদাহরণ সৃষ্টি করেন। প্রার্থীরা তাদের নির্বাচনী ইশতেহারের মূল দিকগুলো জনগণের সামনে তুলে ধরেন। বিশেষ করে:
-
অবকাঠামো: রাস্তাঘাটের আধুনিকায়ন ও টেকসই উন্নয়ন।
-
সেবা খাত: নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতায়ন নিশ্চিত করা।
-
সামাজিক উন্নয়ন: মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থা ও নারী ক্ষমতায়ন।
-
নিরাপত্তা: মাদক নিয়ন্ত্রণ, চাঁদাবাজি ও সন্ত্রাসমুক্ত এলাকা গঠন।
প্রার্থীরা এলাকার উন্নয়নে নিজ নিজ পরিকল্পনার কথা জানানোর পাশাপাশি জনগণের বিভিন্ন তীক্ষ্ণ প্রশ্নের সরাসরি উত্তর দেন। তারা অঙ্গীকার করেন যে, নির্বাচিত হলে বা না হলে—উভয় অবস্থাতেই তারা জনকল্যাণে কাজ করে যাবেন।
সুজনের শপথ ও প্রার্থীদের স্বাক্ষর
অনুষ্ঠানে সুশাসনের পক্ষে কাজ করার প্রত্যয়ে সুজন-এর বিশেষ শপথ বাক্যে প্রার্থীরা একমত পোষণ করেন এবং সেখানে স্বাক্ষর করেন। পরবর্তীতে ভোটারদের জন্য বিশেষ শপথ পাঠ করান নারায়ণগঞ্জ কলেজের অধ্যক্ষ ডক্টর রুমন রেজা।
ভোটারদের সেই দৃঢ় শপথ ছিল:
“আমি এই মর্মে শপথ করছি যে, ভোট প্রদানকে গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক দায়িত্ব মনে করে সৎ, যোগ্য ও জনকল্যাণে নিবেদিত প্রার্থীর সপক্ষে ভোটাধিকার প্রয়োগ করব। অর্থ বা অন্য কিছুর বিনিময়ে অথবা অন্ধ আবেগের বশবর্তী হয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ করব না। কোনো দুর্নীতিবাজ, সন্ত্রাসী, মাদক ব্যবসায়ী বা গণবিরোধী ব্যক্তিকে ভোট দেব না।”
উপস্থিত শত শত ভোটার হাত তুলে এই শপথের প্রতি তাদের পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেন।
বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গের উপস্থিতি
সুজন জেলা কমিটির সভাপতি ধীমান সাহা জুয়েলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন:
-
আঞ্চলিক সমন্বয়কারী: জিল্লুর রহমান
-
সাধারণ সম্পাদক: মো. আশরাফুল হক আশু
-
সাংগঠনিক ব্যক্তিত্ব: এস এম জহিরুল ইসলাম বিদ্যুৎ
এছাড়া নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের বিভিন্ন পর্যায়ের সুশীল সমাজ, সাংবাদিক, আইনজীবী, লেখক, শিক্ষক, শিক্ষার্থী এবং সাধারণ নাগরিক সমাজ এই প্রশ্নোত্তর ও মুখামুখি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে অনুষ্ঠানটিকে প্রাণবন্ত করে তোলেন।
উপস্থিত সুধীজন মনে করছেন, নির্বাচনের আগে প্রার্থীদের এভাবে জনগণের মুখোমুখি করা গণতান্ত্রিক চর্চাকে আরও শক্তিশালী করবে এবং ভোটারদের সঠিক প্রার্থী নির্বাচনে সহায়তা করবে।