বিনোদন ডেস্ক:
২০১৫ সালের ৮ এপ্রিল। নিজের জন্মদিনে কাতারে ছিলেন অভিনেত্রী মাসুমা রহমান নাবিলা। পরিবার ও বন্ধুদের ছেড়ে দূরে থাকায় সেদিনটা ভালো কাটছিল না তাঁর। ঠিক সেই সময় মোবাইলে পাওয়া একটি খুদে বার্তা বদলে দেয় পুরো দিনের অনুভূতি। একই সঙ্গে সেই বার্তাই পরে বদলে দেয় তাঁর ক্যারিয়ার।
বার্তাটি পাঠিয়েছিলেন পরিচালক অমিতাভ রেজা চৌধুরী। সেখানে লেখা ছিল, ‘জন্মদিনে তোমাকে বেশি কিছু দিতে পারছি না। তবে তোমাকে হৃদি চরিত্রটি দিচ্ছি। তুমি কি এটা গ্রহণ করবে?’
এভাবেই ‘আয়নাবাজি’ সিনেমার হৃদি চরিত্রে অভিনয়ের প্রস্তাব পান নাবিলা। জন্মদিনে পাওয়া সেই প্রস্তাবকে জীবনের অন্যতম বিশেষ মুহূর্ত হিসেবে মনে করেন তিনি।
স্মৃতিচারণ করে নাবিলা বলেন, সেবারের জন্মদিনটা তাঁর সবচেয়ে খারাপ যাচ্ছিল। দেশে পরিবারের সবাইকে মিস করছিলেন। পরিবার ও বন্ধুদের কাউকে কাছে না পেয়ে ভীষণ আপসেট ছিলেন। ঠিক সেই সময় অমিতাভ রেজার পাঠানো বার্তাটি তাঁর পুরো দিনটাই বদলে দেয়।
নাবিলা বলেন, ‘পরে তো হৃদি তার ক্যারিয়ারই বদলে দেয়।’
সিনেমায় অভিনয়ের প্রস্তাব পাওয়ার আগে চলচ্চিত্রে নাম লেখানো নিয়ে কিছুটা দোটানায় ছিলেন নাবিলা। তবে ‘আয়নাবাজি’র নায়িকা হওয়ার প্রস্তাব পাওয়ার পর আর না বলতে পারেননি। সঙ্গে সঙ্গেই রাজি হয়ে যান তিনি।
সেই সময়ের অনুভূতি স্মরণ করে নাবিলা বলেন, তিনি ভীষণ উত্তেজিত ছিলেন। তবে উত্তেজনার চেয়ে নার্ভাসনেসই বেশি কাজ করছিল। পরিচালক অমিতাভ রেজা চৌধুরীকে ধন্যবাদ জানিয়ে আরও সিনেমা নির্মাণের শুভকামনাও জানান তিনি।
এরপর শুরু হয় ‘আয়নাবাজি’র শুটিং। এটি ছিল অমিতাভ রেজা চৌধুরীর প্রথম সিনেমা। ২০১৬ সালে মুক্তি পায় সিনেমাটি। চঞ্চল চৌধুরীর সঙ্গে নাবিলার অভিনয় দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলে।
সিনেমাটি মুক্তির ১০ বছর পূর্তি উপলক্ষে গতকাল রাতে প্রথমবারের মতো ফেসবুক লাইভে আসেন নাবিলা। সেখানে ‘আয়নাবাজি’ তাঁকে দর্শকদের কাছ থেকে পাওয়া ভালোবাসা ও ক্যারিয়ারে এর প্রভাবের কথা তুলে ধরেন।
নাবিলা বলেন, ‘এই সিনেমার মাধ্যমে আপনারা আমাকে যতটা ভালোবাসা দিয়েছেন, এটা আমি কখনোই ভুলব না। এই সিনেমা আমার জীবনটাই বদলে দিয়েছে। শুধু তা-ই নয়, আমার জীবনকে দেখার দর্শনও বদলেছে। নিজের প্রতি আলাদা একটা ভালোবাসা তৈরি করেছে। এটা আমার জন্য অনেক স্পেশাল।’
সিনেমাটির প্রথম শো দেখতে বসুন্ধরায় গিয়েছিলেন নাবিলা। সেখানে দর্শকদের উপচে পড়া ভিড় ও হাউসফুল পরিবেশ দেখে চমকে গিয়েছিলেন তিনি। সিনেমাটি মুক্তির আগেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সহকর্মী ও ভক্তদের কাছ থেকে ভালোবাসা পেয়েছিলেন বলে জানান নাবিলা।
মুক্তির পর দীর্ঘ সময় প্রেক্ষাগৃহে চলেছিল ‘আয়নাবাজি’। তখন দর্শকদের কাছে নাবিলা পরিচিত হয়ে ওঠেন ‘আয়নাবাজি নাবিলা’ নামে। তাঁর ভাষায়, সিনেমাটির অংশ হিসেবে এই পরিচয়টি তাঁর কাছে অনেক বেশি অর্থবহ।
নিজের ক্যারিয়ারে সিনেমাটির প্রভাবের কথা উল্লেখ করে নাবিলা বলেন, ‘এটি আমার ক্যারিয়ারও বদলে দিয়েছে। আর আমাকে আবিষ্কার করেছেন পরিচালক অমিতাভ রেজা চৌধুরী। তাঁকে অনেক অনেক ধন্যবাদ।’